Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:২৯
চোখ ধাঁধানো আয়োজন
আসছেন ভারতের অমিত শাহ রাহুল মমতা, পাকিস্তানের ইমরান খানসহ ১০০ বিদেশি রাজনীতিবিদ, ১০ দিন জুড়ে ঢাকায় আলোকসজ্জা, থাকছে ডিজিটাল শোডাউন
রফিকুল ইসলাম রনি
চোখ ধাঁধানো আয়োজন

সব কিছু মিলিয়ে জাঁকালো সম্মেলন করতে যাচ্ছে উপমহাদেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। এই শাসক দলের ত্রিবার্ষিক জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর।

সম্মেলনের স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার, এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার। ’ সম্মেলনে ব্যবহার করা হবে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার। ১০ দিন আগেই রাজধানীতে আলোকসজ্জা করানো হবে। উৎসবমুখর এ কাউন্সিলে দেড় শতাধিক বিদেশি রাজনীতিবিদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

জানা যায়, ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং কংগ্রেসের সহসভাপতি রাহুল গান্ধী, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট গো ইয়ে জো, সাবেক ক্রিকেটার ও পাকিস্তানের তেহরিক ই-ইনসাফের সভাপতি ইমরান খানসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রাজনীতিবিদ অতিথি থাকবেন সম্মেলনে।

কাউন্সিলর ও ডেলিগেট দিয়ে ৫০ হাজার লোকের সমাগম ঘটবে ঢাকায়। তাদেরও দুই দিন খাওয়া ও থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ১০ দিন আগে থেকেই আলোকসজ্জা করা হবে পুরো রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ প্রবেশপথ। ডিজিটাল ডিসপ্লেতে দেখানো হবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সব উন্নয়ন। তুলে ধরা হবে দল গঠন থেকে শুরু করে আন্দোলন-সংগ্রামের পথপরিক্রমা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মূলমঞ্চের সামনে বালি শিল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য।

জানা যায়,   নৌকা আকৃতির মঞ্চ তৈরি করা হবে। মঞ্চের উচ্চতা হবে মাটি থেকে ২৫ ফুট। মঞ্চের পেছনে ৩৫ ফুট উচ্চতার এলইডি পর্দা থাকবে। মঞ্চের সামনের দিকে স্বচ্ছ কাচের খুঁটিবিহীন একটি গ্যালারি তৈরি করা হবে। যার আকার হবে ২৩০ ফুট বাই ১২৫ ফুট। সেখানে সাত হাজার অতিথির আসন থাকবে। ৪০ হাজার মানুষের ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন প্যান্ডেল করা হবে। সম্মেলনে ৫০ হাজার ডেলিগেট ও কাউন্সিলের অংশগ্রহণ হবে। তাদের দুই দিন থাকা ও খাওয়ার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলার পৃথক পৃথক স্থান থাকবে। এদিকে বিদেশি অতিথিদের জন্য আপ্যায়ন, ঘোরাফেরা এমনকি রাতযাপনেও রাজকীয় আতিথেয়তার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, দেশি বিনোদন, রাজনৈতিক দর্শন ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো পরিদর্শনের ব্যবস্থাও করেছে দলটি। সবমিলে জমকালো সব আয়োজন করা হয়েছে আওয়ামী লীগের এবারের কাউন্সিলে। আসন্ন কাউন্সিলকে জাঁকজমক করতে ঢাকাসহ সারা দেশে আলোকসজ্জার মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরা হবে। ১০ দিন আগেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ ফ্লাইওভার প্রবেশদ্বারে আলোকসজ্জা করা হবে। দিন-রাত ধরে বড় বড় এলইডি স্ক্রিনে দেখানো হবে দলটির ইতিহাস, ঐতিহ্য, অর্জন ও উন্নয়নের চিত্র। এরই মধ্যে সেসব ডকুমেন্টারি নির্মাণ করা হয়েছে। জাতীয় কাউন্সিলে আসা কাউন্সিলর ও ডেলিগেটরদের দুই দিনের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ছাড়াও দুই দিন ধরেই রাজধানীর প্রতিটি প্রবেশদ্বারে এবং সম্মেলন স্থলের চতুর্দিকে একাধিক মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ প্রবেশপথগুলোতে দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এবারের সম্মেলন হবে ভিন্নধাঁচের। দলের ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি বিদেশি মেহমানের অংশগ্রহণসহ নানা চমক থাকবে।

যোগ দেবে ১০০ বিদেশি অতিথি : কাউন্সিল সফল করতে গঠিত উপকমিটির নেতারা এখন দম ফেলার সময় পাচ্ছেন না। আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিদেশি রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পর্ক সুদৃঢ় তার প্রমাণ দিতে চান ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। এ জন্য দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম সম্পাদক ডা. দীপু মনি, আন্তর্জাতিক সম্পাদক কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খানসহ অনেকেই বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। এবারের সম্মেলনে যোগদানের জন্য ২৭ দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলের ৮৫ জন নেতা, সাংবাদিক এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আরও ১৫ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। আগামী ৩০ তারিখের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে কারা কারা কাউন্সিলে যোগ দিতে বাংলাদেশে আসছেন। ইতিমধ্যে প্রতিবেশী দেশ ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ এবং কংগ্রেসের সহসভাপতি রাহুল গান্ধীকে আমন্ত্রণ করেছেন বলে জানা গেছে। এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিফোনে মমতাকে আমন্ত্রণ দেবেন বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র। এ ছাড়া ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে আনার ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট গো ইয়ে জো ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পাকিস্তানের তেহরিক ই-ইনসাফের সভাপতি ইমরান খানকে ঢাকায় আনতে যোগাযোগ করা হচ্ছে। অপরদিকে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল জাফরকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নেতা জেরিমি করবায়েন, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির নেতা নিকোলাস স্টারজিওন, কনজারভেটিব দলের নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী থেরাস মে, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির টিম ফারেনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির সাবেক সিনেটর টিম কেইন, প্রতিনিধি জো বাইডেনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া রিপাবলিক দল থেকে পল রায়ান এবং কেভিন ম্যাকার্থিকে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সৌদি আবর, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, মালদ্বীপ, জাপান, জার্মানি, তুরস্কের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাঙালি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও এর সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির মেলবন্ধন সৃষ্টির প্রয়াস, বিভিন্ন বিনোদন স্পট পরিদর্শন। তবে সম্মেলন শুরুর আগেই বিদেশি মেহমানদের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, জাতীয় জাদুঘর, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন, ভবন পরিদর্শন ও ১৫ আগস্টের শোকগাথা ঘটনার স্মৃতিচারণ থাকছে।

বালি শিল্পে ফুটিয়ে তোলা হবে ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘স্যান্ড আর্ট’-এর মাধ্যমে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরা হবে। সেখানে থাকবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, শেখ রাসেলসহ ১৫ আগস্ট কালরাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার সবার প্রতিকৃতি। কাউন্সিল উপলক্ষে গঠিত মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপপরিষদ এমন পরিকল্পনাই করেছে বলে জানিয়েছেন উপকমিটির সদস্য সচিব মির্জা আজম।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow