Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৬ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:৫৬
এসপিপত্নী মিতু হত্যা
মুছার জন্য পুরস্কার ঘোষণা পুলিশের
সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

আলোচিত সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন আসামি কামরুল সিকদার ওরফে আবু মুছার দিকেই দৃষ্টি পুলিশের। সেই মুছাকে ধরিয়ে দিতে এবার পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।

গতকাল দুপুরে সিএমপি কার্যালয়ে এ ঘোষণা দেন পুলিশ কমিশনার মো. ইকবাল বাহার। তবে মুছার স্ত্রী সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেছেন, সাদা পোশাকধারী প্রশাসনের লোকজন তার স্বামীকে তুলে নিয়ে গেছে।

পুলিশ কমিশনার মো. ইকবাল বাহার বলেন, ‘মুছাকে গ্রেফতার করলে অথবা গ্রেফতারে সহায়তা করলে তার জন্য পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করছি। মিতু হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। সবকিছু বিশ্লেষণ করে পাওয়া যায়, মুছার নেতৃত্বে একটি দল এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আমাদের তথ্যমতে মুছার নির্দেশে এবং তদারকিতে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। মুছা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অথবা কারও নির্দেশে অথবা কারও হয়ে খুন করেছেন কিনা, এ উত্তর পাওয়ার জন্য তাকে পাওয়া খুবই জরুরি। সীমান্তসহ জলপথ, আকাশপথ, স্থলবন্দর দিয়ে যাতে মুছা দেশ ছেড়ে যেতে না পারেন, সে বিষয়টি জানিয়ে রেখেছি। ’ মুছাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এমন বক্তব্য রয়েছে স্ত্রীর, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি যিনি বলেছেন তার প্রমাণ করার বিষয় আছে এবং আমরা মুছাকে গ্রেফতার করিনি। ’ বাবুল আক্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি মামলার বাদী। তার সঙ্গে আমাদের তদন্ত কর্মকর্তার বিভিন্ন সময় কথা হয়েছে। আমাদের প্রয়োজনে তাকে অফিসিয়ালি চিঠি দিয়ে আসার জন্য বলা হবে। ইতিমধ্যে তিনি নিজেও আসার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। আশা করছি তার কাছ থেকে নতুন কিছু তথ্য পাব। ’ প্রসঙ্গত, ৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় নগরীর ওআর নিজাম রোডে দুর্বৃত্তদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত ও গুলিতে নিহত হন সদর দফতরে কর্মরত তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের পরই সিএমপির গোয়েন্দা ইউনিটের সঙ্গে তদন্তে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। আইজির নির্দেশে ঘটনা তদন্তে পাঁচটি সমন্বিত টিম গঠন করা হয়। এখন মামলাটি তদন্ত করছেন চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (দক্ষিণ) মো. কামরুজ্জামান। হত্যাকাণ্ডের পর ২৪ জুন রাতে বাবুল আক্তারকে রাজধানীতে তার শ্বশুরের বাসা থেকে তুলে নিয়ে টানা ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow