Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৬ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:৪৯
কাউন্সিলের পরই রদবদল হবে মন্ত্রিসভায়
রফিকুল ইসলাম রনি
কাউন্সিলের পরই রদবদল হবে মন্ত্রিসভায়

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের পর মন্ত্রিসভার রদবদল হতে পারে। বিতর্কিত, অদক্ষ ও বয়সের ভারে ন্যুব্জদের তখন মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে বলে দলে আলোচনা আছে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কথা বলে জানা যায়, কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও মন্ত্রিসভায় ভারসাম্য আনা হবে। কোনো যোগ্য নেতাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেওয়া সম্ভব না হলে তাকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হতে পারে। দল ও সরকারে গতি আনতে নবীন-প্রবীণের সমন্বয় করা হতে পারে। অপেক্ষাকৃত তরুণ ও যোগ্যদের মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হতে পারে।

দল ও মন্ত্রিসভা কীভাবে ঢেলে সাজানো যায়, তা নিয়ে হিসাব কষছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সামনে রয়েছে কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রীদের বিগত দিনের কাজের হিসাব। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। ওই বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি এ এইচ মাহমুদ আলীকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নজরুল ইসলামকে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী করা হয়। ২০১৪ সালের ৭ জুলাই নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন নুরুল ইসলাম বিএসসি এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারানা হালিম ও নুরজ্জামান আহমেদ। প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ইয়াফেস ওসমান তখন পূর্ণ মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। এরপর গত ১৫ মাসে মন্ত্রিসভায় আর কোনো রদবদল হয়নি। এবারের কাউন্সিলের পর পরিবর্তন আনার কথা ভাবছেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় আগের সরকারে যারা দক্ষতা দেখাতে পারেননি বা নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছিলেন, তাদের আর নেওয়া হয়নি। স্থান দেওয়া হয় বেশকিছু নতুন মুখ ও জেলার প্রবীণ নেতাদের। এদের কেউ কেউ বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন। তাদের অনেককে অন্যের সাহায্যে চলাফেরা করতে হয়। এখন তাদের অবসরে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন দলের শীর্ষপর্যায়। সূত্রমতে, বর্তমান সরকার আমলে মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য সরকারকে বেশ কয়েকবার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছেন। কিছু কিছু মন্ত্রণালয়ে কাজে বিশৃঙ্খলা এবং স্থবিরতার অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রয়েছে কর্মকর্তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ। কারও বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুর জমি দখল কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিতর্কিত ভূমিকা রাখার অভিযোগও রয়েছে। মন্ত্রীদের কারও কারও পরিবারের সদস্যরাও জড়িয়ে পড়ছেন নানা অপকর্মে। অনেক বিষয়ের হিসাব-নিকাশ করেই প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভায় রদবদলের হিসাব কষছেন বলে নির্ভরযাগ্য সূত্রে জানা গেছে।

দলীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের আগামী কাউন্সিলের মাধ্যমে দল ও সরকারকে গতিশীল করতে চান। এবার কাউন্সিলের মাধ্যমে দলে তিনি দক্ষ ও স্বচ্ছ নেতৃত্ব নিয়ে আসতে পারেন। বাদ দিতে চান অদক্ষ কেন্দ্রীয় নেতাদের। একজনকে একাধিক দায়িত্বে না রাখার কথাও ভাবছেন তিনি। এ কারণে আগামী কেন্দ্রীয় কমিটিতে বেশ রদবদল হতে পারে। পাশের দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার সরকারের কাজের গতিশীলতা আনতে দুই দফা মন্ত্রিসভার রদবদল এনেছেন। সরকারের কাজে-কর্মে গতি আনতে কাউন্সিলের পর শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভায় রদবদল আনতে যাচ্ছেন বলে দলে জোর আলোচনা আছে। জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের দুজন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও মন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল। কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে পারে। মন্ত্রিসভার রদবদল প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তবে কাউন্সিলের পর মন্ত্রিসভায় নতুন দায়িত্ব বণ্টনে দল ও সরকার আরও গতিশীল হবে। দলীয় প্রধান এমনটাই ভাবছেন।

প্রধানমন্ত্রীর অসন্তোষ : বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভির) মহাপরিচালক ও দলের কিছু নেতা-কর্মীর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ২ অক্টোবর বিকালে গণভবনে সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলে দলের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা নিশ্চিত করেছেন। সম্প্রতি কানাডার গ্লোবাল ফান্ডের পঞ্চম রিপ্লেনিশমেন্ট সম্মেলন এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ৭১তম অধিবেশন শেষে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সংবাদ সম্মেলনে দলীয় নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার স্থিরচিত্র বেশি করে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচার করার ফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনে এত নেতা আসার দরকার কী? এ ছাড়া গণভবনে এখন পাস দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর হওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের তিনি নির্দেশ দেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow