Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪৯
মাঠে গড়ানোর আগে বিতর্কে বিপিএল
ক্রীড়া প্রতিবেদক

শুরু থেকেই বিতর্কের বেড়াজালে আটকে আছে বিপিএল। বিশেষ করে বিপিএলের দ্বিতীয় আসর বাংলাদেশের ক্রিকেটকেই নিন্দিত করেছে বিশ্বব্যাপী। ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ স্বীকার করায় সব ধরনের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। এখন অবশ্য নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছেন তিনি। এছাড়া দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক পরিশোধে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের গড়িমসি প্রতি বছরই বিতর্কে ফেলছে বিসিবিকে হরহামেশা। ৪ নভেম্বর শুরু হবে বিপিএলের চতুর্থ আসর। আজ স্থানীয় ক্রিকেটারদের নিলাম। তার আগেই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোতে বিসিবি পরিচালকদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিসিবির প্রভাবশালী পরিচালকদের প্রায় সবাই কোনো কোনো দলের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এতে করে মাঠের খেলা ও খেলার বাইরে প্রভাব পড়ছে নিয়মিত। বিপিএলে এবার ৭টি দল খেলবে। ঢাকা ডায়নামাইটসের মালিকানা বেক্সিমকোর। বেক্সিমকোর ঔষধ ইউনিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এবং বিসিবির আরেক প্রভাবশালী পরিচালক ডা. ইসমাইল হায়দার মল্লিক কোম্পানির এক্সিকিউটিভ।  বিসিবির আরেক পরিচালক আব্দুল আওয়াল ভুলু বরিশাল বুলসের অন্যতম মালিক। এশিয়া কাপের ফাইনালে মাঠে অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিলে বুলসের আরেক মালিক রিজওয়ান বিন ফারুককে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে বিসিবি। ফলে ভুলুই এখন বুলসের একমাত্র মালিক। বিসিবির আরেক পরিচালক কাজী এনাম আহমেদ নতুন দল খুলনা টাইটান্সের মালিক। তিনি আবার বিসিবির মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে পরিচালকদের সরাসরি সম্পৃক্ততায় সমালোচনা হচ্ছে চারদিকে। পরিচালকদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেন, ‘আবাহনী ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেটে খেলছে। আমি দলটির ক্রিকেট কমিটির সাধারণ সম্পাদক। আফজালুর রহমান সিনহা ভাই, জালাল ইউনুস ভাই, আকরাম খান ভাই সবাই আবাহনীর সঙ্গে জড়িত। লোকমান হোসেন ভুঁইয়া ভাই মোহামেডান ক্লাবের সঙ্গে জড়িত। আমরা কি তাহলে খেলাধুলা থেকে সরে দাঁড়াব? পৃথিবীর সব দেশের ক্রিকেট বোর্ডেই সাবেক ক্রিকেটার ও সংগঠকরা জড়িত। এটাকে কোনো অন্যায় দেখছি না।’ বোর্ড পরিচালকদের সম্পৃক্ততায় সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম মল্লিক এবং বিসিবি সভাপতি। বাইরে গুঞ্জন, দুজনেই সরাসরি সম্পৃক্ত ঢাকা ডায়নামাইটসের সঙ্গে। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল সদস্য সচিব অস্বীকার করেছেন সম্পৃক্ততার কথা ‘আমি এবং বিসিবি সভাপতি বেক্সিমকোর সঙ্গে জড়িত। আমরা ঢাকা ডায়নামাইটসের সঙ্গে জড়িত নই। দলটির দেখাশোনা করে বেক্সিমকো অনলাইন ইউনিট।’ বিসিবির প্রভাবশালী পরিচালকরা ক্রিকেটারদের দলভুক্ত করতে ক্ষমতা প্রয়োগ করে। প্রশ্ন উঠেছে ‘এ’ প্লাস ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে ঢাকা দলভুক্ত করেছে ক্ষমতার ব্যবহারে। বিষয়টির ব্যাখ্যায় মল্লিক বলেন, ‘মাশরাফিসহ ৫ ক্রিকেটার এসেছিলেন নিজেদের পছন্দের দলে খেলতে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স চেয়েছে মাশরাফিকে, চিটাগাং তামিমকে। বরিশাল মাহমুদুল্লাহ কিংবা মুশফিককে চেয়েছিল। এটা সত্যি যে, সবগুলো দলই চেয়েছিল সাকিবকে। এখন আপনি সাকিবকে জিজ্ঞাসা করলেই পরিষ্কার হয়ে যাবেন, কেন তিনি ঢাকায় খেলতে রাজি হলেন’। বিসিবি পরিচালকদের সম্পৃক্ততা নিয়ে বিতর্ক থাকবেই। প্রথম আসর থেকেই বিতর্কিত বিপিএল এবার স্বচ্ছভাবে মাঠে গড়াবে কি না, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow