Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:০৮
যানজটের দুর্ভোগ কমাতে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ
আকতারুজ্জামান
যানজটের দুর্ভোগ কমাতে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ
সৈয়দ আবুল মকসুদ

বিশিষ্ট গবেষক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, যানজটের দুর্ভোগ কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। শুধু পুলিশ প্রশাসন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন দিয়ে এ যানজট নিরসন করা সম্ভব হবে না। স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা পরিষদের নেতৃবৃন্দকেও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে হবে। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। আবুল মকসুদ বলেন, দুই বছর ধরে ঈদে ঘরমুখো মানুষের বাড়ি ফেরার ক্ষেত্রে দুর্ভোগ কম হয়েছে। এর কারণ হলো ঈদের দু-এক মাস আগ থেকেই সরকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে বৈঠক করে একটা সাবধানতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল। কিন্তু এবারের ঈদের ক্ষেত্রে এমনটা পরিলক্ষিত হয়নি। যদিও সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এ ক্ষেত্রে আন্তরিকতার অভাব নেই। তিনি নিয়মিত তদারক করছেন। কিন্তু সব বিভাগের সমন্বয়ের অভাবেই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যানজট হবে না সরকারের এমন আত্মবিশ্বাসের কারণেই যানজটে ভোগান্তিতে পড়ছে মানুষ। সংশ্লিষ্ট বিভাগ হয়তো এবারও মনে করেছিল যে গতবারের মতো যাত্রা শান্তিপূর্ণ হবে। কিন্তু এবারের ঈদে ভয়াবহ যানজট লক্ষ্য করা গেছে। অথচ যানজটের ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্টদের আগেই অবহিত করা হয়েছিল। ব্যক্তিগতভাবেও অনুরোধ করেছি সাবধানতামূলক ব্যবস্থা নিতে। ফেরিঘাটগুলোতে যানজট হচ্ছে। সেখানে ১৫-২০ মাইল দীর্ঘ গাড়ির সারি থাকছে। এমনটা হবে ভেবেই নাগরিকদের পক্ষ থেকে সরকারকে সাবধান করেছিলাম। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা এতে গুরুত্ব দেয়নি। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং নৌমন্ত্রীর সঙ্গেও এ ব্যাপারে কথা বলেছিলাম। শুধু সড়ক বিভাগ নয়, অন্য বিভাগগুলোর কর্মকর্তারাও যানজটের এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। ফেরির সংখ্যা অপ্রতুল। প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। ঢাকামুখী কোরবানির পশু নিয়ে যেসব পরিবহন আসছে, সেগুলোও যানজটে আটকে আছে। যাত্রী ছাড়া পশু ব্যবসায়ীরাও এবার ভোগান্তিতে পড়েছেন।

এ গবেষক বলেন, যানজটের অনেক কারণ রয়েছে। ফেরিতে গাড়িগুলো পার হতে না পেরে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে দেখা গেছে, টোল আদায়ের ক্ষেত্রেও দীর্ঘ যানজট হচ্ছে। চাঁদাবাজির কারণেও কখনো কখনো যানজট হচ্ছে। গত বছরও এমনটা লক্ষ্য করা যায়নি। চাঁদাবাজি বন্ধ করতে দলীয় নেতৃত্বের পর্যায় থেকে শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে। যানজটের ভোগান্তি নিরসনে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরও দায়িত্ব রয়েছে। জনমানুষের ভোগান্তির এই সময়ে সরকারের পাশে দাঁড়াতে হবে তাদের। ফিটনেসবিহীন পরিবহনের কারণেও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাড়ি বিকল হয়ে দীর্ঘ জটের সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, যানজট নিরসনের ক্ষেত্রে একটা সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। এ পরিস্থিতিতে সবাইকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিলে এখনো ভোগান্তি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। কারণ ঈদের আগের দুই দিন আরও ভয়াবহ যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।

up-arrow