Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৫৫
সম্মেলনে কোনো পদে প্রার্থী নই
---------ওবায়দুল কাদের
নিজস্ব প্রতিবেদক
সম্মেলনে কোনো পদে প্রার্থী নই

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দলের জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে নানা আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমি আওয়ামী লীগের কোনো পদে প্রার্থী নই।

দলীয় সম্মেলনে প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় না আনতে সংবাদকর্মীদের প্রতি অনুরোধ করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নেই। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ব্যাপারে দেশি-বিদেশি কোনো চাপ নেই। সংসদে আওয়ামী লীগের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সেখানেও কোনো আস্থার সংকট নেই। আর যারা মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা বলছেন, তারা আন্দোলন করে নির্বাচনের কোনো পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি। বিএনপি দেশে এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারেনি, যার কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে হবে। তারা তো নির্বাচনের পক্ষে ৫০০ লোকের একটি মিছিলও করতে পারেনি। দেশে কোনো বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজ বা অন্য কোনো পেশাজীবীদের পক্ষ থেকেও এমন কোনো দাবি নেই। তাহলে কেন সরকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের নাটক, তামাশা করতে যাবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চলতি নির্বাচন ব্যবস্থায়ই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে। ডিআরইউ সভাপতি জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে আয়োজিত মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঈদের সময় সড়কে মৃত্যুর মিছিল দেখে আমি অবাক হয়েছি। রাস্তায় পাখির মতো মানুষ মরেছে। আমি গাড়ির চালকও নই, মালিকও নই। দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে আমি এসব প্রাণহানির দায় এড়াতে পারি না। এ সমস্যা নিয়ে আমার মাথাব্যথাও আছে, দায়ও আছে। মন্ত্রী আরও বলেন, পরিবহন ব্যবস্থায় আমি শৃঙ্খলা আনতে পারিনি। তাই এক্ষেত্রে সফলতা আমি দাবি করতে পারব না। পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই এখন আমার চ্যালেঞ্জ। চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানো আমরা বন্ধ করতে পারিনি। পরিবহনগুলোতে দক্ষ চালকের চেয়ে অদক্ষ চালকই বেশি। ঈদে বেশি ট্রিপ মারতে গিয়ে ওভারটেকিং করছেন চালকরা। এতেই দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম আট মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছিল। এবারের ঈদে সেই সাফল্য ধরে রাখা যায়নি। ড্রাইভারদের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর জন্যই দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে। দেশে কয় লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলছে তা চিন্তাও করা যায় না। এগুলো যেভাবে বাড়ছে তাতে গণপরিবহন রাস্তায় চলতে পারবে না। এ ব্যাপারে বিআরটিএকে অবহিত করে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিকশার বিকল্প খুঁজতে হবে আমাদের। সেতুমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষকে ট্রাফিক আইন মানানো গেলেও অসাধারণ মানুষদের আইন মানানো যায় না। প্রভাবশালী, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আইন মানানোর যেন কেউ নেই! মোটরসাইকেলে দলে দলে হেলমেট ছাড়া যারা যাচ্ছে তাদের জিজ্ঞেস করে দেখুন, তারা নির্ঘাত রাজনৈতিক দলের কর্মী। এদের ট্রাফিক আইন মানানো কঠিন। এই আইন না মানার প্রবণতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের সাফল্য আমি দাবি করতেই পারি। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়। এটা এখন দৃশ্যমান বাস্তবতা। আগামী ডিসেম্বরে পিলারের ওপর স্প্যান দেওয়া হলে এটি আরও দৃশ্যমান হবে। আমরা ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ সেতু নির্মাণ শেষ করার পথে একদিনও পিছিয়ে নেই। একই সঙ্গে নদী শাসন ও মূল সেতুর নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। মেট্রোরেলও দেশবাসীর কাছে আজ স্বপ্ন নয়। এদেশে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট হবে এমনটিও কেউ ভাবেনি। সড়কে দুর্ঘটনা প্রবণ ১৪৪টি স্পট চিহ্নিত করে সেগুলোর চওড়াকরণ ও ডিভাইডার নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের সব মহাসড়কে অযান্ত্রিক যান ও কম গতির গাড়ির জন্য আলাদা সার্ভিস লেন করা হবে বলেও জানান তিনি। আগামীতে মহাসড়কে মানুষের মৃত্যু প্রতিরোধে সার্ভিস লেন, ডিভাইডার নির্মাণ, চালকদের প্রশিক্ষণসহ বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন মন্ত্রী।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow