Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৩৮
নিউইয়র্কে খোকা
সরকার কেন উঠেপড়ে লেগেছে
প্রতিদিন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা বলেছেন, সরকার আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। কিন্তু কেন তা বুঝতে পারছি না। ক্ষমতাসীনরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে এসব করছে। তবে আমি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হব। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে যাবতীয় প্রক্রিয়া অবলম্বন করব। ’ রবিবার রাতে এনআরবি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খোকা বলেন, রাজধানী ঢাকায় অনেক সড়কের নামকরণ মুক্তিযোদ্ধাদের নামে করেছি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের আবদুস সামাদ আজাদও রয়েছেন। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেইনি। পাকিস্তানপন্থিও নই। তারপরও কেন এসব হচ্ছে? সম্প্রতি বিএনপির এই নেতার গুলশানে ছয়তলা ভবন, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ৫০ একর ও গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ৬৬.৫৬ একর জমি বাজেয়াপ্ত করে আদালত।   ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে দুই বছর আগে নিউইয়র্কে এসেছেন বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা। নিউইয়র্কে চিকিৎসা চলছে। তিনি বলেন, আমার একটি কিডনি ফেলে দিতে হয়েছে। উরুতে অস্ত্রোপচারের পর সম্প্রতি দেড় মাস কাটাতে হয় হাসপাতালে। ৩ সপ্তাহ পরপর আমাকে থেরাপি নিতে হয়। এটি না নিলে আমি বাঁচতে পারব না। অর্থাৎ আমি চিকিৎসকের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে রয়েছি। চিকিৎসার যাবতীয় তথ্য আমি আমার আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে প্রদানের চেষ্টা করেছি। নিম্ন আদালতে আমাকে পলাতক দেখিয়ে বিচার করার সময় আমার আইনজীবী কথা বলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। আদালত তার কথা শুনেনি। ’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘মিডিয়ায় আমার বিরুদ্ধে একতরফা রায় প্রদানের সংবাদ দেখে আমি হতভম্ব। আমার মনে হচ্ছে, আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংসের অভিপ্রায়ে এ ধরনের মিডিয়া ট্রায়ালের ঘটনা ঘটছে। ’ অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক এই মেয়র বলেন, ‘এরশাদ আমলে কমলাপুর থেকে সায়েদাবাদ থেকে ডেমরা পর্যন্ত যে রাস্তা হয়েছে সেখানে আমারও জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৪ সালে রাজউক ক্ষতিগ্রস্ত অনেকের মতো আমাকেও ৫ কাঠা জমি প্রদান করে। ১৯৯৮ সালে এনসিসি ব্যাংক থেকে প্রথমে এক কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে আরও ২৫ লাখ টাকার ঋণ নেই ভবন নির্মাণের জন্যে। ’ খোকা বলেন, ‘গাজীপুরে যে জমি বাজেয়াপ্ত করার রায় দেখলাম, সেটিও হাস্যকর একটি ব্যাপারে পরিণত হবে। কারণ, বুড়িগঙ্গা ইন্ডাস্টিজ লিমিটেড নামক কোম্পানির পরিচালক রয়েছেন সাতজন। মোট সম্পদের ৯৭.১৩ ভাগের মালিক হলেন অন্যরা। আমি মাত্র ২.৮৭ শতাংশ শেয়ারের মালিক ছিলাম। পরবর্তীতে কয়েকজন তাদের শেয়ার বিক্রি করায় আমার মোট শেয়ারের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ ভাগেরও কম। অথচ পুরো সম্পত্তির মালিক হিসেবে আমাকে বিবেচনা করে নিম্ন আদালত ঐ রায় প্রদান করল—যা সত্যি বিস্ময়ের ব্যাপার। এ কোম্পানির পরিচালকদের একজন লন্ডন, একজন সুইডেন, আরেকজন শিকাগোতে বাস করছেন। তারাও হতবাক। ’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই পাতার আরো খবর
up-arrow