Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:৫৮
আবাসন খাতে ভর্তুকি ও স্বল্প সুদে ঋণ চায় রিহ্যাব
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বল্প আয়ের মানুষের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে এ খাতে সরকারি ভর্তুকি ও সিঙ্গেল ডিজিট (এক অঙ্কের) সুদের ঋণ চেয়েছে রিহ্যাব। রাজধানী ও আশপাশের জমি-স্বল্পতার কথা মাথায় রেখে সরকারি উদ্যোগে প্লট বিতরণ বন্ধের দাবি জানিয়েছে আবাসন খাতের উদ্যোক্তাদের এই সংগঠনটি। গৃহ নির্মাণ সুদের হার কমিয়ে আবাসন ঋণ তহবিল গঠনেরও দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া আবাসন খাতের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা, আইন যুগোপযোগী করা, বিভিন্ন সংস্থার অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে একটি মনিটরিং সেল গঠনের কথা বলেছে রিহ্যাব। গতকাল রাজধানীর সুন্দরবন হোটেলে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) আয়োজিত ‘গৃহায়ণই উন্নয়নের কেন্দ্র’ শীর্ষক ওই আলোচনা সভায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। রিহ্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন এমপির সভাপতিত্বে আলোচনায় সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বেসরকারি সংস্থা ‘নাগরিক সংহতি’র সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফ। এতে অতিথি আলোচক ছিলেন সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শেখ শহিদুল ইসলাম, সংবাদ প্রতিদিনের সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, বিশিষ্ট ভাস্কর্যশিল্পী ভাস্কর রাশা, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মাকসুদুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন রিহ্যাবের প্রথম সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভুঁইয়া মিলন, সহ-সভাপতি প্রকৌশলী সরদার মো. আমিন, প্রকৌশলী মো. সোহেল রানা ও স্থপতি আখিল আক্তার চৌধুরী। আলোচনা সভায় রিহ্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন বলেন, স্বল্প আয়ের মানুষের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে এ খাতে সরকারি ভর্তুকি ও সিঙ্গেল ডিজিট (এক অঙ্কের) সুদে ঋণ দেওয়া উচিত। আবার কোনো কোনো উদ্যোক্তা ১০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত লাভ করছেন, এটাও ঠিক নয়। তার মতে, রাজধানীর গণ্ডি পেরিয়ে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা শহরের গ্রাহকদের আর্থিক দিক বিবেচনা করে উদ্যোক্তাদের আবাসন প্রকল্প নিতে হবে। বিভিন্ন জেলায় চরে বসবাস করা সব হারানো লোকজনের কথাও চিন্তা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে সব ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে এমপি শাওন বলেন, ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীনদের আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা করছে সরকার। তিনি সরকারের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। শ্রীলঙ্কায় আমরা ৫০ হাজার টন চাল রপ্তানি করেছি। নেপালে ভূমিকম্পদুর্গতদের জন্য সাহায্য পাঠিয়েছি। ফলে এটা পরিষ্কার, আজকের বাংলাদেশ ভিক্ষা চায় না, বরং ভিক্ষা দেয়।’ সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) ব্যবসায়িক মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আমি মন্ত্রী থাকাকালে রাজউককে প্ল্যানিং বডি হিসেবে গঠন করা হয়েছিল। অথচ রাজউক এখন সে কাজ করছে না। পূর্বাচল প্রকল্প ২৩ বছরেও শেষ হয়নি। যারা জমি পেয়েছেন, সেখানে একটি ফ্ল্যাটও তৈরি হয়নি।’ নান্দনিক ভবন তৈরির পাশাপাশি বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার পক্ষে মত দেন তিনি। সিনিয়র সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, দেশে ভূমি ব্যবহার নীতিমালা দরকার। এই নীতিমালায় থাকতে হবে— কোন জমিতে শিল্প, কোন জমিতে কৃষি ও কোন জমিতে মানুষের আবাসন হবে। তার মতে, রাজউক নিম্নবিত্তদের প্লট দেয়নি। তবে সরকার চাইলে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন তৈরি করা যেতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, দেশের সবখানে সমানভাবে নগরায়ণ হচ্ছে না। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ঢাকায় নগরায়ণের মাত্রা ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। তিনি রাজধানীর এলাকাভেদে ফ্ল্যাটের বর্গফুট মূল্য নির্ধারণে রিহ্যাবকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, একটা নির্ধারিত মূল্য থাকা দরকার।

ভাস্কর্যশিল্পী ভাস্কর রাশা বলেন, ‘গৃহ দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। আমাদের গৃহ আমাদের মতো করে সাজাতে সুন্দর নগর পরিকল্পনা চাই। তবে রাজউকের কাজ উন্নয়ন করা, ব্যবসা করা নয়। কিন্তু তারা এখন ফ্ল্যাট তৈরি করে ব্যবসা করছে।’ জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ঢাকার ওপর চাপ কমাতে নগর বিকেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে দরিদ্র, স্বল্পগু ও মধ্যবিত্ত নাগরিকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানান তিনি। আলোচনা সভার মূল প্রবন্ধে নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফ নয়টি সুপারিশ তুলে ধরে বলেন, রাজধানীমুখী জনস্রোত ঠেকাতে গ্রামে কাজের ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে হবে। খাসজমি চিহ্নিত করে ভূমিহীন মানুষের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করতে হবে। জেলা শহরের আশপাশে কমিউনিটিভিত্তিক শহর গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে সুদের হার কমিয়ে একটি আবাসন ঋণ তহবিল গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow