Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৫১
এমপি রানা কারাগারে
চাঞ্চল্যকর ফারুক হত্যা মামলায় আত্মসমর্পণ
মো. নাসির উদ্দিন, টাঙ্গাইল
এমপি রানা কারাগারে
টাঙ্গাইল-৩ আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানা গতকাল আত্মসমর্পণ করলে জেলা ও দায়রা জজ আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় —বাংলাদেশ প্রতিদিন

বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারী, মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলার পলাতক আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। এমপি রানা গতকাল সকালে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত প্রথম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হন।

এ সময় তার আইনজীবীরা জামিনের প্রার্থনা করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে। বিচারক আবুল মনসুর মিয়া উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে এমপি রানাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামি পক্ষে জামিনের শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আবদুল বাকি মিয়া, অ্যাডভোকেট ফায়জুর রহমান, অ্যাডভোকেট খন্দকার ফায়েকুজ্জামান নাজিব, অ্যাডভোকেট শফিকুজ্জামান রিপন, অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল প্রমুখ আইনজীবী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মুনিরুল ইসলাম খান। তাকে সহায়তা করেন বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের প্রমুখ। এ সময় মামলার বাদী নাহার আহমেদ আবেগতাড়িত কণ্ঠে আসামির জামিন নামঞ্জুরের জন্য আদালতে প্রার্থনা করেন। এদিকে কোর্ট চত্বরে নিহত ফারুক আহমেদের স্ত্রী নাহার আহমেদের নেতৃত্বে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। চাঞ্চল্যকর ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার অন্য আসামিরা হলেন— এমপি রানার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহিদুর রহমান খান মুক্তি, জেলার সাবেক ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাঁকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা, কবির হোসেন, সাবেক কমিশনার মাসুদ মিয়া, চানে, নুরু, সানোয়ার হোসেন, দাঁতভাঙা বাবু, আনিসুল ইসলাম রাজা, মোহাম্মদ আলী, ফরিদ মিয়া ও সমীর। এদের মধ্যে এমপি রানার তিন ভাই সহিদুর রহমান খান মুক্তি, জাহিদুর রহমান খান কাঁকন ও সানিয়াত খান বাপ্পা এবং কবির হোসেন, সাবেক কমিশনার মাসুদ মিয়া, চানে, নুরু, সানোয়ার হোসেন ও দাঁতভাঙা বাবু পলাতক। আর আসামি আনিসুল ইসলাম রাজা, মোহাম্মদ আলী, ফরিদ মিয়া ও সমীর টাঙ্গাইল জেল হাজতে রয়েছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪/১২০বি ধারায় হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। ৩ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে শহরের কলেজপাড়া এলাকার নিজ বাসার কাছ থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর ফারুকের স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় মামলা করেন। ২০১৪ সালের ১১ আগস্ট শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয় আনিসুল ইসলাম রাজাকে। একই অভিযোগে মোহাম্মদ আলী নামে আরও একজনকে গোয়েন্দা পুলিশ ২৪ আগস্ট গ্রেফতার করে। তারা দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা উল্লেখ করেন, মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যাকাণ্ডে টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী খান পরিবারের চার ভাই সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, জাহিদুর রহমান কাঁকন, সহিদুর রহমান খান মুক্তি ও সানিয়াত খান বাপ্পা জড়িত। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামি রাজা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা তাকে দায়িত্ব দেন ফারুক আহমেদকে আওয়ামী লীগ অফিস থেকে কলেজপাড়ায় তার একটি প্রতিষ্ঠানে ডেকে আনার জন্য। আওয়ামী লীগ অফিসে যাওয়ার সময় পথেই রাজার সঙ্গে ফারুক আহমেদের দেখা হয়। রাজা তখন নিজের রিকশা ছেড়ে ফারুক আহমেদের রিকশায় ওঠেন এবং তাকে এমপি রানার প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হওয়া নিয়ে ফারুক আহমেদের সঙ্গে এমপি রানা ও তার ভাইদের কথা হয়। একপর্যায়ে ফারুক আহমেদকে ওই পদে প্রার্থী না হওয়ার অনুরোধ করেন এমপি রানা। ফারুক আহমেদ এতে রাজি হননি। এ বিষয়ে কথা বলার একপর্যায়ে ফারুক আহমেদ সেখান থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেছন থেকে তাকে গুলি করা হয়। এতে অন্যরা তার মুখ চেপে ধরেন। তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর প্রভাবশালী নেতার নির্দেশে সেখানকার রক্ত মুছে ফেলা হয়। পরে একটি অটোরিকশায় ফারুক আহমেদের মরদেহ নিয়ে আসামি রাজাসহ দুজন দুপাশে বসেন। তারা ফারুক আহমেদের বাসার কাছে লাশ ফেলে আসেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow