Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১৫
সভ্য সমাজে ছাত্রী কোপানো কল্পনা করতে পারি না
রুহুল আমিন রাসেল
সভ্য সমাজে ছাত্রী কোপানো কল্পনা করতে পারি না
এ কে আজাদ চৌধুরী

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলম কর্তৃক সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসকে কোপানোর ঘটনায় নিন্দা জানানোর ভাষা জানা নেই দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরীর। এ জঘন্য ঘটনাকে তিনি বলেছেন একের পর এক যে ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, তাতে আমি সমাজের ব্যাপারে শঙ্কিত। সভ্য সমাজে এ রকম লোক থাকতে পারে, এটাই আমি কল্পনা করতে পারি না। আমি এ ঘটনার দ্রুত বিচার আশা করি। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী আরও বলেন, এই জঘন্য ঘটনা এবং কোনো মানুষ এমন আচরণ করতে পারে, তা আমার কল্পনার অতীত। সন্ত্রাসী বিশ্বে (ক্রিমিনাল ওয়ার্ল্ড) এমন কোনো রেকর্ড আছে কিনা যে— একটা মেয়ে আহত হয়ে পড়ে আছে, তারপর মাথায় একটার পর একটা এভাবে আঘাত করে যাচ্ছে। সে কি অপ্রকৃতিস্থ নাকি পাগল, নাকি বড় ক্রিমিনাল, আমি জানি না। তবে এটাকে নিন্দা করার ভাষা আমার জানা নেই। আমি এই ঘটনার যথোপযুক্ত শাস্তি আশা করি এবং ভবিষ্যতে যেন এ রকম কোনো ঘটনা না ঘটে, তার জন্য সবাই— সমাজ, রাষ্ট্র, যথাযথ পদক্ষেপ নেবে, গ্রহণ করবে, আশা করছি। এ ধরনের ঘটনায় সমাজ, দেশ, রাষ্ট্র কোন দিকে যাচ্ছে— এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন—ইউজিসির সাবেক এই চেয়ারম্যান বলেন, আমি শঙ্কিত। কারণ, কিছুদিন আগে ঢাকায় একটা ছেলে একটা মেয়েকে ছুরিকাঘাত করে মেরে ফেলল। তারপর সিলেটে এই ঘটনা। আরও দু-একটা জায়গায় এ রকম ঘটনা। আমি শঙ্কিত। এমন ঘটনার পর রাষ্ট্রের ভূমিকা কী হওয়া উচিত— এ প্রশ্নের জবাবে ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্র তার নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং যারা এ কাজ করেছে, তাদের উপযুক্ত বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দেবে। সেই শাস্তির ভার সরকারের আইনের আর বিচারালয়ের। নিশ্চয় সেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ছাত্রলীগের দায় অস্বীকার প্রসঙ্গে সরকার সমর্থক এই বরেণ্য শিক্ষাবিদ বলেন, এটা আমি বলতে পারব না, সে ছাত্রলীগের কিনা বা নেতা কিনা। ছাত্র সংগঠনটি সেটা বোধহয় বলতে পারবে। তবে একটা সাধারণ প্রবণতা বেড়েছে অনেক দিন থেকে যে, কোনো সন্ত্রাস-অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িয়ে পড়লে, তখন তাকে অস্বীকার (ডিজওন্ড) করা হয়। এ অস্বীকারের দুটি দিক আছে। একটা ভালো দিক যে, আমরা এ দায়দায়িত্ব নিতে চাই না। তাকে অস্বীকার করলাম। খারাপ দিক হলো, এটাকে অস্বীকার করার যে প্রবণতা, তাও তো ভালো নয়। এ দুটি দিক আছে। আমি জানি না সে প্রকৃতই ছাত্রলীগের নেতা কিনা। যদি সে ছাত্রলীগের নেতা হয়, তার পরও আমি আশস্ত যে, সরকার তার বিচার যথাযথ করবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আইন তার যথাযথ গতিতে চলবে। কোন দল বা কোন রাজনীতি, তা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে না। মেহের আফরোজ চুমকিও (নারী ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী) একই কথা বলেছেন। আবার দেখলাম সিলেটের নেতারাও যথোপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছেন। এগুলো কিন্তু আশার কথা। আমি বিশ্বাস করতে পারি, তারা এটা কার্যকর করবেন।

up-arrow