Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৩৬
রায় ফাঁসে আইনজীবীর জেল সাকার স্ত্রী-পুত্র খালাস
নিজস্ব প্রতিবেদক
রায় ফাঁসে আইনজীবীর জেল সাকার স্ত্রী-পুত্র খালাস
ফখরুল ইসলাম

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের খসড়া ফাঁসের মামলায় তার স্ত্রী ও ছেলেকে খালাস দিয়ে সাকার আইনজীবীসহ পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। দণ্ড পাওয়া পাঁচ আসামির মধ্যে ট্রাইব্যুনালে সাকা চৌধুরীর আইনজীবী ফখরুল ইসলামকে ১০ বছরের কারাদণ্ড, সেই সঙ্গে ১ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ওই অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে তাকে আরও ছয় মাসের সাজা ভোগ করতে হবে। আর সাকা চৌধুরীর ম্যানেজার মাহবুবুল আহসান, ফখরুলের সহকারী মেহেদী হাসান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কর্মচারী নয়ন আলী ও ফারুক হোসেন প্রত্যেককে দেওয়া হয়েছে সাত বছরের কারাদণ্ড। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। তা না দিলে আরও এক মাস জেলে কাটাতে হবে তাদের। গতকাল বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে এম শামসুল আলম আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। জামিনে থাকা সাকাপত্নী ফারহাত কাদের চৌধুরী রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত হন। আর তার ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে পলাতক দেখিয়েই আদালত রায় ঘোষণা করে।

সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকায় গত বছর নভেম্বরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য সালাউদ্দিন কাদেরের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ মামলার রায় হয়েছিল ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর। ওই রায়ের দিন সকালেই তার স্ত্রী, পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা রায়ের খসড়া ফাঁসের অভিযোগ তোলেন। তারা রায়ের ‘খসড়া কপি’ও সংবাদকর্মীদের দেখান। তারা আদালতের রায় নিয়ে কটাক্ষও করেন। রায় ঘোষণার পরদিন ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন নিবন্ধক (রেজিস্ট্রার) এ কে এম নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে শাহবাগ থানায় একটি জিডি করেন। পরে ৪ অক্টোবর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান শাহবাগ থানায় মামলা করেন। ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট ডিবির পরিদর্শক মো. শাহজাহান এ মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন, যাতে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৫ জনকে সাক্ষী করা হয়। সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সাইবার ট্রাইব্যুনালে এ মামলার বিচার শুরু হয়। সাক্ষ্য শুরু হয় ২৮ মার্চ।

তদন্তের সময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, সালাউদ্দিন কাদেরের আইনজীবীর সহকারী মেহেদী বড় অঙ্কের অর্থের লোভ দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালের দুই কর্মীর মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধ মামলার রায়ের খসড়ার অংশবিশেষ বের করেন। ওই অংশটিই রায়ের দিন আদালতে সাংবাদিকদের দেখানো হয়। আসামি নয়ন ও ফারুক এ মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলেও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান।

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের এ মামলায় দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয় গত ৪ আগস্ট। সেদিন শুনানিতে হাজির না থাকায় যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদেরের ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ হয়। হুম্মামের আইনজীবী আমিনুল গণী টিটোর অভিযোগ, সেদিন শুনানিতে উপস্থিত হতে আদালত প্রাঙ্গণে নামার পরপরই ডিবি পরিচয়ে তাকে তুলে নেওয়া হয়। তবে আটকের খবর অস্বীকার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান সেদিন বলেন, হুম্মাম তাদের হেফাজতে নেই।

মামলার আসামিদের মধ্যে ফারহাত কাদের চৌধুরী ছাড়া জামিনে থাকা বাকি চার আসামি ফখরুল, মাহবুবুল, নয়ন ও ফারুকের জামিন বাতিল করে তাদেরও সেদিন কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। আরেক আসামি মেহেদী শুরু থেকেই পলাতক। এর আগে ১৪ ও ২৮ আগস্ট দুই দফা তারিখ রাখা হলেও লেখা শেষ না হওয়ায় আলোচিত এ মামলার রায় পিছিয়ে দেন বিচারক।

up-arrow