Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৪৯
বাংলাদেশ নিয়ে সব সময়ই আশাবাদী আমি
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ নিয়ে সব সময়ই আশাবাদী আমি
ড. কামাল হোসেন

গণফোরাম সভাপতি ও বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, মাতৃভূমি বাংলাদেশ নিয়ে আমি সব সময়ই আশাবাদী। দেশে বিদ্যমান অস্বস্তিকর অবস্থার অবসান হবে শিগগিরই।

জানমালের নিরাপত্তাসহ মানুষের মনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরে আসবে। তবে এজন্য দলমতনির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, আমি বরাবরই সবার প্রতি এই ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে আসছি। দেশ ও মানুষের প্রয়োজনে আমিও যে কোনো দেশপ্রেমিক সংগঠন বা ব্যক্তির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, আমি বরাবরই সবার প্রতি এই ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে আসছি। দেশ ও মানুষের প্রয়োজনে আমিও যে কোনো দেশপ্রেমিক সংগঠন বা ব্যক্তির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে রাজি। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলাপকালে ড. কামাল হোসেন এ কথা বলেন। বিশেষ করে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদসহ মানুষের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা, আইনের শাসন, গণতন্ত্রসহ দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি উঠে আসে তার বক্তব্যে। দেশের বিদ্যমান জঙ্গি সমস্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশের এই বিজ্ঞ আইনজীবী বলেন, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাড়া বাংলাদেশে এমন অস্বস্তিকর অবস্থা আর কখনো আসেনি। ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষকে জবাই করার মতো নৃশংসতা আর কিছু হতে পারে না। এমন অবস্থা কিছুতেই চলতে দেওয়া যায় না। কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ এটা চাইতে পারে না। যারা অসুস্থ মস্তিষ্কের, একমাত্র তারাই এ ধরনের পরিস্থিতিকে সমর্থন জানাতে পারে। বিশিষ্ট এই আইনজীবী আরও বলেন, জঙ্গি সমস্যা যেমন ভয়ঙ্কর, তেমন গুম, অপহরণ, গুপ্তহত্যা, ‘ব্যাটেল গানের’ নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডও জঘন্য অপরাধ। এসব অপরাধ যেই করুক না কেন, সবার সম্মিলিত প্রয়াসেই তা বন্ধ করতে হবে। কারণ এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুবিধাভোগী যারা, তারাই শুধু চাইবে না যে, এসব অপরাধ বন্ধ হোক। তিনি আরও বলেন, দেশের বেশির ভাগ মানুষই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদসহ মানুষ হত্যা, গুম, অপহরণের মতো অপরাধের বিপক্ষে। তারা শান্তি চায়। আর দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে শান্তিকামী সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে। পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে গণতন্ত্র। ’৭১-এ যেভাবে এ দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গর্জে উঠেছিল, এবারও দেশ ও মানুষের প্রয়োজনে সর্বস্তরের মানুষকে জেগে উঠতে হবে। তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে জঙ্গিবাদ নামক এই ভয়ানক ব্যাধির বিরুদ্ধে। তিনি আরও জানান, দেশের বিদ্যমান সমস্যা নিরসনসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য অনেক দিন ধরেই একটি বৃহৎ ঐক্য প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তারা। বিভিন্ন সুস্থধারার রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনাও চলছে। জনগণের ব্যাপকভিত্তিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এই ‘প্লাটফরম’ তৈরি করা হবে; যা জনগণ ও দেশের স্বার্থ রক্ষাসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে কাজ করবে। এমনকি প্রয়োজনে রাজপথে নামতেও দ্বিধা করবে না তারা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow