Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪৪
পরানের গহিন ভিতর
হেলাল হাফিজ

সমকালীন বাংলা সাহিত্য এবং সৈয়দ শামসুল হক সমার্থক। তার এই মৃত্যু মেনে নেওয়ার মতো নয়।

আমাদের সমগ্র বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির জগেক একটা অন্ধকারে নিক্ষেপ করে দেয় এই মৃত্যু। এই ক্ষতি নিকট ভবিষ্যতে পূরণ হওয়ার নয়। এটা এত বড় ক্ষতি যে, তা কিছুতেই পূরণ হওয়ার নয়। তাকে বাদ দিয়ে বাংলা সাহিত্য চিন্তা করা যায় না। সাহিত্যের সব শাখায় তার বিচরণ। কবিতা, নাটক, ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ-নিবন্ধ, কাব্যনাটক, চিত্রনাট্য, সংগীত— যেখানে তিনি হাত দিয়েছেন সেখানেই সোনা ফলেছে। ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ কিংবা ‘নুরুলদীনের সারাজীবন’-এর মতো কাব্যনাটক বাংলা সাহিত্যে অমর সৃষ্টি। তিনি ‘মাটির পাহাড়’, ‘সুতরাং’সহ বেশকিছু চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লিখেছেন। রচনা করেছেন বেশকিছু জনপ্রিয় গান। ছবিও এঁকেছেন। এ ছাড়াও সর্বাগ্রে একজন অসাধারণ মানুষ ছিলেন সৈয়দ শামসুল হক। এমন বহুমুখী প্রতিভা সাহিত্যে বিরল। শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি মাধ্যমে তিনি কাজ করেছেন। প্রতিটি মাধ্যমে তার কাজ শিল্পোত্তীর্ণ। রবীন্দ্র-উত্তর বাংলা সাহিত্যে বিশেষ করে ত্রিশের দশকে কাজী নজরুল ইসলাম, বুদ্ধদেব বসু ও সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন সেরা লেখক। তারপর একমাত্র লেখক সৈয়দ শামসুল হক যিনি সমগ্র বাংলা সাহিত্য প্রভাবিত করেছেন। অসাধারণ প্রতিভাবান মানুষ। তিনি বহুমাত্রিক লেখক এবং বড় মানুষ। অসম্ভব আধুনিক রুচির মানুষ, যা প্রকাশ পেত তার চালচলন, পোশাক, কথাবার্তায়। তিনি যখন মঞ্চে উঠে কথা বলতেন তখন বুঝিয়ে দিতেন তিনি কত চৌকস ব্যক্তি। আমরা যদি আমাদের সমস্ত সত্তা দিয়ে চেষ্টা করি এবং নান্দনিক সাহিত্য সৃষ্টি করতে পারি তবে তিনি যেখানে থাকুন না কেন, অন্তত আনন্দে থাকবেন। আমি বিশ্বাস করি, তিনি মারা যাননি তার শারীরিক রূপান্তর হয়েছে। যত দিন যাবে তার সাহিত্যকর্ম দ্বিগুণ শক্তিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। মানুষ কখনো চিরদিন শারীরিকভাবে থাকে না। ওই নিয়মে তিনি চলে গেছেন কিন্তু তার সৃষ্টি অমর আছে এবং থাকবে। এটা অকল্পনীয় ব্যাপার— যেদিন তিনি লেখালেখি শুরু করেছেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি লিখেছেন। আমাদের এখানে লেখালেখিকে পার্টটাইম কাজ মনে করা হয়। সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন ফুলটাইম পেশাদার লেখক। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারে এমন কে আছে, আমার জানা নেই। তার মতো সব্যসাচী হাত আবার পাওয়া দুষ্কর। তার ছিল অসীম সাহস। তিনি কর্কটরোগে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেশে চলে আসতে চেয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন যে কয় দিন বাঁচবেন দেশের মানুষের কাছে থাকতে। তার কথাই সত্য হলো। চর্যাপদের অক্ষর থেকে তিনি এসেছিলেন চলে গেছেন শান্তির ওপারে। তিনি থাকবেন পরানের গহিন ভিতর। তার আত্মার শান্তি কামনা করছি। লেখক : কবি।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow