Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১১
তীরে তোলা হলো লঞ্চটি
উদ্ধার ২৪ লাশ নিখোঁজ ২
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

সন্ধ্যা নদীতে বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। গতকাল সকাল পর্যন্ত তারা ডুবে যাওয়া লঞ্চ তল্লাশি করে আরও চার শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে। এ নিয়ে ৫ শিশু, ৬ নারীসহ মোট ২৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হলো। তবে আরও ২ জন নিখোঁজ আছেন বলে পুলিশের তালিকায় বলা হয়েছে।

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার দাসেরহাট সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীতে গত বুধবার বেলা ১১টায় এই লঞ্চ ডুবির ঘটনা ঘটে। লঞ্চটি ২১ ঘণ্টা পর গতকাল উদ্ধার করা হয়। বিআইডব্লিউটিএর সূত্র জানায়, উদ্ধারকারী জাহাজ নির্ভীক গতকাল সকাল পৌনে ৯টায় নদীর প্রায় ৫০ ফুট গভীর থেকে লঞ্চটি পানির উপরিভাগে টেনে তোলে। এ সময় তল্লাশি করে আরও চার শিশুর লাশ পাওয়া যায়। এর আগে গত বুধবার দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা এক নারীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনা তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে দুর্ঘটনায় ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নৌযানটি পানির উপরে টেনে তোলার পরপরই উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। বানারীপাড়া থানার ওসি জিয়াউল আহসান জানিয়েছেন, উদ্ধারের পর দুর্ঘটনাকবলিত নৌযানটি আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট নৌযান মালিকের বিরুদ্ধে মামলাসহ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। অবৈধভাবে লঞ্চ চালিয়ে এতগুলো মানুষের প্রাণহানির অভিযোগে নৌযান মালিক ইউসুফ আলী হাওলাদারকে আটকেরও চেষ্টা চলছে। লঞ্চটির পারমিট না থাকার বিষয়ে বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএর লোকবল সংকট রয়েছে। এসব অননুমোদিত নৌযান চলাচল বন্ধের জন্য স্থানীয় পুলিশ এবং প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারপরও এ ধরনের অনেক নৌযান চলাচল করছে। দুর্ঘটনাকবলিত নৌযান ঐশী প্লাস-এর মালিক বানারীপাড়া পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইউসুফ আলী হাওলাদারের বিরুদ্ধে মেরিন আইনে মামলাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ সরেজমিন দেখা গেছে, স্বজনরা গতকালও নদীতীরে আহাজারি করেছেন। তারা জীবিত কিংবা মৃত নিখোঁজ স্বজনের খোঁজ না পেয়ে ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি, নিখোঁজদের বিষয় সুরাহা না করেই উদ্ধার কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এতে তারা ক্ষুব্ধ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow