Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০২:৪২
ঢাকায় সেমিনার
প্রবৃদ্ধির নয়া কেন্দ্র বাংলাদেশ-ভারত
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্ব অর্থনীতিতে এগিয়ে চলা এশিয়ার দেশগুলোর বিকাশমান প্রবৃদ্ধির নয়া কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, ভারতসহ এই উপ-অঞ্চল। এ বক্তব্য দুই দেশের বিশিষ্টজনদের।

তারা বলছেন, এই শতাব্দী  এশিয়ার। তাই বৈশ্বিক পরিবর্তনের আলোকে এই উপমহাদেশের দেশগুলোর উচিত একটি অর্থনৈতিক ইউনিয়ন গঠনের পদক্ষেপ নেওয়া। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতা এবং সহমর্মিতা বাড়াতে সব নদীর অববাহিকামূলক উন্নয়ন দর্শন গ্রহণ করতে হবে। গতকাল রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে ইংরেজি দৈনিক ‘দি এশিয়ান এইজ’ আয়োজিত ‘ভারত ও বাংলাদেশে বহুমুখী স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে দুই দেশের নীতিনির্ধারক ও বিশিষ্টজনরা এ অভিমত তুলে ধরেন। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ট্রান্সফরমিং ভারতের (এনআইটিআই) সদস্য (মিনিস্টার প্রোটোকল) অর্থনীতিবিদ ড. বিবেক দেবরায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। দি এশিয়ান এইজের এডিটর ইনচার্জ অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ। ড. বিবেক দেবরায় বলেন, ভারতের এখনকার বিদেশি নীতির (পররাষ্ট্রনীতি) মূলমন্ত্র দেশের সুরক্ষা। আমদানি হওয়া সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নিজের দেশকে সংগঠিত করা। তবে আমরা সার্কের কথা ভাবলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক ভুলতে পারি না। কিন্তু অর্থনৈতিক ইউনিয়ন গঠনের বিষয়টি এখন বহুদূরের গন্তব্য। ’ ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, ‘বৈশ্বিক পরিবর্তনের আলোকে এই উপমহাদেশ সংশ্লিষ্ট সব দেশ সম্বলিত করে একটি অর্থনৈতিক ইউনিয়নে উপনীত হওয়ার প্রচেষ্টা সামনে রেখে পদক্ষেপ নিতে হবে। তাই ইউরোপীয় ইউনিয়নের আদলে এই উপমহাদেশের সব দেশ কোনো না কোনো এক সময়ে একটি অর্থনৈতিক ইউনিয়ন গঠনের লক্ষ্য সামনে রেখে যদি এগিয়ে যায়, তাহলে বিদ্যমান মতদৈন্যতা দূরীভূত হবে। ’ ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার পারস্পরিক সহায়তা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশ-ভুটান, ভারত ও নেপাল মিলে গঠিত বিবিআইএন এরই মধ্যে কার্যকর হতে চলেছে। ’ ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘এশিয়ার প্রবৃদ্ধির নয়া কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতসহ এই উপ-অঞ্চল। দুই দেশ এক সময়ে একই নদী, রেল ও সড়কপথে চলত। ইতিহাসের ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৫০ বছর আগে এই যোগাযোগ পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর ১৯৭১ সালে আবারও তৈরি করে বন্ধুত্বের নয়া সড়ক। সে পথও বেশি দিন নিরবচ্ছিন্ন ছিল না। ’ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক মনস্তত্ত্ব বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ-উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কোন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা—সার্ক দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন বা একই মুদ্রা ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে ভেবে দেখা যেতে পারে। অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্কের জন্য নদীগুলো বাঁচিয়ে রাখতে হবে। ভারতের গণতন্ত্রের শেকড় গভীরে পৌঁছে গেলেও বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। তবে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। তাই ভারত থেকে গণতন্ত্রের শেকড় বাংলাদেশে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হোক। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow