Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১৪
বাগমারায় জেএমবি নেতা আওয়ামী লীগের প্রার্থী
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
বাগমারায় জেএমবি নেতা আওয়ামী লীগের প্রার্থী

রাজশাহীর বাগমারার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নে এবার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেলেন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ— জেএমবির     এক নেতা আলমগীর সরকার। জেএমবির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এমন অভিযোগে উপজেলা  আওয়ামী  লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালামের দলীয় মনোনয়ন বাতিল করে আলমগীর সরকারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

মনোনয়ন পাওয়া আলমগীরের বাড়িতে জেএমবির মিডিয়া সেল ছিল। যেখানে জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করতেন। ওই বাড়িতে একাধিক গোপন বৈঠক করেছে। যার ভিডিওচিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে আলমগীর বলছেন, তৎকালীন পুলিশ সুপার মাসুদ রানার নির্দেশে জেএমবি নেতাদের তার বাড়িতে বৈঠক করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আপ্যায়নের জন্য আমি ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম। জেএমবির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। ’ বড় ভাই রাজনীতি করতেন। গত ৭ মে বাগমারা উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর দুই দিন আগে ৫ মে নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালান আবদুস সালাম। তবে সালামের বিরুদ্ধে জেএমবি-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠায় তার মনোনয়ন বাতিল করে আওয়ামী লীগ। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, এবার দলীয় মনোনয়নের জন্য জেলার কাছে কোনো তালিকা চাওয়া হয়নি। কেন্দ্র থেকে সরাসরি দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। আসাদ জানান, আলমগীর সরকারের বাড়িতে ২০০৪ সালে জেএমবি নেতাদের বৈঠক হতো তা সবাই জানে। তার ভিডিওচিত্র আছে। তাই গতবার তার নাম পাঠানো হয়নি। এবার তিনি কীভাবে দলীয় মনোনয়ন পেলেন তা জানা নেই। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি জাহেদুল ইসলাম বলেন, ২০০৪ সালে আলমগীর সরকার ও তার বড় ভাই জাহাঙ্গীর সরকার জেএমবির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের বাড়িতে গোপন বৈঠক করে তালিকা তৈরি করা হতো। সে তালিকা অনুযায়ী জেএমবির সদস্যরা আওয়ামী লীগ কর্মীসহ এলাকার লোকজনকে ধরে নিয়ে নির্যাতন ও চাঁদা আদায় করতেন।

up-arrow