Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০২:৩৪
আজিমপুর থেকে রূপনগরে গিয়েই নিহত হন মেজর জাহিদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
আজিমপুর থেকে রূপনগরে গিয়েই নিহত হন মেজর জাহিদ

রাজধানীর রূপনগরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ২ সেপ্টেম্বর বিকালে সর্বশেষ আজিমপুরে তানভীর কাদেরীর সঙ্গে দেখা করে এসেছিলেন। জাহিদের টার্গেট ছিল দ্রুত সময়ের মধ্যে রূপনগরের বাসা পরিবর্তন করা। তবে রাতেই বন্দুকযুদ্ধে জাহিদ নিহত হয়েছেন এমন খবর টেলিভিশন থেকে জানতে পারেন আজিমপুরের জঙ্গি আস্তানার সদস্যরা। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের দ্বিতীয় দিনে এমন তথ্যই জানিয়েছে আজিমপুরে পুলিশের অভিযানের সময় নিহত জঙ্গি তানভীর কাদেরীর ১৪ বছর বয়সী ছেলে তাহ্রীম কাদেরী ওরফে রাসেল। তবে এই কিশোরের কাছ থেকে তথ্য বের করতে অনেক সতর্ক থাকতে হচ্ছে তদন্তসংশ্লিষ্টদের।

গত রবিবার পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সহকারী কমিশনার (এসি) আহসানুল হক ঢাকা মহানগর কিশোর আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে বিচারক রুহুল আমিন তিন দিন মঞ্জুর করেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আজিমপুরে তানভীরের জঙ্গি আস্তানায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল তামিম চৌধুরী, মারজান, রাজীব গান্ধীসহ অনেক শীর্ষ জঙ্গির। রাসেলের বরাত দিয়ে সূত্র আরও বলেছে, তামিমের নির্দেশনাতেই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন তার বাবা তানভীর কাদেরী ওরফে করিম। তবে তামিমের অনুপস্থিতিতে মেজর জাহিদ এবং মারজানের পরামর্শ নেওয়ার নির্দেশনা ছিল তামিমের। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও সিটি ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, আইন অনুযায়ীই তাহ্রীম কাদেরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা হচ্ছে না। কীভাবে তাহ্রীম কাদেরী এই পথে এলো, জঙ্গিবাদ সম্পর্কে কারা কারা উৎসাহিত করত এ নিয়েই মূলত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার যমজ ভাইয়ের অবস্থান সম্পর্কেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে তাহ্রীমকে।  তিনি আরও বলেন, তাহ্রীমকে গ্রেফতারের পরপরই টঙ্গীর কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে সেখান থেকেই তাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে।

আদালতে দেওয়া রিমান্ড আবেদনে পুলিশ উল্লেখ করেছে, কিশোরটি জেএমবির সদস্য। ঘটনার দিন পুলিশ ওই জঙ্গি আস্তানার একটি কক্ষে ঢোকে। এ সময় সে দরজা আটকে দিয়েছিল। পুলিশ দরজা খুলে ভিতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ওই কিশোর পুলিশের ওপর ছুরি হাতে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তবে পুলিশ তাকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তার পরিবারের সবাই জেএমবির সদস্য। আদালতে আসামি পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। গত ১০ সেপ্টেম্বর আজিমপুরের ২০৯/৫ পিলখানা রোডের ছয়তলা আবাসিক ভবনের দ্বিতীয়তলায় অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। পরে ওই বাসা থেকে আহতাবস্থায় তিন নারীকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, তানভীর কাদেরীর যমজ দুই ছেলে। তারা ধানমন্ডির একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। অপর ছেলের হদিস এখনো পুলিশ পায়নি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow