Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:৫৮
এখনো দৌড়ঝাঁপ ঢাকা লন্ডনে
তৎপরতার শেষ নেই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনে পদপ্রত্যাশীদের
মাহমুদ আজহার

দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণার পর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মনোযোগ দিচ্ছেন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনে। দলের ১১টি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অধিকাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ। এ নিয়ে পদপ্রত্যাশীদের চলছে দৌড়ঝাঁপ। গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে ঢাকায় প্রভাবশালী নেতাদের কাছে যেমন ধরনা দেওয়া হচ্ছে, পাশাপাশি শেষবারের মতো লন্ডনেও যোগাযোগ করছেন তারা। যে কোনো দিন যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিও দেওয়া হতে পারে। সূত্র জানায়, এ দুই সংগঠনের আংশিক কমিটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। এরই মধ্যে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের আংশিক কমিটি ঘোষণা হয়েছে। তা নিয়ে দলের ভিতরে-বাইরে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির পাশাপাশি অঙ্গ-সংগঠনের ব্যর্থতাকে বড় করে দেখা হচ্ছে। তাই অঙ্গ-সংগঠনের কমিটিকেও আন্দোলনমুখী কমিটি করার চিন্তা বিএনপিপ্রধানের। চলতি মাসেই কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে ঢাকা মহানগর বিএনপিরও। বিগত সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে ঢাকা মহানগর বিএনপির ব্যর্থতাকেই বড় দাগে দায়ী করছেন দলের একটি বড় অংশ। তবে দুইভাগে ঢাকা মহানগর কমিটি দেওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। জানা যায়, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কমিটি নিয়েও  বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা কাজ করছেন। সর্বশেষ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কমিটির মেয়াদও শেষ হচ্ছে আগামী সপ্তাহে। শীর্ষ পদে ঠাঁই পেতে ছাত্রদল নেতারাও ঢাকা-লন্ডন সমানতালে যোগাযোগ করছেন। সবমিলিয়ে অঙ্গ-সংগঠনের নেতাদের এখন নির্ঘুম রাত কাটছে। এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিএনপির নির্বাহী কমিটি ঘোষণা হয়েছে। এখন জেলা পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। অঙ্গ-সংগঠনগুলোর কমিটিও জরুরি হয়ে পড়েছে। কিছু অঙ্গ-সংগঠন মেয়াদোত্তীর্ণ। এসবের কমিটি নিয়ে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কাজ করছেন। দু-একটির কমিটি শিগগিরই হতে পারে।’ সূত্র জানায়, জাতীয়তাবাদী যুবদলের শীর্ষ পাঁচ পদের মধ্যে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক পদে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রফিকুল ইসলাম মজনু, সিনিয়র সহসভাপতি পদে আ ক ম মোজাম্মেল হক ও মোরতাজুল করীম বাদরু এবং প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে এস এম জাহাঙ্গীর ও জাকির হোসেনের নাম। তবে শেষ বেলায় কমিটি নিয়ে ঘষামাজা চলছে। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তনও আসতে পারে। যুবদলের পদপ্রত্যাশী এক নেতা জানান, ‘কমিটি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছুই বলা সম্ভব নয়। কারণ, ঘোষণার আগ মুহূর্তেও পদ পরিবর্তন হওয়ার নজির বিএনপিতে রয়েছে।’ জানা গেছে, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিও চূড়ান্ত পর্যায়ে। শীর্ষ পাঁচ পদের মধ্যে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক পদে আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ইয়াসিন আলী, প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এবং সিনিয়র সহসভাপতি পদে মোস্তাফিজুর রহমান ও গোলাম সারোয়ারের নাম শোনা যাচ্ছে। বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, ঢাকা মহানগর উত্তরে সভাপতি পদে এম এ কাইয়ুম ও তাবিথ আওয়ালের নাম শোনা যাচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক পদে সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণে সভাপতি পদে কাজী আবুল বাশার ও সাধারণ সম্পাদক পদে ইউনূস মৃধার নাম নেতা-কর্মীদের মুখে মুখে। এদিকে জাতীয়বাদী ছাত্রদলেও পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ চলছে। ছাত্রদলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন পর্যন্ত একটি জেলা কমিটিও ঘোষণা দিতে পারেনি। এমনকি একটি সাধারণ সভাও করতে পারেনি। এখন পর্যন্ত ৭৩৬ সদস্যের ঢাউস কমিটিকে নিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে না যাওয়াও বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবেও দেখছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তবে শেষ বেলায় জেলা কমিটি দেওয়ার তোড়জোড় চলছে। ছাত্রদলের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা জানান, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে অপূর্ণাঙ্গ ৪৫টি সাংগঠনিক জেলার কমিটি দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে। বর্তমান কমিটির সভাপতি রাজিব হাসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান এবং সিনিয়র সহসভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন সম্প্রতি বিএনপি ঘোষিত জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন। অবশ্য আকরামুল হাসান আর মামুনুর রশীদ মামুন নতুন কমিটিতেও সভাপতি পদে প্রার্থী। এ নিয়ে তারা তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়াও সভাপতি পদপ্রত্যাশীরা দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছেন এজমল হোসেন পাইলট, নাজমুল হাসান, আলমগীর হোসেন সোহান, ইখতিয়ার কবীর, মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ। সাধারণ সম্পাদক পদে আসাদুজ্জামান আসাদ, মিয়া রাসেল, মফিজুর রহমান আশিক, নূরুল হুদা বাবু, আবদুর রহীম সেতু, করীম সরকার, বায়েজিদ আরেফিন প্রমুখ নেতার নাম নেতা-কর্মীদের মুখে মুখে। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সৈয়দ মাহমুদ, আরাফাত বিল্লাহ ও মেহেদী হাসানের নাম শোনা যাচ্ছে। যুগ্ম সম্পাদক পদে সম্পাদকীয় পর্যায়ের ছাত্রনেতারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মহিলা দলের কমিটি নিয়ে নানা প্রশ্ন : জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ঘোষিত আংশিক কমিটি নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েছে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহের মৃত্যুর দিন কেন কমিটি ঘোষণা করা হলো তা নিয়ে নেতা-কর্মীদের হাজারো প্রশ্ন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। একইভাবে আন্দোলনমুখী কমিটির ঘোষণা দিলেও মহিলা দলে রাজপথের নেত্রীর সংখ্যা খুবই কম বলে জানা গেছে। বিশেষ করে মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদকে নিয়ে বিএনপির সর্বত্রই সমালোচনার ঝড় বইছে। মহিলা দলের মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীরা বলছেন, দলের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার কোনো যোগ্যতাই নেই সুলতানার। অতীতে আন্দোলন-সংগ্রামেও তার কোনো ভূমিকা ছিল না। তবে বিশেষ একটি মহলের পছন্দের কারণেই দলকে বিবেচনায় না নিয়ে সুলতানা আহমেদকে ওই পদ দেওয়া হয়েছে। যারা পছন্দ করেছেন, তারা কেউই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। এদিকে দলের সদ্যবিদায়ী সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তীতে রাজপথের সব আন্দোলনেই অগ্রভাগে ছিলেন। তিনি মহিলা দলে থাকতে বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক পদও ছাড়েন। সারা দেশে তার বিশাল নেটওয়ার্কও রয়েছে। এ নিয়ে শিরিন সুলতানা কোনো কথা না বললেও তার ঘনিষ্ঠজনরা জানান, শিরিন সুলতানা খুবই হতাশ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow