Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০২
এ কেমন পরাজয় !
ইমরুলের শতকেও জেতা ম্যাচ হাতছাড়া
মেজবাহ্-উল-হক
এ কেমন পরাজয় !
সেঞ্চুরির পর ইমরুল কায়েস —রোহেত রাজীব

বাংলাদেশের স্কোর ২৭১/৪। জয়ের জন্য ৩১০ রানের টার্গেটে পৌঁছাতে দরকার ৫১ বলে ৩৯ রান। সেখান থেকে ২৮৮ রানে অলআউট। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২১ রানে হেরে গেল টাইগাররা। ভালো খেলেও শেষ মুহূর্তে এ কেমন পরাজয় বাংলাদেশের!

ম্যাচের রং বদলে যায় ৪২তম ওভারে। সাকিব আল হাসান আউট হওয়ার পর হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপ। দুর্দান্ত লড়াই করে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসার পরও শেষ ১৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে যেন জেতা ম্যাচটা ইংল্যান্ডকে উপহার দিল বাংলাদেশ।

টাইগাররা হারলেও ম্যাচের পরতে পরতে ছিল রোমাঞ্চ। কে লিখেছিলেন এই ম্যাচের চিত্রনাট্য! আর ইমরুল কায়েসই বা কোথা থেকে পেলেন এমন অসুরের শক্তি! রানের খাতা খুললেন ছক্কা দিয়ে। এ ছক্কা আবার যেনতেন নয়। বল গিয়ে পড়েছিল শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারির দ্বিতীয় তলায়। এমন ছক্কা হাঁকাতে দেখা যায় কেবল ক্রিস গেইল, এ বি ডি ভিলিয়ার্সদের। অথচ প্রস্তুতি ম্যাচে ৯১ বলে ১২১ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলার পরও অনেকে বলেছিলেন ইমরুল তার সেরা ইনিংসটা খেলে ফেলেছেন। কিন্তু ১১২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে সমালোচকদের জবাবটা ভালোই দিয়েছেন ইমরুল। তবে দলকে জেতাতে না পারায় তার উজ্জ্বল ইনিংসটা যেন হারিয়ে ফেলল খানিকটা রং। সাকিবের ৫৫ বলে ৭৯ রানের বিনোদনে ভরপুর ইনিংসটাও যেন হতাশার ছবি হয়ে থাকল। ইস্! সাকিব যদি আর একটু ধৈর্য ধরতেন। যদিও জয়-পরাজয় খেলারই অংশ। তার পরও এমন অদ্ভুতভাবে হারতে হবে তা কি কেউ কল্পনা করেছিল। তবে এ হারটা যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের চোখে আঙুল দিয়ে শেখাল একের পর এক ভুল করতে থাকলেও ভাগ্যবিধাতাও তার সিদ্ধান্ত বদলান।

এক ম্যাচে কত্তো ভুল! ফিল্ডিংয়ের সময় একে একে ছয়টি ক্যাচ মিস করলেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। মোশাররফ একাই দুটি, একটি করে মিস করেছেন মাহমুদুল্লাহ, মোসাদ্দেক ও তাসকিন। চারজন ফিল্ডার আশপাশে থাকার পরও একটি ক্যাচ পড়ল নো-ম্যানস-ল্যান্ডে। অথচ এমন দিনে ইংলিশ ফিল্ডার ডেভিড উইলি এমন একটি ক্যাচ নিয়েছেন যা কিনা ওয়ানডের অন্যতম সেরা ক্যাচগুলোর একটি হতে পারে। ছক্কার উদ্দেশ্যে তুলে মারেন সাব্বির রহমান। ডিপ স্কোয়ার লেগে ইংলিশ ফিল্ডার ডেভিড উইলি প্রথম চেষ্টায় কয়েক ফুট লাফিয়ে বলটি শূন্যে ভাসিয়ে দিয়ে নিজে ছিটকে পড়লেন বাউন্ডারির বাইরে। দ্রুত উঠে দ্বিতীয় দফায় ক্যাচটি তালুবন্দী করলেন। অসাধারণ এক ক্যাচ। ফিল্ডারদের ফিল্ডিং ভুলে যাওয়ার দিনে দুবার নতুন জীবন পেয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটা তুলে নিয়েছেন বেন স্টোকস। খেলেছেন ১০০ বলে ১০১ রানের নান্দনিক এক ইনিংস। স্টোকস প্রথম জীবন পান ৬৯ রানে। নতুন জীবন পেয়ে ইংলিশ অধিনায়ক জস বাটলার খেলেন ৬৩ রানের ঝড়ো ইনিংস। সুযোগ পেয়ে পরের ১০ বলেই করেছেন ২৬ রান। অভিষিক ইংলিশ ব্যাটসম্যান ডাকেট খেলেছেন ৬০ রানের ইনিংস। তিনিও দুবার সুযোগ পেয়েছেন। তার পরও ম্যাচসেরা কোনো ব্যাটসম্যান নন। ৫১ রানে ৫ উইকেট নিয়ে সেরা হয়েছেন অভিষিক্ত বোলার জ্যাক বল।

up-arrow