Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৫৩
মানবদেহে বিস্ফোরক বহনের আশঙ্কা
বিমান বন্দরগুলোতে বসছে সাত স্ক্যানার
রুহুল আমিন রাসেল

দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায়ই ধরা পড়ছে অবৈধভাবে আসা সোনা, সিগারেট, মুদ্রা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক। মানুষের শরীরের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে এবং অভ্যন্তরে লুকিয়ে আনা অবৈধ পণ্য উদ্ধারও হচ্ছে। এমনকি যাত্রীদের পাকস্থলীর ভিতরে করে আনা সোনা কিংবা ইয়াবাও উদ্ধার হয়েছে। এসব ঘটনাকে নিরাপত্তার জন্যে হুমকিস্বরূপ বিস্ফোরক বহনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন গোয়েন্দারা। এসব বিবেচনায় বিমানবন্দরগুলোতে বসানো হচ্ছে সাত সেট মানব স্ক্যানার। জানা গেছে, ঢাকার হযরত শাহজালাল, চট্টগ্রামের হযরত শাহ আমানত ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক

বিমানবন্দরের আগমন ও বহির্গমন পথে মানব স্ক্যানিং ডিভাইস বসানো হচ্ছে। এ জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানিয়ে সম্প্রতি সংস্থাটির চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানকে পত্র দিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান। এনবিআর বিষয়টি সম্পর্কে গুরুত্ব দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। শিগগিরই অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মিলবে বলে আশা তাদের। তবে সব প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী বছর জুন মাসের মধ্যেই দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসানো হবে প্রায় ২০ কোটি টাকা দামের এই মানব স্ক্যানিং ডিভাইস। এদিকে এই স্ক্যানারে যাত্রীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। এ প্রসঙ্গে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পেটের ভিতরে যদি ইয়াবার পোঁটলা বহন করতে পারে, তাহলে বিস্ফোরকও বহন করা হতে পারে। সুইসাইড স্কোয়াডের সদস্যরা তো যে কোনো পন্থা অবলম্বন করতে পারে। এসব বিবেচনায় নিয়েই এমন প্রযুক্তি এসেছে। বিশ্বের অধিকাংশ বিমানবন্দরে এ মানব স্ক্যানার আছে। এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমি বিশ্বের অনেক দেশের বিমানবন্দরে গিয়েছি, কিন্তু এই মানব স্ক্যানার কোথাও দেখিনি। তবে আমেরিকা ও লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে এটা বসানোর কথা বেশ কয়েক বছর আগে আলোচিত হলো। জানি না সেখানে আছে কিনা। এ ধরনের স্ক্যানারে মানব শরীরের সবকিছু দেখা যায়। এটা অসভ্য ধরনের বিষয়। একজন মহিলা যাচ্ছে, তারও সবকিছু দেখা যাবে। মানবদেহে বিস্ফোরক বহনে শুল্ক গোয়েন্দাদের আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানবদেহের ভিতরে বা পেটের ভিতরে বিস্ফোরক বহন করা সম্ভব নয়। তবে সোনার ছোট ছোট বার বহন হতে পারে। কিন্তু বিস্ফোরক মানবদেহে বহন করা হবে, এটা যৌক্তিক মনে হয় না। এ ধরনের স্ক্যানার বসানোর মতো বাংলাদেশে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে কিনা, আমি জানি না। তবে ড. মইনুল খান বলেন, যারা সূক্ষ্মভাবে চোরাচালান করে, তাদের ধরা হবে মানব স্ক্যানিং ডিভাইস ব্যবহার করে। যাত্রীরা তাদের অজান্তে স্ক্যানিং হবেন। অনেক ক্ষেত্রে ভিআইপি যাত্রীরা সুবিধা নিয়ে অপব্যবহার করেন, এই ডিভাইসে সেটা সম্ভব হবে না। তার দাবি, এই মানব স্ক্যানিং ডিভাইসে মানুষের শরীরের গোপন অংশের কিছু দেখা বা বোঝা যাবে না। তবে লুকায়িত কিছু থাকলে ধরা পড়বেই। আর যেহেতু গোপনাঙ্গ দেখা যাবে না, তাই এটা মানবাধিকারের বিষয় নয়। আর দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকেই কিছুটা ছাড় দিতে হবে। গত ১৮ আগস্ট এনবিআরে পাঠানো শুল্ক গোয়েন্দার ওই পত্রে বলা হয়, উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য মানব স্ক্যানিং ডিভাইস ব্যবহার করা হয়। একইভাবে বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোতেও আগমনী ও বহির্গমন পথে এই মানব স্ক্যানিং ডিভাইস স্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এবং সময় সময়ে নাশকতার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত এসব বিমানবন্দরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। গত ৮ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত শুল্ক গোয়েন্দা পরিচালিত অপারেশন আইরিনে দেখা গেছে, এসব বিমানবন্দরগুলো অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ নয়। এই পরিস্থিতিতে মানব স্ক্যানিং ডিভাইস স্থাপন ও যথাযথ ব্যবহার করলে উদ্ভূত আশঙ্কার অনেকটা অবসান ঘটবে। শুল্ক গোয়েন্দা প্রায়ই বিমানবন্দরসমূহে সোনা, মাদক, মুদ্রা, সিগারেটসহ অবৈধ পণ্য উদ্ধার করে আসছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানুষের শরীরের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং অভ্যন্তরে (মানবদেহের ভিতরে) লুকিয়ে পাচারের চেষ্টা করছে, যা শুল্ক গোয়েন্দার হস্তক্ষেপে উদ্ধার করা হয়। গত ১৪ আগস্ট কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বন্দরে আসা যাত্রী ইমাম হোসেনের পাকস্থলীর ভিতরে লুকিয়ে রাখা ১০০ পোঁটলা থেকে ৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এর আগেও বেশ কয়েকজনের শরীরের ভিতর থেকে সোনা উদ্ধার হয়েছে। এসব ঘটনা ইঙ্গিত করে মানবদেহে এবং ব্যাগের বিভিন্ন স্থানে বিশেষভাবে লুকিয়ে অবৈধ পণ্যের পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ বিস্ফোরক ও অন্যান্য পণ্যসামগ্রী বহন হতে পারে। এসব প্রেক্ষাপট সামনে রেখে তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মানব স্ক্যানিং ডিভাইস স্থাপনের সুপারিশ করে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow