Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৩১
এসটিএফ’র জেরায় চাঞ্চল্যকর তথ্য
কলকাতার এই ফারুকই সেই জঙ্গি ফারুক
নিজস্ব প্রতিবেদক ও কলকাতা প্রতিনিধি

কলকাতায় গ্রেফতার তিন বাংলাদেশি জেএমবি জঙ্গির মধ্যে ফারুক হলো সেই জঙ্গি ফারুক, যার পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে ফিল্মি স্টাইলে ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যান থেকে তিন জঙ্গি ছিনতাই হয়েছিল। জঙ্গি ফারুক ওরফে জামাই ফারুকের এলোপাতাড়ি গুলি ও বোমা হামলায় এক পুলিশ নিহত ও তিন পুলিশ গুরুতর আহত হন। দেশ কাঁপানো ওই ঘটনার পর জামাই ফারুককে ধরিয়ে দিতে ৩০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে সরকার। কিন্তু জঙ্গি ছিনতাইয়ের পরই ফারুক লাপাত্তা। তার খোঁজ পাচ্ছিল  না বাংলাদেশের পুলিশ। তবে গোয়েন্দাদের কাছে খবর ছিল, ওই হামলার পরই পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে যায় জামাই ফারুক। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান বিস্ফোরণেও এই ফারুকের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায় কলকাতা পুলিশ। এরপর থেকে দুই বাংলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় নাম আসে ফারুকের। এদিকে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর জেরার মুখে জঙ্গি আনোয়ার হোসেন ফারুক ওরফে ইনাম ওরফে কালো ভাই মুখ খুলতে শুরু করেছে। তার দেওয়া তথ্যে হতবাক গোয়েন্দারা। গোটা ভারতে জেএমবি কার্যকলাপের সব দায়িত্বই ছিল এই ফারুকের ওপর। এমনকি ঈদের দিন কিশোরগঞ্জে বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ডও ছিল সে। যদিও এ বিষয়ে এসটিএস কিংবা এনআইএ-এর তরফে কিছুই জানানো হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘কলকাতার গোয়েন্দারা ছয় জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে। তার মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি বলে শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে ফারুক নামে একজনকে আমরা প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছি। এই ফারুকই ময়মনসিংহে পুলিশের ভ্যানে হামলা চালিয়ে জঙ্গি ছিনতাইয়ের সেই জঙ্গি ফারুক। তবে এ বিষয়ে এখনো অফিশিয়ালি আমরা কিছুই জানি না। এটি অফিশিয়ালি নিশ্চিত হতে আরও দু-একদিন সময় লাগবে। এ বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘যদি এই ফারুকই সেই ফারুক হয় তাহলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে না। কারণ ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্দী বিনিময়ের বিষয়ে একটি চুক্তি করা আছে।’ সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে গতকাল তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘কলকাতায় গ্রেফতার হওয়া বাকি দুজনের পরিচয় সম্পর্কে আমরা এখনো কিছু অবহিত নই। তবে সেখানে আটক ফারুক ত্রিশাল হামলার জঙ্গি হলে তা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ।’

গত রবিবার রাতে উত্তর-পূর্ব ভারতের মিজোরাম রাজ্যের আইজল থেকে খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলায় ছয় জেএমবি জঙ্গিকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিরা হলো— আনোয়ার হোসেন ফারুক ওরফে এনাম ওরফে কালো ভাই, মাওলানা ইউসুফ ওরফে বক্কর ওরফে আবু খেতাব, জাহিদুল শেখ ওরফে জাফর ওরফে জবিরুল, মো. রফিকুল ওরফে মো. রুবেল ওরফে পিচ্চি, শহিদুল ইসলাম ওরফে সুরয়ে ওরফে শামীম এবং আবুল কালাম ওরফে করিম। এদের মধ্যে রুবেল, জাহিদুল এবং আনোয়ার হোসেন ফারুক বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে এসটিএফ। ২০১৪ সালের পর থেকে এসব জঙ্গিরা পলাতক ছিল।

আমাদের কলকাতা প্রতিনিধি জানান, গত দুই দিন ধরে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে যে ছয় জেএমবি জঙ্গিকে এসটিএফ আটক করে বাংলাদেশের জামালপুরের বাসিন্দা আনোয়ার হলেন তাদেরই একজন। সোমবারই আটক ছয় জঙ্গিকে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল কোর্টে তোলা হলে আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত রিমান্ডের নির্দেশ দেয় আদালত।

সূত্র জানায়, জেএমবি নেতা ফারুকই দুই বাংলার জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত ছিল। খাগড়াগড় বিস্ফোরণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত না থাকলেও জেএমবির শীর্ষনেতা মাওলানা সাইদুর রহমানের ঘনিষ্ঠ ছিল এই ফারুক। তাই ফারুককে জেরা করে দুই বাংলার জঙ্গি কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আরও নতুন তথ্য উঠে আসবে বলেই মনে করছে গোয়েন্দারা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow