Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:২২
যুদ্ধ শুরু হলে উন্নয়নের ধারা ব্যাহত হবে
জিন্নাতুন নূর
যুদ্ধ শুরু হলে উন্নয়নের ধারা ব্যাহত হবে
মেজর জেনারেল আব্দুর রশীদ (অব.)

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে তা উভয় দেশের উন্নয়নের গতিধারাকে ব্যাহত করবে। আর পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার হুমকি দিলেও দেশটি যুদ্ধে জড়াবে না।

যদিও ভারত কৌশলগতভাবে তার সংযত অবস্থান থেকে বেরিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে পাকিস্তানে অভিযান চালিয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল আব্দুর রশীদ (অব.) এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভারত নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে যে অভিযান চালিয়েছে, তাকে যুদ্ধ না বলে বলছে ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’। আর দেশটি এ অভিযানকে সন্ত্রাসবিরোধী আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এ অভিযান বিষয়ে ন্যায্যতা সৃষ্টি করতে পেরেছে। যদিও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এ অভিযানের অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি বলে দাবি করেছে। কিন্তু খোদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এ অভিযানের বিষয়ে নিন্দা জানিয়েছেন। এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক মনে করেন, এ মুহূর্তে ভারত-পাকিস্তান দুই বৃহৎ পরাশক্তির মধ্যে যুদ্ধ বাধবে কিনা তার ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন। আর ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণের ধারা অনুযায়ী অন্য পরাশক্তিগুলোও ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের যুদ্ধে যাওয়াকে সমর্থন করছে না। তারা পিছুটান দিয়েছে। এর বাইরে যুদ্ধের সঙ্গে একটি দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটসহ বেশকিছু বিষয় জড়িত। এগুলো বিবেচনা করে কোনো উন্নয়নশীল দেশই যুদ্ধে জড়াতে পারে না। এর আগেও ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে তিনবার যুদ্ধ হয়। কিন্তু ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছাড়া বাকি যুদ্ধ দুটি ফলদায়ক হয়নি। আব্দুর রশীদ বলেন, ভারতের নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করার বিষয়ে পাকিস্তানের নীতিনির্ধারক ও সামরিক শাসকদের মতপার্থক্যের কারণে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য পাকিস্তান রাষ্ট্রীয় নীতিতে পৌঁছাতে পারছে না। তিনি আরও বলেন, যদি পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয় এবং সেই যুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয় তবে তা বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর হবে। আর যদি প্রচলিত সামরিক নীতি অনুযায়ী যুদ্ধ হয় তবে আমাদের ক্ষতি হবে না। সন্ত্রাসী কার্যক্রমে পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকতা করার কারণে ভুক্তভোগী বিভিন্ন দেশ যেমন আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারত এখন এমন নীতি গ্রহণে আগ্রহী হবে যার মাধ্যমে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদ থেকে বের হয়ে নিয়ে আসা যায়। আর এজন্য আন্তর্জাতিকভাবেও পাকিস্তানের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে। তবে আমি মনে করি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে জড়ালে বাংলাদেশে সরাসরি এর প্রভাব পড়বে না। আব্দুর রশীদ বলেন, তবে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা দেখে দুই দেশ পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করার মতো পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে আমার এখনো এমন মনে হয়নি। ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশেরই পারমাণবিক অস্ত্রে ভারসাম্য আছে। এজন্য কোনো কারণে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলেও দুই দেশই তার ক্ষয়ক্ষতির কথা বিবেচনা করে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকবে।

up-arrow