Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:০৫
বাবুল কি আটক হবেন
নির্দেশদাতা নিয়ে প্রশ্ন, কোথায় সেই মুছা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও চট্টগ্রাম
বাবুল কি আটক হবেন

সাবেক এসপি বাবুল আক্তার কি গ্রেফতার হচ্ছেন? পুলিশ বাহিনীর চাকরি থেকে অব্যাহতির পর এখন স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যায় বাবুলের সম্পৃক্ততা নিয়ে জোর আলোচনা সর্বত্র। পুলিশ বাহিনীর অনেকে এ বিষয়টি বিশ্বাস করতে না চাইলেও কেউ কেউ বলছেন, বাবুলকে সন্দেহের অনেক কারণ রয়েছে।

তবে এজন্য এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন অন্যতম প্রধান সন্দেহভাজন কামরুল ইসলাম ওরফে মুছা সিকদারকে। মুছাকে গ্রেফতার করলেই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। বের হয়ে আসবে মিতু হত্যার নির্দেশদাতার নাম। তবে এর আগ পর্যন্ত বাবুলকে নজরদারির মধ্যেই রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল  বাহার বলেন, ‘মুছাতে আটকে আছে এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত। তাকে পাওয়া গেলে মিলবে অনেক প্রশ্নের উত্তর। একই সঙ্গে খুলবে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্যজট। তাই মুছাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। ’ সূত্র বলছে, মুছা সিকদার মিতু কিলিং মিশনের জন্য খুনি ভাড়া থেকে শুরু করে অন্যতম পরিকল্পনাকারী। খুনের পর থেকে পুলিশের খাতায় ‘লাপাত্তা’ মুছা। তিনি দেশে আছেন, নাকি বিদেশে পালিয়ে গেছেন, এর সঠিক কোনো তথ্য নেই পুলিশের কাছে। যদিও মুছার পরিবারের দাবি, খুনের ১৭ দিনের মাথায় পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় মুছাকে। কিন্তু পরিবারের সেই দাবি অস্বীকার করছে পুলিশ। তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিতু হত্যার পর মামলার অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতি জানতে বাবুল আক্তার কিংবা তার শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি। তবে মিতুর পরিবার থেকেও উল্টো দাবি করা হচ্ছে, মামলার অগ্রগতি বিষয়ে জানাতে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তাদেরও এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এর আগ পর্যন্ত তাদের গতিবিধির ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। মুছার স্ত্রী পান্না আকতার বলেন, ‘পুলিশ পরিচয়ে মুছাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। প্রধানমন্ত্রী ও আইজিপিসহ সবার প্রতি আমার অনুরোধ, মুছা যদি অপরাধ করে থাকেন তাহলে প্রচলিত আইনের মাধ্যমে তার শাস্তি হোক। কোনো অবৈধ পন্থায় তার শাস্তি নিশ্চিত করা কোনোভাবে কাম্য নয়। ’ দেশ তোলপাড় করা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করেছে। কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন খুনে সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের দুজন। এ ছাড়া খুনের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে নতুন করে উঠে এসেছে আরও কয়েকজনের নাম, যাদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এ ছাড়া গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে আনোয়ার হোসেন ও ওয়াসিম আদালতে দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে তারা খুনি ভাড়া ও খুনের অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে বাবুল আক্তারের সোর্স মুছার নাম উল্লেখ করেছেন। গ্রেফতার আসামিরাও জিজ্ঞাসাবাদে অন্যতম হোতা হিসেবে মুছার নাম উল্লেখ করেছেন। তবে পুলিশের একটি অংশের দাবি, আটকের পর মুছার কাছ থেকে এ খুনের আদ্যোপান্ত জেনে নিয়েছে পুলিশ। পরে তাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ভাগ্য বরণ’ করতে হয়। মুছাকে আটক কিংবা গ্রেফতারের কথা অস্বীকার করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘মুছা কোথায় আছেন সে তথ্য আমাদের কাছে নেই। তাকে গ্রেফতার করতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু কোথাও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, ৫ জুন নগরীর জিইসির মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনার পর বাবুল আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ এ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করে। এ ছাড়া গত ৫ জুলাই পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন রাশেদ ও নবী। কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া মুছা ও কালু এখনো পুলিশের খাতায় ‘পলাতক’। পুলিশের একটি অংশের দাবি, স্ত্রী হত্যায় সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বাবুল আক্তারের। তাই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

up-arrow