Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:২৮
হিলারির কাছে ধরাশায়ী ট্রাম্প
প্রথম বিতর্কে দুই প্রার্থী
প্রতিদিন ডেস্ক
হিলারির কাছে ধরাশায়ী ট্রাম্প
প্রথম নির্বাচনী বিতর্ক শেষে করমর্দন করেন ট্রাম্প ও হিলারি —এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর সাকুল্যে সোয়া মাস বাকি। গত দেড় বছর ধরে এই নির্বাচনের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প একে অপরকে আক্রমণ করে নানা কথা, সমালোচনা করেছেন।

 কিন্তু গতকাল তারা বসলেন মুখোমুখি। দেড় ঘণ্টা চলল বিতর্ক। যা সরাসরি দেখানো হলো টিভিতে। এতে অংশ নেওয়ার আগে দুজনেই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে আসেন। অপরের দুর্বলতা, গোঁড়ামি সবকিছু মিলে ‘হোমওয়ার্ক’ করে আসেন। ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়ির মধ্যেও ওই বিতর্কে উঠে আসে বর্ণবাদ, যুদ্ধ, পররাষ্ট্রনীতি ও কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। একে মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের ইতিহাসে ‘সর্বকালের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দুজনের এই প্রথম মুখোমুখি বিতর্কে হিলারিকে বিজয়ী বলছেন অধিকাংশ দর্শক। সিএনএন/ওআরসির এক জরিপে বিতর্ক দেখা দর্শকের ৬২ শতাংশ হিলারি আর ২৭ শতাংশ ট্রাম্পকে জয়ী বলে রায় দিয়েছেন। সোমবার রাতে (বাংলাদেশ সময় গতকাল সকাল ৭টা) নিউইয়র্কের হেম্পস্টেডে হফস্ট্রা বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রাম্প ও হিলারির মধ্যে ৯০ মিনিটের মুখোমুখি বিতর্ক হয়। বিতর্ক শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ৫২১ জন দর্শকের মধ্যে জরিপ চালায় সিএনএন/ওআরসি। এতে অংশ নেওয়া দুই-তৃতীয়াংশ নিবন্ধিত ভোটার জানিয়েছেন, হিলারি তার বক্তব্য ট্রাম্পের চেয়ে ভালোভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছেন। ২০১২ সালে হওয়া একই ধরনের বিতর্কে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মিট রমনি ও বারাক ওবামার মধ্যেও পার্থক্য এ রকম ছিল বলে জানিয়েছে সিএনএন। বিতর্কে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাম্পকে ঘায়েল করতে চেয়েছেন জাতিগত বিদ্বেষ, লিঙ্গ বৈষম্যমূলক আচরণ এবং করখেলাপের মতো অভিযোগ এনে। অন?্যদিকে ক্যাসিনো ব্যবসায়ী ট্রাম্প তার প্রতিপক্ষের মন্ত্রিত্বের দিনগুলোতে কাজের সমালোচনা করেছেন, প্রশ্ন তুলেছেন বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে হিলারির আন্তরিকতা নিয়ে। তবে প্রতিপক্ষকে আক্রমণের ক্ষেত্রে ট্রাম্প হিলারিকে ছাপিয়ে  গেছেন। ৫৬ শতাংশ দর্শকের মতে, প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করতে ট্রাম্প বেশি সময় দিয়েছেন। হিলারির প্রতি এ মুগ্ধতা মাত্র ৩৩ শতাংশের। পুরো বিতর্ক দেখেছেন এমন ভোটারের ৬২ শতাংশ বলছেন, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে হিলারিকে ট্রাম্পের চেয়ে বেশি দক্ষ বলে মনে হয়েছে। এক্ষেত্রে ট্রাম্পের পক্ষে সমর্থন মাত্র ৩৫ শতাংশ।

নির্বাচনী বিতর্কটি নিয়ে রেজিস্টার্ড ভোটাররা বলেছেন, ট্রাম্পের চেয়ে নিজস্ব মতামত অনেক যথাযথ ও স্বচ্ছভাবে তুলে ধরতে সমর্থ হয়েছেন হিলারি। তারা মনে করেন, নির্বাচনী ইস্যুগুলোতে ট্রাম্পের চেয়ে হিলারির বোঝাপড়া অনেক স্বচ্ছ। প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যতার প্রশ্নেও এগিয়ে রয়েছেন হিলারি। জরিপে অংশ নেওয়া ৫৫ শতাংশই ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য ‘অযোগ্য’ বলে মনে করেন। বিপরীতে ৪৩ শতাংশ মনে করেন, এ পদের জন্য ট্রাম্পই উপযুক্ত। নিষ্ঠা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নে অবশ্য দুই প্রার্থীর মধ্যে খুব  বেশি ব্যবধান দেখছেন না ভোটাররা। ৫৩ শতাংশ মার্কিনি হিলারিকে বেশি নিষ্ঠাবান মনে করেন, যেখানে ট্রাম্পের নিষ্ঠায় আস্থার কথা জানান ৪০ শতাংশ ভোটার। এই বিতর্ক নিয়ে সরগরম ছিল সামাজিক  যোগাযোগমাধ্যমও। টুইটার জানিয়েছে, বিতর্কের সময় ৬২ শতাংশ ব্যবহারকারী ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করে টুইট করেছেন, হিলারির নাম লিখেছেন ৩৮ শতাংশ ব্যবহারকারী। অন্যদিকে, রয়টার্সের সোশ্যাল সেন্টিমেন্ট ট্র্যাকারেও বেশির ভাগ ব্যবহারকারী ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করছেন।

বিতর্ক নিয়ে হাফিংটন পোস্টের হাস্যরস : যুক্তরাষ্ট্রের  প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো  কোনো নারী হিসেবে মঞ্চে দাঁড়িয়েছেন হিলারি ক্লিনটন। তবে এক হাস্যরসাত্মক (স্যাটায়ার) ধাঁচের প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম হাফিংটন পোস্ট বলছে, এই বিতর্কে খুশি হতে পারেননি নারীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টুইটার ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি  তৈরি করে হাফিংটন পোস্ট। ওই হাস্যরসাত্মক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিতর্কে অংশ নেওয়া ট্রাম্পের বক্তব্যে এমন কিছু মুহূর্ত ও বক্তব্য উঠে আসে যাতে বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন নারীরা। হাফিংটন পোস্ট এরকম দশটি ঘটনা তুলে ধরেছে, যখন বিরক্ত হয়ে নারীরা টিভি ভাঙতে চেয়েছেন অথবা টিভির দিকে কিছু ছুড়ে মারতে  চেয়েছেন ক্ষোভে।

‘বাগ্যুদ্ধ’ দেখলেন অর্ধেক মার্কিনি : হিলারি ও ট্রাম্পের প্রথম বিতর্ক উপভোগ করেছেন সে দেশের প্রায় অর্ধেক  নাগরিক। নেটওয়ার্ক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি দল তাদের পরিসংখ্যানে জানিয়েছে, প্রায় ১০ কোটি মার্কিন নাগরিক ওই বিতর্ক টেলিভিশন অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে সরাসরি দেখেছেন। তারা এটিকে একটি ‘ঐতিহাসিক’ ঘটনা বলেও দাবি করেছেন। মার্কিন বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিলসেন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে গত ৫০ বছরের দর্শক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি মার্কিন দর্শক ২০১২ সালের ৩ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বর্তমান মার্কিন  প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মিট রমনির মধ্যকার বিতর্কটি দেখেছিলেন। ওই বিতর্ক দেখেছেন চার কোটি ৬২ লাখ মার্কিনি। আর এবার দেখলেন ১০ কোটি মার্কিনি। সিএনএন, এএফপি, বিবিসি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow