Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৩৩
জাতীয় নির্বাচনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা করছে জাপা
শফিকুল ইসলাম সোহাগ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সারা দেশে সাংগঠনিক তত্পরতা জোরদার করেছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। ইতিমধ্যে পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা সারা দেশে অনানুষ্ঠানিক গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু করেছেন। পার্টির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা নিজ নিজ জেলা কমিটির নেতাদের সঙ্গে সভা করছেন। আগামী ১ অক্টোবর থেকে সারা দেশে আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক সফর শুরু করবেন পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ওই দিন পার্টি চেয়ারম্যান সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে এ সফর শুরু করবেন। জানতে চাইলে পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নির্বাচন যখনই হোক, এখন থেকেই আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকতে চাই। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তৃণমূলে দলকে সংগঠিত করার পাশাপাশি আগাম প্রার্থী বাছাইয়ের কাজটি এগিয়ে রাখতে সাংগঠনিক সফর শুরু করা হচ্ছে। পার্টি চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ ১ অক্টোবর থেকে সাংগঠনিক সফর শুরু করবেন। এর আগে-পরে দলের কেন্দ্রীয় একাধিক টিম সারা দেশ সফর করবে। তিনি বলেন, ৩০০ আসনেই আমরা প্রার্থী দেব। প্রার্থী বাছাইয়ের কাজটাও এখনই এগিয়ে রাখতে চাই, আশা করছি আমার সাংগঠনিক সফরের পর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করতে পারব। তিনি আরও বলেন, সারা দেশেই একযোগে সাংগঠনিক কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো জেলা-উপজেলায় আমাদের টিমের সদস্যরা ছুটে যাচ্ছেন। সভা-সমাবেশ, বর্ধিত সভা করছেন। পার্টি সূত্রে জানা যায়, ১ অক্টোবর সিলেটে একটি জনসভায়ও ভাষণ দেবেন এরশাদ। জনসভা সফল করতে সিলেট বিভাগের জাপা নেতারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। প্রতিদিন সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সভা-সমাবেশ, প্রস্তুতি সভা হচ্ছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর সিলেট সফরে গিয়ে যৌথসভা করেছেন পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। এ সময় জাপা মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সাহিদুর রহমান টেপা, কাজী মামুনসহ অনেকে। সাংগঠনিক সফরের অংশ হিসেবে পার্টি চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের,  মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, মীর আবদুস সবুর আসুদসহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা ঈদের দিন থেকে শুরু করে টানা তিন দিন নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগের পাশাপাশি একাধিক সভা-সমাবেশ করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতারা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার পাশাপাশি অন্যান্য জেলা-উপজেলার নেতাদের সঙ্গেও দফায় দফায় সভা করেছেন। জানা গেছে, আগামী ১ জানুয়ারি ঢাকায় বড় ধরনের মহাসমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় পার্টি। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এই ৩ মাস দলকে তৃণমূল পর্যায়ে সুসংগঠিত করে ১ জানুয়ারি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে ঢাকায় মহাসমাবেশ করা হবে। এর আগে চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুরে জনসভার আয়োজন করবে জাতীয় পার্টি। এসব বিভাগীয় জনসভায় এরশাদসহ দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন।

প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা জাতীয় পার্টিকে তৃণমূলে আরও সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছি। প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ আগেভাগেই শেষ করতে চান আমাদের পার্টি চেয়ারম্যান। যেসব জেলায় আমাদের সম্মেলন বাকি রয়েছে আগামী তিন মাসের মধ্যে সেসব জেলায় সম্মেলনও সমাপ্ত করা হবে। সম্প্রতি ঢাকা ও নোয়াখালী জেলার নেতাদের নিয়ে সভা করেছেন নোয়াখালী জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত জাপার ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। তার নিজের নির্বাচনী এলাকা শ্যামপুর কদমতলীতে গতকাল কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন জাপার কেন্দ্রীয় নেতা সুজন দে, শেখ মাশুক রহমান, কাউসার আহমেদ, ইব্রাহিম মোল্লা প্রমুখ। জানতে চাইলে পার্টি চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের উপদেষ্টা কাজী মামুন বলেন, পার্টি চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাচনী এলাকায় ব্রাক্ষণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) নিয়মিত সময় দিচ্ছি। তিনি বলেন, দেশবাসী এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বের সরকার দেখতে চায়। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমরা সেভাবেই কাজ করছি।  এদিকে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টি উত্তর মহানগর গতকাল পার্টির বনানীর কার্যালয়ে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। পার্টির প্রেসডিয়াম সদস্য ও উত্তরের সভাপতি এস এম ফয়সল চিশতীর সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফয়সল চিশতী বলেন, নব্বইয়ের পর হতে পালাবদল করে বড় দুটি দল দেশকে শোষণ করে আসছে। গণতন্ত্রের কথা বলে ক্ষমতায় এসে এরা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকে। শুধু এই দুটি দলের ব্যর্থতার কারণে গোটা জাতিকে খেসারত দিতে হচ্ছে। এদিকে আজ সন্ধ্যায় পার্টির বনানীর কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া আগামী ২ অক্টোবর চট্টগ্রামের আনোয়ারায় জাতীয় পার্টির কর্মিসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুজন দেসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow