Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৩১
গণসংযোগে নামবেন খালেদা
জেলায় জেলায় জনসভা, জোটের যুগপৎ কর্মসূচি
শফিউল আলম দোলন ও মাহমুদ আজহার
গণসংযোগে নামবেন খালেদা

দলকে চাঙ্গা করতে আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে মাঠে নামছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সাংগঠনিক বিভাগীয় পর্যায়ে শুরু করবেন গণসংযোগ কর্মসূচি। এ মুহূর্তে শান্তিপূর্ণ জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি পালনই লক্ষ্য দলটির। এতে সম্পৃক্ত করা হবে ২০-দলীয় জোটকেও। পাশে চায় সরকারবিরোধী অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও। কোন কোন জেলায় এ কর্মসূচি হবে, তা নিয়ে কাজ করছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বন্ধের দাবির পাশাপাশি চলমান অন্যান্য ইস্যুও তুলে ধরবেন বেগম জিয়া। একই সঙ্গে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে গ্রহণযোগ্য সার্চ কমিটির দাবিতে জনমত তৈরির চেষ্টা করবেন। এ নিয়ে দলীয়ভাবে রূপরেখাও দেবেন বিএনপি-প্রধান। এর আগেই গুরুত্বপূর্ণ জেলার অসমাপ্ত সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়াও শেষ করতে চান তিনি। দলীয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা যায়, কর্মসূচি প্রণয়নে শিগগিরই দলের স্থায়ী কমিটির সঙ্গে বৈঠক করবেন বেগম খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে জোটের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি। সরকারবিরোধী অন্য দলগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠকেই নতুন কর্মসূচির রোডম্যাপ তৈরি করা হবে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সময়ের প্রয়োজনে রাজনীতির গতি-প্রকৃতি পরিবর্তন হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গণসংযোগ শুরু করবেন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নামব। আজ দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়ারও উপক্রম হয়েছে। এ অবস্থার উত্তরণে কালবিলম্ব না করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীন জাতীয় নির্বাচন জরুরি। এজন্য প্রয়োজন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন। আমরা আশা করি, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে জনমতের প্রতিফলন ঘটবে।’ সূত্রে জানা যায়, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটিতে কারা আসতে পারেন, তার একটি তালিকা দেবে বিএনপি। এ নিয়ে রাষ্ট্রপতি কোনো সংলাপের আয়োজন করলে তাতেও অংশ নেবে। সেখানে বিএনপির তালিকা তুলে ধরা হবে। এ নিয়ে জনমত গঠনে নানা উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। দলমতনির্বিশেষে সবাইকে এ ইস্যুতে এক কাতারে আসার আহ্বান থাকবে বিএনপির। সূত্রমতে, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনে দেশের রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি কূটনৈতিক তত্পরতাও চালাচ্ছে বিএনপি। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে এ বিষয়টি তুলে ধরেছে দলটি। আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সে ক্ষেত্রে বিএনপির পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, নিরপেক্ষ নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি একটি গ্রহণযোগ্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও প্রয়োজন। বিএনপিকে আশ্বস্ত করে জন কেরি বলেছেন, আগামীতে বাংলাদেশে একটি ইনক্লুসিভ নির্বাচনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে। বিষয়টি নিয়ে তারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গেও কথা বলবে। বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানান, নতুন নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে। কিন্তু সরকার বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নির্বাচনে অযোগ্য করার নানা ষড়যন্ত্র করছে। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ আদালতকেও ব্যবহার করছে। সরকারের চাপে অনেক নেতাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। কারও কারও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জনমতকে ভয় করার কারণেই সরকার এ ধরনের অপতত্পরতা চালাচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সরকার টিকে থাকার জন্য বিরোধী দল নির্মূলের পরিকল্পনা নিয়েছে। তাদের পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে। তারা জনগণের সমস্যাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। বিএনপি যেহেতু জনগণের দল তাই জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আগামী দিনের সব কর্মসূচি পালন করবে। জনগণের জবাবদিহিতামূলক সরকার গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দাবিতে হরতাল-অবরোধের মতো দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে বিএনপি। ওই নির্বাচন ঘিরে তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহাণি ঘটে। দেশি-বিদেশি সব মহলের তোপের মুখে পড়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। জন কেরিও ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকতে বিএনপিকে অনুরোধ জানান। নানা হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে বিএনপি এখন জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির কথা চিন্তাভাবনা করছে। এর মধ্যে রামপাল কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, নতুন করে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনাসহ জনগণের নানামুখী সমস্যা নিয়েই মাঠে থাকার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জানা যায়, এ নিয়ে জোটের বাইরের সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে কাছে টানার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে বিএনপি। দেশ ও জনগণের স্বার্থে বৃহত্তর একটি ‘রাজনৈতিক প্লাটফরম’ গড়ার প্রচেষ্টাও রয়েছে বিএনপির। জাতীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে সব রাজনৈতিক দল, সংগঠনসহ শ্রেণিপেশানির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের জন্য তাদের দরজা সদা উন্মুক্ত বলেও জানান বিএনপি নেতারা। এরই অংশ হিসেবে সরকারবিরোধী কয়েকটি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বিএনপি। যদিও বিএনপির সঙ্গে প্রকাশ্যে জোট করতে কয়েকটি দল ইতিমধ্যে অনীহা প্রকাশ করেছে। চলতি বছরের ১৯ মার্চ দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কাউন্সিল করে বিএনপি। সম্মেলনের সাড়ে পাঁচ মাস পর গত মাসে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটিও একই দিন ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া ২৯ আগস্ট ঢাকা জেলার কমিটি (আংশিক) ঘোষণা করা হয়। একই দিনে জেড এম রেজওয়ানুল হককে আহ্বায়ক করে দিনাজপুর জেলা কমিটিও ঘোষণা করা হয়। বিএনপির ৭৫টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ১০টির কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি বছরে বাকি ৬৫টি জেলা কমিটি করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। অক্টোবরের মধ্যে আরও অন্তত গুরুত্বপূর্ণ ১০টি জেলায় কমিটি পুনর্গঠন করার চিন্তা বিএনপির। চলতি বছরে সব জেলা পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, ‘অক্টোবরের মধ্যে বেশ কয়েকটি জেলার পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। এ নিয়ে যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সহসাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে দুই দফা বৈঠকও হয়েছে। আমরা খুব শিগগিরই জেলা পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠনের কাজ শুরু করব। দল গুছিয়ে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত করাই আমাদের লক্ষ্য।’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow