Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:২৩
প্রধানমন্ত্রী ফিরেছেন, ব্যাপক সংবর্ধনা, জনতার ঢল
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী ফিরেছেন, ব্যাপক সংবর্ধনা, জনতার ঢল
দেশে ফেরার পর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় শিশুরাও —পিআইডি

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৭১তম অধিবেশন ও মন্ট্রিলে জিএফ সম্মেলন শেষে টানা ১৭ দিন পর দেশে ফিরলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে বিমানবন্দরে নামার পর বোর্ডিং ব্রিজেই তাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। কুশল বিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। বিমানবন্দরে  মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মহীউদ্দীন খান আলমগীর, ওবায়দুল কাদের, দীপু মনি, ফারুক খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আসাদুজ্জামান নূর, এ বি তাজুল ইসলাম, আবদুর রাজ্জাক, সাহারা খাতুন, এ কে এম রহমত উল্লাহ, কামরুল ইসলাম, আবদুস শহীদ, আবদুর রহমান, আবদুল মান্নান, মুজিবুল হক, আসাদুজ্জামান খান কামাল, তারানা হালিম, মেহের আফরোজ চুমকি, ইসমত আরা সাদেক, হাবিবুর রহমান খান সিরাজ, নাহিম রাজ্জাক প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ঢাকার দুই মেয়র আনিসুল হক ও সাঈদ খোকনও উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দরে কুশলাদি বিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সরাসরি গণভবনের উদ্দেশে রওনা হয়। আধা ঘণ্টার মধ্যে গণভবনে পৌঁছে যান তিনি। বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত ঘুরে ঘুরে পর্যবেক্ষণ করেন ১৪ দলের সমন্বয়ক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানাতে বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত দীর্ঘ ১৪ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশ যেন জনারণ্য। মানুষের ঢল নেমেছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাতে। ফুল ছিটিয়ে, বাদ্যবাজনার তালে স্লোগানে স্লোগানে মানুষ বরণ করে নিয়েছে প্রিয় নেত্রীকে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ পেয়ে দেশে ফিরে আসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গান আর ফুলে গণভবনে বরণ করে নেন লেখক-কবি, শিক্ষাবিদ, সামাজিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক কর্মীরা। বিমানবন্দর থেকে গণভবনের গেট পর্যন্ত ফুলে ফুলে সিক্ত প্রধানমন্ত্রী গাড়ি থেকে নামার পর জাতির পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, নৃত্যশিল্পী শামীম আরা নীপা ও শিবলী মহম্মদ প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। এ সময় রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে, কখন আপনি তুমি এই অপরূপ রূপে বাহির হলে জননী, ওগো মা তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফেরে, তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে’ রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন। এ সময় এসব বরেণ্য ব্যক্তির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে গণভবনে উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রীকে বেশ প্রফুল্ল দেখা যায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ফরিদুন্নাহার লাইলী, খায়রুজ্জামান লিটন, অসীম কুমার উকিল, এনামুল হক শামীম, এস এম কামাল, রাদওয়ান সিদ্দিক ববি, সুজিত রায় নন্দী, আমিনুল ইসলাম আমিন, লিয়াকত সিকদার, মাহমুদ হাসান রিপন, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, বদিউজ্জামান সোহাগ প্রমুখ। দলীয় সভাপতিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিতে গতকাল দুপুর থেকেই রাজধানীর ফার্মগেট থেকে বিমানবন্দরগামী সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতির ফলে সরকারি ছুটির দিনেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় রাজধানীতে। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা ছিল কিন্তু দুবাই থেকে দেরিতে রওনা হওয়ার কারণে বিমানটি প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ঢাকায় পৌঁছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ডালাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বৃহস্পতিবার এমিরেটসের ফ্লাইটে ঢাকার পথে রওনা হন শেখ হাসিনা। দুবাইয়ে তার যাত্রাবিরতি ছিল। প্রধানমন্ত্রী যখন ঢাকায় ফেরেন তখন সন্ধ্যা। দুপুর থেকে বিকাল গড়িয়ে অন্ধকার নেমে আসা অবধি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন তাদের নেতাকে স্বাগত জানানোর জন্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয় এবং স্থানীয় নেতার ছবিসংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার দেখা যায় ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের হাতে। তবে অনেকের পোস্টারে দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে স্থানীয় নেতাদের ছবি দেখা গেছে। কারও কারও পোস্টারে জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচারের কথাও উল্লেখ ছিল। এ ছাড়া কয়েকটি স্থানে ব্যান্ড পার্টি, হাতি, ঘোড়ার গাড়ি, মিনি ট্রাকে সাউন্ড সিস্টেম নিয়েও অবস্থান নেন উল্লসিত নেতা-কর্মীরা। প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানাতে রাজধানী ছাড়াও গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সাভার, আশুলিয়াসহ আশপাশের এলাকা থেকে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল এবং সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম ও সমমনা সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জড়ো হন সংবর্ধনার আট রুটে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গণভবনমুখী সড়ক জনারণ্যে পরিণত হয়। মানুষের ভিড়ে দুপুর ১২টা থেকে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারণ মানুষকে তীব্র দুর্ভোগে পড়তে হয়। এমপিদের নেতৃত্বেও ছিলেন বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী। যুবলীগ-ছাত্রলীগের শোডাউন ছিল চোখে পড়ার মতো। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন ছাড়াও ছিলেন পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, কৃষিবিদ, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক কর্মী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, পূজা উদ্যাপন পরিষদ, নারী সংগঠন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ। জাতীয় ও দলীয় পতাকা এবং ব্যানার-ফেস্টুন, প্লাকার্ড, পোস্টার, বেলুনসহ ফুল হাতে সমবেত এসব মানুষ দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থেকেছে প্রধানমন্ত্রীর জন্য। এ সময় জনতা তুমুল করতালিতে স্বাগত জানায় তাকে। তারা ফুল ছিটিয়ে ও বেলুন উড়িয়ে অভিনন্দিত করে প্রিয় নেত্রীকে। তাদের কণ্ঠে ছিল শেখ হাসিনার জন্য, বাংলাদেশ ধন্য, যোগ্য পিতার যোগ্য কন্যা, শেখ হাসিনা শেখ হাসিনা, জামায়াত-শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়সহ নানা স্লোগান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তার গাড়িবহর নিয়ে ধীরে ধীরে সড়ক অতিক্রমকালে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান মানুষকে। ১৭ দিন আগে ঈদুল আজহার পরদিন কানাডার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কানাডার মন্ট্রিলে ‘ফিফথ রিপ্লেনিশমেন্ট কনফারেন্স অব দ্য গ্লোবাল ফান্ড (জিএফ)’-এ অংশগ্রহণ এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি নিউইয়র্ক যান। ২৬ সেপ্টেম্বর তার দেশে ফেরার কথা থাকলেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর জন্য তা পরিবর্তন হয়। নিউইয়র্ক থেকে ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বাড়ি ভার্জিনিয়ায় যান তিনি। গত বুধবার সেখানেই ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতনির সঙ্গে নিজের জন্মদিন কাটে শেখ হাসিনার। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর মধ্যেও গত ছয় দিনে রাষ্ট্রীয় ৫১টি গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে প্রধানমন্ত্রী সই করেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

up-arrow