Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৫৩
শাহজালালে রোবটসহ গোয়েন্দা ডিভাইস আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শাহজালালে রোবটসহ গোয়েন্দা ডিভাইস আটক

মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে কম্পিউটার সামগ্রীর নামে আনা ১৫ কেজি ওজনের একটি বিশেষ হেলথ কেয়ার রোবটসহ গোয়েন্দা ডিভাইস এবং নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওই পণ্যসমূহ মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে টয় ও কম্পিউটার সামগ্রী হিসেবে খালাসের চেষ্টাকালে এয়ারফ্রেইট ইউনিটের বাহির থেকে এসব সরঞ্জাম আটক করা হয়েছে।

গতকাল সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে পরীক্ষা করে এই অনিয়ম উদঘাটন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন, ওই পণ্য চালানটি ঢাকা কাস্টম হাউসের বিল অব অ্যান্ট্রি নম্বর—৬৯৬৯৯৯-এর মাধ্যমে আমদানি শর্ত লঙ্ঘন করে খালাসের চেষ্টা করা হয়। আমদানি নীতি অনুযায়ী রোবট মেডিকেল ডিভাইস হিসেবে ওষুধ প্রশাসনের এবং নেটওয়ার্কিং ডিভাইস বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন— বিটিআরসির অনুমোদন ছাড়া আমদানিযোগ্য নয়। শুল্ক গোয়েন্দা জানিয়েছে, ওই পণ্য চালানের বিষয়ে গোপন সংবাদ থাকায় গত ৮ সেপ্টেম্বর শাহজালালের এয়ারফ্রেইটের ১ নম্বর গেট দিয়ে বের করার পর শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃক পণ্য চালানটি সাময়িক আটক করা হয়। এতে ৩২৫ কেজির ২৪টি কার্টন পাওয়া যায়। পরে পণ্য চালানটি ইনভেন্টরি করে ১টি রোবট, ১২০টি স্মার্ট ওয়াচ (সিম স্লট সংযুক্ত), ১০টি মিনি ডিজিটাল ও ২৫টি পেন ক্যামেরা  (গোয়েন্দা ডিভাইস), ৬৩টি ইথারনেট সুইস, ২৫টি এন্টিনা, ১৯টি বেজ স্টেশনসহ বিভিন্ন ধরনের নেটওয়ার্কিং সামগ্রী পাওয়া যায়। ওই রোবটের প্যাকেটে লেখা আছে ‘হেলথ কেয়ার রোবট’।

 এতে রিমোট কন্ট্রোলসহ ক্যামেরা ও মিউজিক বক্স সংযুক্ত করা আছে। শুল্ক গোয়েন্দার প্রাথমিক অনুসন্ধানের তথ্যমতে, এই রোবট উন্নত দেশে মেডিকেল সেবায় ব্যবহার হয়। তবে এর অপব্যবহার রোধে যে কোনো মেডিকেল ডিভাইস আমদানির আগে ওষুধ প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয়। এই অনুমতি ছাড়াই ওই রোবট আমদানি করা হয়েছে। অন্যদিকে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রদানের ক্ষেত্রে আটক নেটওয়ার্কিং ডিভাইস ব্যবহার করা হয় এবং এ জন্য বিটিআরসির অনুমোদন গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এক্ষেত্রে তা প্রতিপালন করা হয়নি।

এসব সামগ্রী ফ্রিকোয়েন্সির মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য। বিল অব অ্যান্ট্রি অনুযায়ী—আমদানিকারক হলেন চট্টগ্রামের শাহ আমানত সিটি করপোরেশন মার্কেটের মেসার্স গ্লোবাল কমিউনিকেশন্স। সিএন্ডএফ এজেন্ট ছিলেন মেসার্স কুম ট্রেডার্স। চালানটি চীন থেকে বিমানযোগে ঢাকায় আসে। সরকারের পূর্ব অনুমোদন ব্যতিরেকে ও প্রকৃত ঘোষণা না দিয়ে খালাসের চেষ্টা করায় শুল্ক আইন ভঙ্গ হওয়ায় ওই পণ্য সামগ্রী আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow