Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪১
মিল্কী হত্যার রেশ ধরে খুন আরেক যুবলীগ নেতা
সাখাওয়াত কাওসার
মিল্কী হত্যার রেশ ধরে খুন আরেক যুবলীগ নেতা
রেজভী হাসান বাবু

যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক খান মিল্কী দিয়ে শুরু। এবারও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই খুন হয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রেজভী হাসান বাবু (৩৪) ওরফে বোঁচা বাবু। তবে সূত্র নিশ্চিত করেছে মূল টার্গেট ছিল গ্রুপ লিডার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মারুফ রেজা সাগর। তাকে না পেয়ে গত শুক্রবার রাতে মতিঝিল এজিবি কলোনির ক্লাবে বসে থাকা বাবু এবং তার বন্ধু ইমনকে এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। গতকাল ভোরে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাবু।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৩০ জুলাই রাজধানীর গুলশানে খুন হওয়া যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক খান ওরফে মিল্কী নিয়মিত এই অফিসে বসতেন। মিল্কী হত্যার প্রধান আসামি যুবলীগের আরেক নেতা জাহেদ সিদ্দিকী তারেক র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হন। তারেকের অনুসারী মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু। টিপুর নির্দেশে এরা ১০ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগের বর্তমান সভাপতি মারুফ রেজা সাগরকে হত্যার উদ্দেশে এসেছিল। তাকে না পেয়ে ক্লাবের সামনে বসে থাকা বাবু এবং তার বন্ধু ইমনকে গুলি করে চলে যায়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত মাসে এজিবি কলোনি এলাকার মেলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে শুরু হয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ ভূইয়া এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু গ্রুপের বিরোধিতা। গত ১৪ আগস্ট একটি অনুষ্ঠানে বোঁচা বাবুর এক বন্ধুকে মারধর করে টিপু গ্রুপের লোকজন। ওই সময় টিপু গ্রুপের হীরক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ওই ঘটনার প্রতিবাদ করলে টিপু ও হীরক বোঁচা বাবুকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। এর জেরে গত এক মাসের মধ্যে হীরকের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত দুই দফা সাগর এবং বোঁচা বাবুকে হত্যার প্রচেষ্টা চালায়। তবে ভাগ্যের জোরে ওই সময় বেঁচে যায় তারা। সর্বশেষ গত শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ১১টার দিকে মতিঝিলের এজিবি কলোনি এলাকায় যুবলীগের ১০ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ের সামনে চার দুর্বৃত্ত রেজভী হাসান বাবু ও তার বন্ধু আহসানুল হক ইমনকে এলোপাতাড়ি গুলি করে চলে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাবুর অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। গতকাল ভোরে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাবু।

হত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে জাহিদুল ইসলাম টিপু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারির দ্বন্দ্বের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড। তবে গত ১৪ আগস্ট রাতে একটি নিরীহ ছেলে মারধরের কারণে আমি বাবুকে ধমকিয়ে ছিলাম। সে আমার আত্মীয়ও বটে। ওই সময় বাবুল ও নওশের উপস্থিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, আমি আমার পারিবারিক অনুষ্ঠানে গত শুক্রবার ফেনীতে ছিলাম। ওই অনুষ্ঠানে বাবুর বাবাও ছিল।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘ঘটনাস্থলের অদূরেই আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম। গুলির শব্দ শুনে কাছে গিয়ে দেখি তুষার, সানি, রাজা এবং বর্তমান ১০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মিলনসহ ৭-৮ জন গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যাচ্ছে। সামনে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল। আর বাবু ছিলেন ১০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী।’

জানতে চাইলে থাইল্যান্ডে থাকা যুবলীগ নেতা খালিদ মাহমুদ ভূইয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমি মায়ের চিকিৎসার কারণে বর্তমানে ব্যাংককে। টিপুর সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। আমরা দুজনই রাজনীতি করি। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার এবং টিপুর মধ্যকার শত্রুতার কথা বলছে একটি মহল। আর বাবু হত্যা সম্পর্কেও আমি কোনো কিছু জানি না।

গত ৩০ জুলাই দিবাগত রাতে গুলশানের শপার্স ওয়ার্ল্ডের সামনে খুন হন যুবলীগ নেতা মিল্কী। সে সময় পুলিশ জানায়, যুবলীগের আরেক নেতা জাহেদ সিদ্দিকী তারেক পিস্তল দিয়ে গুলি করে হত্যা করেন মিল্কীকে। এই হত্যাকাণ্ডের দুই ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান আসামি জাহেদ সিদ্দিকী তারেকসহ এজাহারভুক্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১। ওই রাতেই র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তারেক মারা যান।

জানা যায়, শুক্রবার বাবু ও ইমনকে যারা গুলি করে তারাই ১৫ থেকে ২০ দিন আগে এই ক্লাবে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটেছে।

এক ভাই এক বোনের মধ্যে বাবু ছিলেন বড়। বাবু দুই মেয়ের জনক। তার স্ত্রীর নাম মিম আক্তার। তার বাবা মো. আবুল কালাম পেশায় একজন ব্যবসায়ী। মা রীনা আক্তার সরকারি কর্মকর্তা। তাদের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর চরআফজাল গ্রামে।

বাবুর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দুলাল চন্দ্র কুণ্ডু। তিনি জানান, তার বাম গালের মাঝামাঝিতে একটি গুলির ছিদ্র রয়েছে।

up-arrow