Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:৫৮
বিবিএস প্রতিবেদন
বিবাহিত নারীদের ৮০ শতাংশ নির্যাতিত
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে বিবাহিত নারীর ৮০ শতাংশই নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তারা জীবনের কোনো না কোনো সময়ে নিজের স্বামীর মাধ্যমে অথবা অন্য কোনোভাবে শারীরিক, মানসিক, যৌন কিংবা অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক প্রতিবেদনে জানা যায়।

বিবিএস-এর ২০১১ সালের প্রতিবেদনে এ ধরনের নির্যাতনের শিকার নারীর হার ছিল ৮৭ শতাংশ। সেই হিসাবে বিগত চার বছরে এ নির্যাতনের হার কমেছে।

 গতকাল শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে নারী ‘নির্যাতন-২০১৫’ শীর্ষক হালনাগাদ এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ হিসেবে চার বছরে নারীদের ওপর নির্যাতন কমেছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক আবদুল ওয়াজেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, ইউএনএফপিএ-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি আর্জেন্টিনা প্রিসিন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়েদুন, পরিসংখ্যান বিভাগের সচিব কে এম মোজাম্মেল হক। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা একটি বৈশ্বিক সমস্যা। তবে নারী নির্যাতন অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব। প্রতিবেশী দেশের তুলনায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভালো। আমাদের আরও ভালো করার সুযোগ আছে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের জন্যই নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা কমাতে হবে। বর্তমান সরকার নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে  নেওয়ায় সহিংসতা আগের চেয়ে কমেছে দাবি করে তিনি বলেন, তারপরও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। ব্যুরোর প্রকল্প পরিচালক জাহিদুল হক সরদার জানান, ২০১৫ সালের ১৩ থেকে ২২ আগস্ট সারা দেশে ২১ হাজার ৬৮৮ জন নারীর সঙ্গে কথা বলে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, গত চার বছরে বিবাহিত নারীদের ওপর যৌন নির্যাতন কমলেও শারীরিক নির্যাতন বেড়েছে। ২০১৫ সালের জরিপে অংশগ্রহণকারী বিবাহিত নারীদের ৫০ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা বলেছেন। আর যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা বলেছেন ২৭ শতাংশ। ২০১১ সালে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের এই হার ছিল যথাক্রমে ৪৮ ও ৩৭ শতাংশ। ১৫ শতাংশ স্ত্রীর ওপর স্বামীরা নির্যাতন করেন আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য। ১৫  থেকে ৩৪ বছর বয়সী বিবাহিত নারীরা নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা বলেছেন সবচেয়ে বেশি। জরিপে অংশ নেওয়া গ্রামের বিবাহিত নারীদের ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ জীবনের কোনো না কোনো সময় স্বামীর নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা বলেছেন। শহরে এই হার ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ; আর জাতীয় পর্যায়ে ৪৯ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থনৈতিক নির্যাতনের ক্ষেত্রেও জাতীয় ও গ্রামীণ চিত্র প্রায় অভিন্ন। গ্রামের ১২ শতাংশ বিবাহিত নারী স্বামীর মাধ্যমে অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা বলেছেন। শহরে এই হার ১০ দশমিক ২ শতাংশ; জাতীয় পর্যায়ে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। জরিপে দেখা গেছে, স্বামী ও স্ত্রী শিক্ষিত হলে নির্যাতন করার প্রবণতা এবং নির্যাতিত হওয়ার ঘটনা কম ঘটেছে।

up-arrow