Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:০৩
একে অপরকে দুষছে ভারত-পাকিস্তান
প্রতিদিন ডেস্ক

কাশ্মীরের অশান্ত পরিবেশ ও উরি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আবারও উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে ভারত ও পাকিস্তান সম্পর্ক। বিশেষ করে ভারত উরিতে হামলার জন্য পাকিস্তানের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ছে।

তবে পাকিস্তান ওই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। অপরদিকে পাকিস্তান নতুন করে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে, বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসে মদদ দিচ্ছে দিল্লি সরকার।

গত রবিবার ভোরে জম্মু-কাশ্মীরের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী উরি এলাকার একটি সেনা ব্রিগেডের সদর দফতরে হামলা হয়। এতে ১৭ সেনা ও চার হামলাকারী নিহত হন। এ ছাড়া এ ঘটনায় আহত ৩৫ সেনাকে সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী এবং কড়া জবাব দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন ভারতীয় সাবেক ও বর্তমান সেনারা। তবে উড়ি হামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাফিজ জাকারিয়া বলেন, উরি হামলায় পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, উরিতে হামলার ঘটনা অধিকৃত কাশ্মীরে ভারতের কর্মকাণ্ড থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর সরানোর একটি অপচেষ্টা। নাফিজ জাকারিয়া পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনকে বলেন, পাকিস্তানে যেসব সন্ত্রাস হচ্ছে তাতে অর্থায়ন এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদদ দিচ্ছে ভারত। নাফিজ জাকারিয়া দাবি করেন, বেলুচিস্তান, করাচিসহ পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলের সন্ত্রাসীদের অর্থায়ন করছে ভারত। এমন অভিযোগের পক্ষে শক্ত প্রমাণ আছে বলে দাবি তার। জাতিসংঘের ৭১তম সাধারণ অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ দাবি করেন, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে দেশটির সেনাবাহিনী নৃশংসতা চালাচ্ছে। কাশ্মীর বিষয়ে জাতিসংঘের অধিবেশনে আলোচনার দাবি জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

সিন্ধু চুক্তি বাতিল করতে চায় ভারত : ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলা উত্তেজনার মধ্যে সিন্ধু নদের পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে ভারত। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সিন্ধুর পানি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আছে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপের বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে। সিন্ধু নদের পানি বণ্টনের বিষয়টি ভারত সরকারের বিবেচনায় আছে জানিয়ে বিকাশ বলেছেন, ‘যে কোনো সহযোগিতামূলক ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজন উভয় পক্ষের সুসম্পর্ক এবং সহযোগিতা। ’ সিন্ধু নদের উৎসমুখ ভারতে। পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে তা মিশেছে আরব সাগরে। ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু নদের পানি বণ্টন নিয়ে চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী ভারত সিন্ধু নদের মাত্র ২০ শতাংশ ব্যবহার করে। আর যদি নদের পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয় ভারত তবে মারাত্মক সমস্যায় পড়বে পাকিস্তান। দেশটি সেচ থেকে শুরু করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য পাকিস্তান সিন্ধুর এসব শাখার ওপর নির্ভরশীল।

কাশ্মীরের সমস্যায় নাক গলাতে নারাজ জাতিসংঘ : কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘকে কাজে লাগাতে চায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। কিন্তু কাশ্মীরের সমস্যা ভারত ও পাকিস্তানকে আলোচনা করেই মেটাতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সংস্থাটির মহাসচিব বান কি মুন। পাকিস্তানের দূতাবাস জানিয়েছে, কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনীর ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ নিয়ে একটি নথি দুই দিন আগে জাতিসংঘের মহাসচিবের হাতে তুলে দিয়েছেন নওয়াজ শরিফ। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, কাশ্মীরের পরিস্থিতি জানতে জাতিসংঘের নিরপেক্ষ তদন্ত একান্ত প্রয়োজন। ভারতকে জাতিসংঘের কাশ্মীর সংক্রান্ত প্রস্তাব মেনে চলতে বলার জন্যও বানকে অনুরোধ করেন শরিফ। জবাবে বান কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে ভারত-পাক আলোচনার ওপরই জোর দিয়েছেন। তার মতে, কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ এশিয়ার স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি। মহাসচিব হিসেবে তিনি সাধারণ পরিষদের শেষ বক্তৃতায় আইএসের উপদ্রব, সিরিয়া সমস্যা, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের মতো নানা বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। কিন্তু সেখানেও কাশ্মীর নিয়ে কোনো কথা বলেননি মুন। এএফপি, এনডিটিভি

up-arrow