Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৩
প্রধানমন্ত্রীর এই আহবান বিশ্ব মানবিকতার ডাক
জুলকার নাইন
প্রধানমন্ত্রীর এই আহবান বিশ্ব মানবিকতার ডাক
ড. এ কে আবদুল মোমেন

বিশ্ব শান্তির লক্ষ্যে বিশ্ব নেতাদের একমঞ্চে উপনীত হতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানকে বিশ্ব মানবিকতার ডাক হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদ্য সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের এই অস্থির সময়কে মোকাবিলার জন্য বিশ্ব নেতাদের একসঙ্গে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। বিশ্ব নেতারা যদি একমঞ্চে একসঙ্গে কাজ করেন তবেই এই মহাসংকট   মোকাবিলা করা সম্ভব। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ আহ্বান অত্যন্ত যুগোপযোগী এবং এটাই এখন একমাত্র সমাধান। গতকাল জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণের তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন ড. এ কে আবদুল মোমেন। দীর্ঘ সাত বছর জাতিসংঘে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, বর্তমান বিশ্বে শরণার্থী সংকট সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে। প্রায় ৬ কোটি শরণার্থী নিদারুণ জীবনযাপনে বাধ্য হয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক অভিবাসীর সংকট এখন বিশ্বের দেশে দেশে। লিবিয়া, সিরিয়া প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। পাকিস্তানেও শান্তির লেশমাত্র নেই। বাংলাদেশ সবসময়ই শান্তির পক্ষে। আর এই শান্তির পক্ষে এদেশের সবচেয়ে অগ্রগামী নেতা শেখ হাসিনা। তিনি ক্ষমতায় আসায় আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে এত বিশাল সমুদ্রসীমার মীমাংসা হয়েছে বিন্দুমাত্র রক্তপাত ছাড়া। সে হিসেবে শেখ হাসিনা শান্তির পক্ষে পরীক্ষিত নেতা। অবশ্য বিশ্ব নেতারাও এ বিষয়ে অবগত আছেন। কারণ গত কয়েক বছরে প্রত্যেকবারই জাতিসংঘে শান্তির পক্ষে রেজ্যুলেশন উপস্থাপন করে এসেছে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে উল্লেখ করেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সহিংস-সংঘাতের উন্মত্ততা অব্যাহত রয়েছে। অকারণে অগণিত মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। যারা সংঘাত থেকে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছেন, প্রায়ই বিভিন্ন দেশ তাদের নিরাপত্তা দিতে অস্বীকার করছে। কখনো কখনো অত্যন্ত জরুরি মানবিক চাহিদা অগ্রাহ্য করা হচ্ছে অথবা সেগুলো প্রবেশে বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিশ্ব নেতাদের কাছে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, কী অপরাধ ছিল সাগরে ডুবে যাওয়া সিরিয়ার ৩ বছর বয়সী নিষ্পাপ শিশু আয়লান কুর্দির? কী দোষ করেছিল ৫ বছরের শিশু ওমরান, যে আলেপ্পো শহরে নিজ বাড়িতে বসে বিমান হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। একজন মা হিসেবে আমার পক্ষে এসব নিষ্ঠুরতা সহ্য করা কঠিন। এ প্রসঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রদূত মোমেন বলেন, ‘বিশ্বে বর্তমানে একটি অমানবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই অমানবিক পরিস্থিতির অবসানে মানবিকতার ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী। নিশ্চয়ই পরবর্তীতে এ বিষয়ে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা  নেবে বাংলাদেশ। সেটা সফল হলে বিশ্ব মানবিকতায় একটি মাইলফলকের সৃষ্টি হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow