Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:০৭
পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক
পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গতকাল সৌদি আরবে শুরু হয়েছে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। জুমার নামাজের পর মক্কা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব মিনায় উপস্থিত হয়ে সেখানে সারা দিন ও সারা  রাত অবস্থানের মধ্য দিয়ে পবিত্র হজ পালনের কার্যক্রম শুরু হয়। তবে পবিত্র হজের পাঁচ দিনের মূল পর্বের আনুষ্ঠানিকতার প্রথম পর্ব শুরু হবে আজ। হজ উপলক্ষে এবারও মক্কা ও মদিনায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের সময় যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে সে জন্য সৌদি হজ কর্তৃপক্ষ হাজীদের পৃথকভাবে সেখানে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। গত বছর মিনায় পাথর নিক্ষেপের সময় পদদলিত হয়ে ৭১৭ জন হাজীর মৃত্যু হয়। এর পরই হজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। গতকাল পবিত্র মসজিদুল হারামে জুমার নামাজ আদায়ের পর পবিত্র হজ পালন করতে মিনায় যাত্রা শুরু করেন হজ করতে আগতরা। তারা ৭ থেকে ১২ জিলহজ মিনা, আরাফাহ ও মুজদালিফায় অবস্থান করবেন। আজ ৮ জিলহজ মিনায় সারা দিন অবস্থানের পর আগামিকাল ৯ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায়ের পর প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সেখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় গিয়ে রাতযাপন করতে হবে। এরপর মিনায় জামারতে শয়তানকে মারার জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন। ১০ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে আবার মিনায় ফিরবেন তারা। এখানে বড় শয়তানকে পাথর মেরে, কোরবানি করে ও মাথা মুণ্ডন করবেন। পরে তারা কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন। তাওয়াফ ও সাঈ শেষে মিনায় ফিরে ১১ ও ১২ জিলহজ সেখানে অবস্থান করবেন। এখানে প্রতিদিন তিনটি শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন তারা। এ বছর হাজীদের পরিচয় নিশ্চিতের জন্য ইলেকট্রনিক ব্রেসলেট সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিটি ব্রেসলেটে বারকোড রয়েছে এবং এটি অ্যাপসের মাধ্যমে স্মার্টফোনের সঙ্গে সংযুক্ত। এই ব্রেসলেটে হাজীদের ব্যক্তিগত এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য রয়েছে। এটি তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি জরুরি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সুবিধা দেবে। সেই সঙ্গে তাদের গতিবিধিও পর্যবেক্ষণ করা হবে এই ব্রেসলেটের মাধ্যমে। মক্কা ও মদিনায় দ্রুত ভিড় অপসারণ ও যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মক্কা ও মদিনায় হাজীদের পথ চলা ও দিকনির্দেশনার জন্য সাড়ে চার হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হজের অনুমতি নেই এমন কেউ যাতে মক্কায় প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সরকারি বার্তা সংস্থা সৌদি গেজেট জানিয়েছে, অবৈধ হজ যাত্রীদের প্রতিরোধ করতে বাহিতা ও হাদা এলাকায় ১ হাজার ২০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত হাজীদের নিরাপত্তা প্রদানে তিন হাজার উদ্ধারকর্মী ও অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র স্থানান্তরে ১৭ হাজার কর্মী মোতায়েন করেছে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ। হজের আনুষ্ঠানিকতার পাঁচ দিন মক্কা ও পবিত্র স্থানগুলো পরিষ্কারের জন্য ২৬ হাজার পরিচ্ছন্ন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাজীদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য মক্কায় পর্যাপ্ত জনবল, ওষুধ, যন্ত্রপাতিসহ অস্থায়ী আটটি হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে। মিনা, আরাফাতের ময়দান ও মুজদালিফায় ২৫টি অস্থায়ী হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এ ছাড়াও চলতি বছর মাতাফের (পবিত্র কাবার চারপাশে তাওয়াফের স্থান) স্থানও সম্প্রসারিত করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। মক্কা শরিফ রক্ষণাবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার ঘণ্টায় ৩০ হাজার হাজী একসঙ্গে তাওয়াফ করতে পারবেন। এর আগে এখানে ১৯ হাজার হাজী একসঙ্গে তাওয়াফ করতে পারতেন।

হজের আগেই মৃত্যু ৩৩ বাংলাদেশির : হজ শুরুর আগেই সৌদি আরবে গিয়ে গতকাল দুপুর পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে ৩৩ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ এবং নয়জন নারী। এ ছাড়া হাসপাতালে ভর্তি আছেন আরও ১৭ জন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ বুলেটিনে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়। এর মধ্যে মক্কায় ২৪, মদিনায় ৮ ও জেদ্দায় একজন মারা গেছেন। বাংলাদেশি হজযাত্রীদের নিয়ে প্রথম ফ্লাইট ৪ আগস্ট সৌদি আরবে পৌঁছায়। এরপর ৭ আগস্ট সেখানে প্রথম বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। মৃতরা হলেন, কুমিল্লার ছায়েদুর রহমান (৭৭), লক্ষ্মীপুরের মোহাম্মদ উল্লাহ পাটোয়ারী (৬৪), হবিগঞ্জের মো. আমিন আলী (৭০), কুষ্টিয়ার তাহেরা খানম (৬০), মোছা. সুফিয়া খাতুন (৬২) ও মো. মকবুল হোসেন (৬৭), সিলেটের আকরিজ উল্লাহ (৭৫), ফরিদপুরের মো. আইনুদ্দিন মোল্লা (৭৯), ফেনীর ওবায়দুল হক (৭৮), নোয়াখালীর রেজাউল হক (৫৩) ও ইসমাইল (৬২), মুন্সীগঞ্জের আবু বকর সিদ্দিক (৫৯) ও এসএম মোফাজ্জল হোসেন (৬৬), গাজীপুরের আলী আহমেদ সিকদার (৬৬) ও জামিলা আক্তার (৭৯), টাঙ্গাইলের রমিজা বেগম (৫৭), বরিশালের মো. আলাউদ্দিন ফকির (৭৪), নরসিংদীর মো. নুরচাঁদ মিয়া (৫৬), চাঁদপুরের নাসির আহমেদ (৬৪) ও মো. হাবিব উল্লাহ (৮৪), শেরপুরের মো. জমির উদ্দিন (৭৪) ও রাশেদা বেগম (৪৮), রংপুরের মো. ইসমাইল হোসেন (৭১), কুমিল্লার মো. আবু তাহের (৮৭), নওগাঁর সিরাজুর মুনিরা লাভলী (৫১), নেত্রকোনার মো. ওয়াকিল উদ্দিন (৬৭), বগুড়ার মোছা. মরিয়ম বেগম (৫১) ও হেলাল উদ্দিন আহমেদ (৬৪), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জোহরা খাতুন (৬১) ও আবুল হাসেম (৭৯), জয়পুরহাটের হাবিবা ফেরদৌসী রিক্তা (৪১), পাবনার মো. নুরুজ্জামান কাশেমী (৫৯) এবং চট্টগ্রামের মো. রেহান উদ্দিন (৭৩)। জানা যায়, সৌদি আরবের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৯৯টি ফ্লাইটে ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ বাংলাদেশের ১ লাখ ১ হাজার ৮২৯ হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছান।

 এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার পাঁচ হাজার ১৮৩ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ৯৫ হাজার ৬১৪ জন রয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুসলমানদের সঙ্গে ১১ সেপ্টেম্বর হজ করবেন তারা। হজ শেষে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে ফিরতি ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন বাংলাদেশিরা।

up-arrow