Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০২:৫৪
সমালোচনাকারীদের নির্যাতন করবেন না
মুনের শেষ ভাষণ, গুটিকয় রাষ্ট্রের হাতে জিম্মি বিশ্ব
প্রতিদিন ডেস্ক
সমালোচনাকারীদের নির্যাতন করবেন না

জাতিসংঘের বিদায়ী মহাসচিব বান-কি মুন প্রশ্ন তুলেছেন, ‘গুটিকয় ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রের হাতেই আমাদের এই সমগ্র বিশ্ব আজীবন জিম্মি থাকবে কিনা?’ বিভিন্ন দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘সমালোচনাকারীদের বন্দি করবেন না। তাদের নির্যাতন করবেন না।

’ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে  মঙ্গলবার সর্বশেষ ভাষণে মুন এ কথা বলেন। খবর ডেইলি নেশনের। নিরাপত্তা পরিষদের সর্বময় ক্ষমতার দিকে ইঙ্গিত করে জাতিসংঘের সংস্কারের প্রশ্নটি জোরালোভাবে সামনে এনেছেন তিনি। মুনের মতে, এই সংস্থার ক্ষমতা গুটিকয় রাষ্ট্রের হাতে কুক্ষিগত থাকায় সারা বিশ্ব ওই কয়েকটি রাষ্ট্রের হাতে জিম্মি। বিশ্বের সব দেশের সম্মতিই যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। মুনের মতে, জাতিসংঘের স্বচ্ছ ও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। পরবর্তী মহাসচিবকে এ ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। বান-কি মুন বলেন, ‘জাতিসংঘের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এর বড় ধরনের সংস্কার অপরিহার্য। ’

নিরাপত্তা পরিষদের সর্বময় ক্ষমতাকে ইঙ্গিত করে বান-কি মুন বলেন, ‘প্রায়শই আমি দেখেছি যে বিশ্বের বহু বহু দেশের সমর্থিত কোনো প্রস্তাব সাধারণ সম্মতির নামে গুটিকয় রাষ্ট্র বাতিল করতে পারে। ’ ভেটো ক্ষমতার দিকে ইঙ্গিত করে মুন বলেন, ‘কখনো কখনো একটি রাষ্ট্রই অনেক দেশের সমর্থিত একটি প্রস্তাব বাতিল করে দিতে পারে। ’ গুটিকয় রাষ্ট্রের সাধারণ সম্মতিকে কোনোভাবেই সর্বসম্মতি ধরে নেওয়া যায় না উল্লেখ করে মুন বলেন, ‘যে বিশ্ব সংস্থাকে নিয়ে আমাদের এত আশা-আকাঙ্ক্ষা, তা ঠিক কেমন করে পরিচালিত হবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে বিশ্বের সব মানুষের। ’

জাতিসংঘে বিভিন্ন সময় আসা প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমি দেখছি প্রায়ই ঐকমত্যের নামে কয়েকটি কিংবা একটি দেশের কারণে ব্যাপকভাবে সমর্থিত প্রস্তাবগুলোও বাতিল হয়ে যায়। এখন প্রশ্ন আসে এটি কি সঠিক? একটি দেশ কিংবা কয়েকটি দেশে মিলে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখবে? গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিশ্বকে জিম্মি করে রাখবে?’ তিনি জাতিসংঘের মানবিক কর্মসূচিতে বিশ্বের সব দেশের সমন্বিত ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। কেউ যেন এ ধরনের কাজে বাধা সৃষ্টি না করে- তার আহ্বানও জানান। সেই সঙ্গে ‘জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধ থাকা উচিত’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow