Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০৫
শান্তিতে নোবেল পেলেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট সান্তোস
প্রতিদিন ডেস্ক
শান্তিতে নোবেল পেলেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট সান্তোস

৫২ বছরের গৃহযুদ্ধ। তাতে প্রাণ হারিয়েছেন লাখো মানুষ। সেই অশান্তির সমাপ্তি টানতে শান্তিতে নোবেল পেলেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস। যদিও সেই চুক্তি সমর্থন করেননি দেশের মানুষ। গণভোটে তারা সেই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন। কিন্তু শান্তি চুক্তির কারিগর হিসেবে এ বছর শান্তিতে নোবেল পেলেন তিনি।

পাঁচ দশকের ওপরে কলম্বিয়ায় অতি-বামপন্থি ‘ফার্ক’ গেরিলারা কলম্বিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত। যে গৃহযুদ্ধ সোয়া দুই লাখ মানুষের প্রাণ কেড়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৬০ লাখ নাগরিক। দীর্ঘ এই গৃহযুদ্ধকে টিকিয়ে রাখার জন্য বরাবরই সক্রিয় ছিল আমেরিকা। দীর্ঘ দিন ধরে কলম্বিয়াকে প্রচুর অস্ত্রও বিক্রি করেছে আমেরিকা। অস্ত্র বিক্রির তালিকায় কলম্বিয়া ছিল প্রথমে।

দীর্ঘ এই গৃহযুদ্ধ থামাতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেগুলো ফলপ্রসূ হয়নি। আবার যুদ্ধে ফিরে গেছে কলম্বিয়া। এর পরেও ‘ফার্ক’-এর সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে পিছপা হননি প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল সান্তোস। তাকে সাহায্যে এগিয়ে এসেছে প্রতিবেশী দেশ কিউবা। অবশেষে বিদ্রোহীরা শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয়। সাক্ষরও হয় সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে। বিদ্রোহীরা রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ পায়। কিন্তু সেই চুক্তি মানতে রাজি নয় দেশটির জনগণ। তাইতো গত সপ্তাহে গণভোটে নাগরিকরা চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে। এক কোটি ৩০ লাখ ভোটারের মধ্যে কলম্বিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই শান্তি চুক্তির বিরুদ্ধে তাদের মতামত দিয়েছেন। যদিও শান্তি চুক্তির সপক্ষের মতও খুব একটা পিছিয়ে নেই।

যেহেতু কলম্বিয়ায় শান্তিচুক্তি কার্যকর হয়নি। সে অবস্থায় সান্তোসকে নোবেলে শান্তি পুরস্কার দেওয়ায় নোবেল কমিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। তবে নোবেল কমিটি জানিয়েছে, তারাও ভোটের ফলাফলে শঙ্কায় রয়েছে। তবে তাদের আশা, ভোটের ফলাফল পুরস্কার প্রক্রিয়াটিতে কোনো ব্যাঘাত ঘটাবে না। বরং এই পুরস্কার প্রক্রিয়াটিকে আরও জোরালো করবে। নোবেল কমিটি বিবৃতিতে আরও বলেছে, শান্তি চুক্তির বিরুদ্ধে ভোট শান্তির বিরুদ্ধে নয়। শান্তি চুক্তির ধরনটিকে অনেকে অপচ্ছন্দ করেছেন। কারণ যাদের বিরুদ্ধে শত শত মানুষকে হত্যার অভিযোগ আছে তাদের মাফ করা হয়েছে। এছাড়া কলম্বিয়ার মতো দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে আক্রান্ত দেশের পক্ষে খুব সহজে সমাধানে পৌঁছনো হয়তো সম্ভবও নয়। তবে শান্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং তা সফল হবে।

up-arrow