Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১০
ছেলের আগুনে চলেই গেলেন দগ্ধ পিতা
ফরিদপুর প্রতিনিধি
ছেলের আগুনে চলেই গেলেন দগ্ধ পিতা
রফিকুল হুদা

মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় ছেলে ফারহান হুদা মুগ্ধর (১৭) দেওয়া আগুনে দগ্ধ বাবা রফিকুল হুদা (৪৫) গতকাল ভোরে মারা গেছেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।

হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারসূত্রে জানা গেছে,  বেশ কিছুদিন আগে থেকে রফিকুল হুদার কাছে নতুন একটি মোটরসাইকেল দাবি করে আসছিল ছেলে ফারহান হুদা। কিন্তু আবদার পূরণ না করায় ১৫ সেপ্টেম্বর বিকালে শোবার ঘরে বাবা ও মা সিলভিয়া হুদার শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় ফারহান। আগুনে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন রফিকুল হুদা। প্রথমে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ওই রাতেই ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। রফিকুল হুদা সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদার সর্বকনিষ্ঠ ভাই। এ টি এম সিরাজুল হুদা জানান, এ বছর ফরিদপুর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে কমার্সে ভর্তি হয় ফারহান হুদা মুগ্ধ। পরীক্ষার পরই সে বাবা-মায়ের কাছে নতুন মোটরসাইকেল দাবি করে আসছিল। কিন্তু তারা মোটরসাইকেল কিনে দিতে অস্বীকার করেন। ঈদের দিন নতুন মোটরসাইকেল চালাতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে সে এ ঘটনা ঘটায়। এদিকে রফিকুল হুদার মৃত্যুতে গোটা পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এ ধরনের একটি ঘটনায় পরিবারের অন্য সদস্যরা হতভম্ব হয়ে পড়েছেন। ছেলের দেওয়া আগুনে পুড়ে বাবার মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রফিকুল হুদার স্ত্রী সিলভিয়া হুদা ও ছেলে ফারহান হুদা মুগ্ধ বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিমউদ্দিন আহমেদ জানান, রফিকুল হুদার পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। তিনি জানান, রফিকুল হুদার মৃত্যুর জন্য দায়ী ছেলে মুগ্ধকে আটকের চেষ্টা চলছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুগ্ধ এলাকায় বখাটে ও মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, মুগ্ধ স্কুলে পড়ার সময়ই বখাটেপনা শুরু করে। তার বখাটেপনার কারণে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। ছোটখাটো চুরি, ছিনতাইয়ের সঙ্গেও সে জড়িয়ে পড়ে। কয়েক দিন আগে এলাকার একটি দোকান থেকে টাকা চুরি করে। ধরা পড়ার পর সেই টাকা ফেরত দেয়।

 স্কুলে পড়ার সময়ই সে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। বখাটেপনা ও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার কারণে তাকে বেশ কয়েক দিন ঢাকায় রাখা হয়। তবে ঈদে ফরিদপুরে নিয়ে আসা হয়েছিল।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow