Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:০০
সম্পদ সমস্যায় বিএনপি
অর্থপাচার মামলায় তারেক রহমানের সাজা । খোকার ৫০ একর জমি-বাড়ি বাজেয়াপ্ত । মওদুদের বাড়ি হাতছাড়ার শঙ্কা । মোশাররফ আব্বাস টুকু মিন্টু আমানসহ অনেকেই সম্পত্তি নিয়ে সংকটে
নিজস্ব প্রতিবেদক
সম্পদ সমস্যায় বিএনপি
মওদুদ আহমদের বাড়ি - সাদেক হোসেন খোকার বাড়ি

অর্জিত সম্পদ নিয়েও বেকায়দায় পড়ছেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতারা। তাদের সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে ওয়ান-ইলেভেনের শাসনকালে দায়ের হওয়া এসব মামলাজনিত হয়রানিতে ভুগছেন তারা। এরই মধ্যে অর্থ পাচারের এক মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার ১০ কোটি ৫ লাখ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গুলশানে তার ছয়তলা একটি বাড়ি এখন সরকারের দখলে। দলের স্থায়ী কমিটির  সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বাড়িও হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা। অবশ্য আইনি লড়াইয়ের শেষ ধাপে বাড়ি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সাবেক এই আইনমন্ত্রী। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের হওয়া এক মামলায় প্রায় দুই বছর জেল খেটে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমানসহ আরও অন্তত এক ডজন নেতার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের মামলার খড়গ ঝুলছে।এ প্রসঙ্গে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দুর্নীতির মামলায় তাড়াহুড়া করার কোনো সুযোগ নেই। যেভাবে তড়িঘড়ি করে বিএনপি নেতাদের সাজা দেওয়ার চেষ্টা চলছে, তাতে মনে হয় অরাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য আছে। ওয়ান-ইলেভেনে সরকারের প্রথম সারির সব নেতারাই অভিযুক্ত ছিলেন। তারা সবাই এখন মুক্ত। বিএনপি নেতারা এখন নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এটা ঠিক নয়। এক মামলায় একজন খালাস পাবেন, আরেকজন শাস্তি পাবেন— তা আইনের পরিভাষা হতে পারে না। উচ্চ আদালতের অনুমতি নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকাকে সাজার রায় দেওয়া হয়েছে। তাকে আপিলের সুযোগও দেওয়া হয়নি। বিএনপির সিনিয়র অন্য নেতাদের বিরুদ্ধেও একই মনোভাব সরকারের। এটা আইনের শাসনের পরিপন্থী।’

তারেক রহমানের সাত বছরের সাজা : অর্থ পাচারের মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ২০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে আদালত। মামলায় তারেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ঘুষ হিসেবে গ্রহণের পর ২০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের। এর রায়ে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ মো. মোতাহার হোসেন ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দেন। খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আপিল করে হাইকোর্টে। অপরদিকে এ মামলায় নিম্ন আদালত থেকে তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ৪০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের করা আপিলের রায়ে তার সাজা বহাল রেখে জরিমানার পরিমাণ কমানো হয়েছে। তাকে সাত বছরের কারাদণ্ডসহ ২০ কোটি টাকা জরিমানা করে হাইকোর্টের বেঞ্চ। রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, এর বিরুদ্ধে আসামিরা চাইলে আপিল বিভাগে যেতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে তারেক রহমানকে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

গুলশানের বাড়ি ছাড়তে হচ্ছে মওদুদকে : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তিন দশক ধরে যে বাড়িতে বসবাস করছেন, সেই বাড়ি তার ভাই মনজুর আহমদের নামে মিউটেশন (নামজারি) ও ডিক্রি জারি করতে হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপিল বিভাগে বাতিল হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে মওদুদের বিরুদ্ধে সরকারি বাড়ি আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলাও আর টিকছে না। সর্বোচ্চ আদালতের এ রায়ের ফলে মওদুদ আহমদকে গুলশান-২ নম্বর সেকশনের ১৫৯ নম্বর প্লটের ওই বাড়ি হারাতে হচ্ছে। রাজউক এখন বাড়িটি নিজেদের তত্ত্বাবধানে নেবে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক টুটুল। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাজউকে ও রাষ্ট্রপক্ষের করা তিনটি আপিল মঞ্জুর করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় দেয়। এ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সাত বছর পর প্রতিহিংসাবশত সরকার আপিল করেছে। ১৯৮১ সাল থেকে আমরা এই বাড়িটিতে বসবাস করছি। এটি ক্রয় করা বাড়ি, সরকারের বাড়ি নয়। আপিল বিভাগের রায় দেখে আমরা অবশ্যই রিভিউ করব।’

সম্পদের তথ্য গোপন মামলায় জেল খাটলেন মোশাররফ : জোট সরকারের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৮ সালের ১০ জানুয়ারি রমনা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় ‘জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১২ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন এবং ৩ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের’ অভিযোগ আনা হয়। এরপর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ দুর্নীতির মামলা বাতিলে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের আবেদন খারিজ করে দেয়। এর বিরুদ্ধে খন্দকার মোশাররফ আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির কাছে আবেদন করেন। চেম্বার বিচারপতি বিষয়টি শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। আপিল বিভাগ ড. মোশাররফকে আপিলের অনুমতি দেয়। ওই মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য ২০১৪ সালের ১২ মার্চ গ্রেফতার হন। প্রায় দুই বছর কারাগারেও ছিলেন। এখন তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে জেলের বাইরে রয়েছেন। ওই মামলার সাক্ষী চলছে। তার বিরুদ্ধে আরও অন্তত ১৫টি রাজনৈতিক মামলা চলমান।

মির্জা আব্বাসের সম্পদ-মামলা বেশি : সর্বশেষ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মির্জা আব্বাসের সম্পদ সবচেয়ে বেশি ছিল। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকার ওপরে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৩৭টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দাখিল করা প্রার্থীর হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। অতীতে ২৪টি মামলা ছিল। যার মধ্যে দুটো ‘নন সেন্টআপ’ ও ১৫টি মামলায় অব্যাহতি বা খালাস পেয়েছেন বলেও হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি। মির্জা আব্বাস নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও দোকানসহ অন্যান্য ভাড়া বাবদ তার বছরে আয় ১ কোটি ৫ লাখ ৮১ হাজার ৫৪৩ টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে বাৎসরিক আয় ৬ কোটি ২৭ লাখ ১৫ হাজার ২৯০ টাকা এবং অন্যান্য খাতে ১ লাখ ৭৪ হাজার ২৫০ টাকা। এ ছাড়া অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে তার নগদ ৫০ লাখ টাকা রয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ, মোটরগাড়ি, অকৃষিজ জমি, আবাসিক ও বাণিজ্যিক দালান ও অন্যান্য মিলিয়ে মোট সম্পদ রয়েছে ১০০ কোটি ৭০ লাখ ৭১ হাজার ৯৮৫ টাকা। ব্যাংকের কাছে তার ঋণ রয়েছে ৭৫ কোটি ৬৫ লাখ ২৫ হাজার ৯০৩ টাকা। হলনামায় আব্বাস তার স্ত্রীর নামেও প্রায় ১৩ কোটি টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন। এ সম্পত্তি নিয়ে নানা ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে তাকে।

খোকার বাড়ি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত : ক্যান্সারের চিকিৎসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করছে সরকার। সম্প্রতি তার ১০ কোটি ৫ লাখ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সরকার। এর মধ্যে গুলশানে ছয়তলার একটি বাড়িও রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা একই মামলায় তাকে ১৩ বছরের সাজাও দেওয়া হয়। খোকার মালিকানাধীন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় অবস্থিত বুড়িগঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে একটি প্রকল্পের ৫০ একর ৮৯ শতাংশ জমি বাজেয়াপ্ত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এ ছাড়া গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় সাদেক হোসেন খোকার নামে জমি রয়েছে। কালিয়াকৈরের মৌজা-উত্তর বক্তারপুরে। জমির পরিমাণ ৭ একর ৪৭ শতাংশ। সফিপুরে মৌজা বাঁশতলী, তালতলী, কাঁচারস ও বাগাম্বরে ৭৪ একর। এ ছাড়া শ্রীফলতলী মৌজা জানের চালায় ৪৭ শতাংশ জমি। এগুলো যে কোনো দিন বাজেয়াপ্ত করা হবে। আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

আবদুল আউয়াল মিন্টু : বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর নির্বাচনী হলফনামায় দেখা গেছে, তার রয়েছে ১৪টি প্রতিষ্ঠান। বার্ষিক আয় ৫ কোটি ১৮ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৩ টাকা। কৃষি খাতে আয় ৩ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৫২২ টাকা। বাড়ি ভাড়া পান ৯ লাখ ৪ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যবসায় (পারিতোষিক) আয় ৯৩ লাখ টাকা। শেয়ার ও ব্যাংক আমানতে আয় ২৪ লাখ ৩০ হাজার ৬৭০ টাকা। এ ছাড়াও মূলধনী লাভ ৪১ লাখ ১০ হাজার ৮১১ টাকা। মিন্টুর অস্থাবর সম্পদ আছে ৫৩ কোটি ৯৮ লাখ ৬৩ হাজার ২১৭ টাকার। তার স্ত্রীর আছে ৯ কোটি ১২ লাখ ১৭ হাজার ৫৪৩ টাকা। আবদুল আউয়াল মিন্টু তার ছেলে তাফসির মোহাম্মদ আউয়ালের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন ১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট থেকে ঋণ এক কোটি ৮১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ফ্ল্যাট ভাড়া থেকে অগ্রিম নিয়েছেন এক লাখ ৬ হাজার টাকা। ব্যাংক ঋণ নিয়েছেন এক কোটি ৪৭ লাখ ২৬ হাজার ৩১৭ টাকা। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে ১৩টি। তিনিও এখন সরকারের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন।

সাজা হয়েছে আমানেরও : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমানকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড এবং তার স্ত্রী সাবেরা আমানকে তিন বছরের কারাদণ্ডও দেয় আদালত। এই রায়ে একই সঙ্গে অবৈধ উপায়ে অর্জিত প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয়। রায়ে আমানের নামে ৩ কোটি ৩১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সম্পদ এবং সাবেরা আমানের নামে ৬ কোটি ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৩২ টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয়। ২০১০ সালের ১৬ আগস্ট হাইকোর্ট আপিল মঞ্জুর করে তাদের খালাস দেয়। পরে দুদক আপিল করলে ২০১৪ সালের ২৬ মে হাইকোর্টে দেওয়া রায় বাতিল ঘোষণা করে আপিল বিভাগ।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু : ৪ কোটি ৯৬ লাখ ১১ হাজার ৯১৬ টাকার সম্পত্তির হিসাব ও আয়ের উৎস গোপন করার অভিযোগে দুদকের উপ-পরিচালক শাহরিয়ার চৌধুরী ২০০৭ সালের মার্চে সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। কমিশনের উপ-পরিচালক এসএমএম আখতার হামিদ ভূঞা ওই বছরের ২৮ জুন মহানগর হাকিম আদালতে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেন। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত এ মামলার রায়ে টুকুকে নয় বছরের কারাদণ্ড দেয়।

মীর নাছির ও হেলাল : অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় ২০০৭ সালের ৪ জুলাই মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেয় বিশেষ আদালত। এ কাজে বাবাকে সহযোগিতা করার দায়ে ছেলে মীর হেলালকেও তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে ২০১০ সালের আগস্টে হাইকোর্ট এই পিতা-পুত্রকে খালাস দেয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে দুদক পৃথক পৃথক আপিল করলে ২০১৪ সালের ৪ জুলাই খালাসের রায় বাতিল করে পুনঃ শুনানির আদেশ দেয় আপিল বিভাগ। হাইকোর্টে ওই মামলা চলমান।

মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী : ২০০৭ সালে কুমিল্লার দেবিদ্বারের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বিশেষ জজ আদালত ১৩ বছরের কারাদণ্ড, ৬৫ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেয়। মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, তার স্ত্রী মাজেদা আহসান, ছেলে রিজওয়ানুল আহসান ও রিজভিউল আহসানের বিরুদ্ধে ৬ কোটি ৫৫ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭৯ টাকার সম্পদ অসাধু উপায়ে অর্জনে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয় মামলাটিতে। পরে হাইকোর্টে আপিলের পর খালাস পান মুন্সী। দুদক এ খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করলে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে পুনরায় শুনানির আদেশ দেয়।

ওই মামলা চলমান বলে জানা গেছে।

up-arrow