Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:০৯
ফেড-ফিলিপাইনের অনুরোধে প্রকাশ হয়নি তদন্ত প্রতিবেদন
রিজার্ভ চুরি
মানিক মুনতাসির
ফেড-ফিলিপাইনের অনুরোধে প্রকাশ হয়নি তদন্ত প্রতিবেদন

নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম (ফেড) থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছে ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃপক্ষ ও ফিলিপাইন কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই মুহূর্তে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত কাজ ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করে ফিলিপাইন কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ছাড়া আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে চুরি হওয়া অর্থের পুরোটাই ফেরত দিতে অঙ্গীকার করেছে ফিলিপাইন কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রয়োজনে সে দেশের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনকে (আরসিবিসি) জরিমানা করে অর্থ আদায়ের বিষয়েও সম্মত হয়েছে ফিলিপাইন।

সম্প্রতি ফিলিপাইন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আমান্দো এম তেতাঙ্কো কর্তৃক বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরকে লেখা এক চিঠির সূত্র ধরে এসব তথ্য জানা গেছে। ওই চিঠির অনুলিপি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থমন্ত্রীর দফতরে পাঠনো হয়েছে। চিঠিতে তদন্ত প্রতিবেদন আপাতত প্রকাশ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তেতাঙ্কো। চীন, ভারত, ফিলিপাইন ও বাংলাদেশের যাদের নাম এসেছে তাদের ব্যাপারে ফিলিপাইনের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থা আরও জোরালো তদন্ত করছে বলে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ফিলিপাইনের সিনেটে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুনরায় শুনানি শুরু হবে জানানো হয়েছে। সূত্র জানায়, আগামী ১ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা রয়েছে। এ সময় তিনি নিউ ইয়র্কে ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রিজার্ভ চুরির বিষয়ে বৈঠক করবেন। সে সময় আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের আরেকটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটির নিউ ইয়র্ক সফরের কথা রয়েছে। ওই কমিটি মূলত রিজার্ভ চুরি তদন্ত ও অর্থ ফেরতের বিষয়ে সে দেশের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করবে বলে জানা গেছে। নিউ ইয়র্ক সফরের সময় অর্থমন্ত্রী বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এর একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন। সেসব বৈঠকেও বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে। জানা গেছে, চীনা ব্যবসায়ী উইলিয়াম গো এবং ক্যাসিনো জাংকেট কিম অং-এর ব্যাপারে আরও তদন্ত করা হচ্ছে। দেড় কোটি ডলার তারা ফেরত দিয়েছে। সেটা দ্রুততম সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের অ্যাকাউন্টে জমা হবে। পাশাপাশি আরও যে ২০ মিলিয়ন ডলার আন্তর্জাতিক লেনদেন সম্পন্নকারী ফিলিপাইনের প্রতিষ্ঠান ফিলরিমের কাছে রয়েছে, তাও ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে জোর তত্পরতা চালানো হচ্ছে। এদিকে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়ী বা সন্দেহভাজন কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা, তা জানতে চেয়েছে বিশ্বব্যাংক। এমনকি ফিলিপাইনের ব্যাংক আরসিবিসি বা ফেডের বিরুদ্ধে অর্থ উদ্ধারে মামলা করবে কিনা, সে ব্যাপারেও প্রশ্ন রেখেছে বিশ্ব্যাংক। অর্থমন্ত্রীর ওয়াশিংটন সফরের সময় এ বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow