Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:০০
ভবন ধসে কাপ্তাই লেকে উদ্ধার চার লাশ
রাঙামাটি প্রতিনিধি
ভবন ধসে কাপ্তাই লেকে উদ্ধার চার লাশ

রাঙামাটি শহরে একটি দোতলা ভবন কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ধসে পড়েছে। এ ঘটনায় বাবা-মেয়েসহ কমপক্ষে ৪ জন নিহত হয়েছে।

নিহতরা হলেন— মো. জাহিদ ড্রাইভার (৪০) ও তার মেয়ে পিংকি আক্তার (১৩), উম্মে হাবিবা (২২) ও সামাদ (১২)। গতকাল বিকাল ৫টার দিকে শহরের সরকারি মহিলা কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে আরও একজন। উদ্ধার তত্পরতা অব্যাহত    রেখেছে কাপ্তাই নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিজিবি ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা। এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া ভবনের মালিক টিটুর বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে রাঙামাটি কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. সফিউল সারোয়ার। অন্যদিকে নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাল ৫টার দিকে টিনের ছাদ দেওয়া ভবনটি পানিতে হেলে যেতে দেখা যায়। ভবনটি হেলে যাওয়ার সময় দু-তিনজন বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। কিন্তু কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ভবনের অর্ধেক অংশ ডুবে যাওয়ায় ঘর থেকে বের হতে পারেনি চারটি পরিবারের কমপক্ষে ৮ জন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও রেড ক্রিসেন্ট সদস্যরাসহ স্থানীয়রা। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে ভবনের কিছু অংশ ভেঙে উদ্ধার করা হয় মো. জাহিদ ড্রাইভার ও তার মেয়ে পিংকি আক্তার, উম্মে হাবিবা ও সামাদকে। উদ্ধারের পর তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাঙামাটি অতিরিক্ত সিভিল সার্জন রুহী বনানী জানান, চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতালে আনার আগেই পানিতে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।   উদ্ধার হওয়া ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, কাপ্তাই হ্রদ তীরবর্তী এলাকায় ভবনটিতে বসবাস করত ৪টি পরিবার। সম্প্রতি কাপ্তাই হ্রদে পানি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে ভবনটি। কিন্তু তারপরও ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছিল তারা। বিকাল ৫টার দিকে হঠাৎ ভবনটির পাশে একটি নারিকেল গাছ পানিতে উল্টে পড়ে। এর পরপরই ভবনটিও ধসে পড়ে। ভবনের নিচের তলায় এখন পর্যন্ত একজন আটকা আছে।   এদিকে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান, রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মালিক সামস উদ্দিন মোহাম্মদ মঈন, পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সফিউল সারোয়ার, ফায়ার সার্ভিস সহকারী পরিচালক মো. গোলাম মোস্তফাসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মালিক সামস উদ্দিন মোহাম্মদ মঈন জানান, ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। হয়তো পানির নিচে ভবনের ভিতরে আরও মানুষ থাকতে পারে। তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। যতক্ষণ পর্যন্ত ভবনের সব মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এ উদ্ধার কাজ অব্যাহত থাকবে। অভিযোগ উঠেছে, রাঙামাটির কাপ্তাই লেক দখল করে পানির ওপর দোতলাবিশিষ্ট পাকা বাড়িটি নির্মাণ করেন স্থানীয় ঠিকাদার টিটু। এরপর ভাড়া দেন। বাড়িটি অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তারপরও ওই বাড়িতে বসবাস করত চারটি ভাড়াটিয়া।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow