Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৩০
মুন্সীগঞ্জের বিদায়ী জেলা প্রশাসকের ১৭ দিনে ৫৭ সংবর্ধনা
জেলায় জেলায় আনন্দ উৎসবে কর্মকর্তারা
লাবলু মোল্লা, মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জের বিদায়ী জেলা প্রশাসকের ১৭ দিনে ৫৭ সংবর্ধনা

মুন্সীগঞ্জে বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদলকে ১৭ দিনের ব্যবধানে ৫৭টি বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

এ সময় তাকে সোনার অলঙ্কারসহ বিভিন্ন উপঢৌকন প্রদান করা হয়।

গণসংবর্ধনায় অন্তত অর্ধ কোটি টাকা মূল্যের সামগ্রী পেয়েছেন তিনি। মুন্সীগঞ্জে এর আগে অন্য কোনো জেলা প্রশাসককে এত ব্যাপক আকারে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়নি। তাই বিষয়টি নিয়ে মুন্সীগঞ্জের সচেতন মহলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আলোচনা-সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের ব্যানারে দেওয়া বিদায় সংবর্ধনায় ডিসি বাদলকে সোনার চাবি, নামিদামি স্যুটকোট, শোপিস, আড়ংয়ের পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন উপঢৌকন-সামগ্রী প্রদান করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ জেলার বিভিন্ন রাজনীতিবিদ বলছেন, মুন্সীগঞ্জে এত সংবর্ধনা কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও পাননি। সরকারি একজন কর্মকর্তার এ ধরনের সংবর্ধনা নজিরবিহীন। এটা চাকরিবিধিরও পরিপন্থী। এ ধরনের রাজসিক সংবর্ধনা ও উপহার নেওয়াটা অনেকেই মেনে নিতে না পরলেও বাধ্য হয়েই জেলা প্রশাসকের বিদায় অনুষ্ঠানে থাকতে হয়েছে বলে পেশাজীবী সমাজের প্রতিনিধিরা জানান।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসকরা যা করেছেন, তা হাস্যকর। আমি মনে করি, এটা সরকারি কর্মচারীদের চাকরিবিধির শৃঙ্খলার পরিপন্থী। যিনি এ ধরনের সংবর্ধনা নিচ্ছেন তিনি কি আর চাকরি করতে চান না? বিভাগীয় কমিশনারসহ তার চেয়ে জ্যেষ্ঠ অনেক সরকারি কর্মকর্তা আছেন। সংবর্ধনা নেওয়ার সময় কি এসব বিষয় বিবেচনা করেননি?’ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লুত্ফর রহমান জানান, ‘কোনো কিছুই অতি বাড়াবাড়ি ভালো নয়। ডিসির এসব সংবর্ধনায় আমি যাইনি। প্রত্যেক ইউএনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এসব সংবর্ধনার আয়োজন করেছেন। সেখানেও ওই জেলা প্রশাসকের হাত। রাষ্ট্রের একজন কর্মচারী যে ধরনের সংবর্ধনা নিয়েছেন, তা মুন্সীগঞ্জে কোনো জনপ্রতিনিধিও পাননি। এটা দুঃখজনক।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর— নতুন জেলা প্রশাসকের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদলের জেলাব্যাপী বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জেলার ৬টি উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারি যেসব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন থেকে তাকে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জেলা ইউনিয়ন পরিষদ সেক্রেটারি সমিতি, জেলা পুলিশ বিভাগ, মুন্সীগঞ্জ লেডিস ক্লাব, মুন্সীগঞ্জ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, গজারিয়া উপজেলা প্রশাসন, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা, মীরকাদিম পৌরসভা, জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়, পঞ্চসার আইডিয়াল ইনস্টিটিউট, রাজা শ্রীনাথ ক্লাব, মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের একাংশ, মুন্সীগঞ্জ প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ, সদর উপজেলা পরিষদ, শ্রীনগর উপজেলা পরিষদ, সিরাজদীখান উপজেলা প্রশাসন, ইছাপুরা ইউনিয়ন পরিষদ, টুঙ্গিবাড়ী উপজেলা প্রশাসন, লৌহজং উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতি, রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন রেসিডেনশিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, অ্যাপেক্স ক্লাবের একাংশ, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট প্রভৃতি। এ ছাড়াও নামে-বেনামে আরও অনেক সংগঠন তাকে সংবর্ধনা দেয়। একাধিক সংগঠনের উদ্যোক্তা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, সাইফুল হাসান বাদল জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। তাদের কিছু উপহার দেওয়া হলে তার পছন্দের সামগ্রী দিতে বলে দিয়েছেন। কোনো কোনো সংগঠনকে বলেছেন, আড়ংয়ের পাঞ্জাবি দিতে। আড়ং ছাড়া অন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাঞ্জাবি হলে তা গ্রহণ করবেন না। এজন্য একাধিক সংগঠনের আয়োজকরা ঢাকার আড়ং থেকে দামি পাঞ্জাবি কিনে তাকে উপহার দিয়েছেন। মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদলকে সোনার চাবি উপহার দেওয়া হয়েছে। এদিকে সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসককে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে বদলি করার প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার খবর পেয়ে একদল তোষামোদকারী ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা তাকে খুশি করার জন্য নানা তত্পরতায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow