Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:০৪
বিশ্ব নেতাদের প্রধানমন্ত্রী
নারীর কর্মক্ষেত্র প্রসারিত করুন
শাবান মাহমুদ, নিউইয়র্ক থেকে
নারীর কর্মক্ষেত্র প্রসারিত করুন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সভাপতিত্বে গতকাল নিউইয়র্কে ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল চেম্বারে আয়োজিত শরণার্থী বিষয়ক শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা — বাংলাদেশ প্রতিদিন

জাতিসংঘের ৭১তম সাধারণ অধিবেশনে আজ ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায়  অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় আজ সকালে তিনি বাংলায় ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গতকাল মোট নয়টি কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করেন তিনি। সর্বশেষ গ্রেন্ট হায়াত হোটেলে নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন। এ ছাড়াও নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী।

গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দফতরের কনফারেন্স রুমে ‘ওমেনস লিডারশিপ অ্যান্ড জেন্ডার পার্সপেক্টিভ অন প্রিভেন্টিং অ্যান্ড কাউন্টারিং ভায়োলেন্স এক্সট্রিমিজম’ বিষয়ক সাইড ইভেন্টে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস চরমপন্থা শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং মানুষের প্রতি মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। যে সমাজ নারীর অংশগ্রহণ এবং ক্ষমতায়নের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়, সে সমাজে উগ্র ও সহিংস চরমপন্থার কোনো স্থান নেই। আমাদের নারীর কর্মক্ষেত্রকে প্রসারিত করুন। এর মাধ্যমে সবার জন্য টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে কাজ করে যেতে হবে। আমরা অবশ্যই টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য ক্ষেত্র আরও প্রসারিত করা অব্যাহত রাখব। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা অবশ্যই আমাদের অবস্থান থেকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব। আমরা সেই সমাধানই চাই, আর নারীরা তাতে অবশ্যই অংশ নেবে। তিনি বলেন, এই সমস্যা সমাধানে আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে। আমরা যে সমাধানের পথেই যাই না কেন নারীদের সেখানে অংশীদারিত্ব থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমি সবার জন্য শিক্ষা নীতিতে বিশ্বাসী, বিশেষ করে নারীদের জন্য এবং এটাই সমাজ থেকে সন্ত্রাস এবং উগ্র চরমপন্থা হটানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশের পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নারী সদস্য এবং স্থানীয় সরকারের নারী জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন পরিবার পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সমাজ থেকে উগ্র চরমপন্থার মতো অসামঞ্জস্য দূরীকরণে গণসচেতনতা সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। নারীদের অধিকার আদায়ে জাতীয় সংসদের নারী সদস্যদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এটা দেখে খুশি যে, সহিংস চরমপন্থারোধে জাতিসংঘ মহাসচিব নারীর ভূমিকা ও নেতৃত্ব উপলব্ধি করে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এরনা সোলবার্গ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ডেস্কে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রবাসীকল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. দীপু মনি প্রমুখ। এদিকে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকালে জাতিসংঘের সদর দফতরে ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল চেম্বারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আয়োজিত ‘লিডারশিপ সামিট অন রিফিউজস’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের শরণার্থী ইস্যুর সমাধানে উপায় বের করতে দেশটির নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চির সঙ্গে ইতিমধ্যে এ বিষয়ে আলোচনার হয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা মিয়ানমারের নতুন নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছি। তিনি আরও বলেন, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে আসা বিপুল সংখ্যক উদ্বাস্তুকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। নিজেদের সীমিত সম্পদ নিয়েও বাংলাদেশ এই শরণার্থীদের জন্য দায়িত্ব পালন করে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবেশী দেশের এই উদ্বাস্তুদের নিরাপত্তার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আর তা করতে গিয়ে অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে নানা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। সংকটের মূল কারণ উদ্ঘাটন করে শরণার্থীদের মানবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই শরণার্থী শিবিরগুলোতে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে। তাদের জন্য উন্নত আবাসনের ব্যবস্থা করা এবং তাদের স্বনির্ভর করে তুলতে দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টিও বাড়তি গুরুত্ব পাবে। অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের শরণার্থী ইস্যুতে সম্পৃক্ত হওয়ার এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কাউকে পেছনে ফেলে না রাখার আমাদের যে অঙ্গীকার তা বাস্তবায়নে আমাদের অবশ্যই জনগণকে সুশৃঙ্খল, নিরাপত্তা, নিয়মানুবর্তিতা ও দায়িত্বের প্রতি উন্নয়ন সাধনে কাজ করতে হবে। আলোচনা সভায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। শরণার্থী বিষয়ক এই বৈঠকে অংশ নেওয়ার আগে দুপুরে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুনের দেওয়া ভোজসভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির প্রশংসায় বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট : বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ড. জিম ইয়ং কিম আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিস্ময়কর উন্নয়নের উচ্চ প্রশংসা করে বলেছেন, দেশটির দারিদ্র্য হ্রাস ও নারীর ক্ষমতায়ন তাকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার হোটেলে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আমি সবসময় প্রতিটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সাফল্য গাথা তুলে ধরে থাকি।’

 কিম বলেন, দারিদ্র্য হ্রাস ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের বিস্ময়কর অর্জন অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বলেন, তার সংস্থা বাংলাদেশের সঙ্গে কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে এবং তিনি আগামী মাসে দক্ষিণ এশিয়ার এদেশ সফরের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব পদক্ষেপ এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করার কারণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের প্রবণতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

‘প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী : এদিকে নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ এবং ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়াড’ প্রদান করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, জাতিসংঘ সদর দফতরের ইউএন প্লাজায় বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে জাতিসংঘ উইমেন ‘প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ এবং গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow