Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৪৭
বাঘের থাবায় হারল ইংল্যান্ড
ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত মাশরাফি । সিরিজে সমতা আনল টাইগাররা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাঘের থাবায় হারল ইংল্যান্ড
দলের কঠিন সময়ে হাল ধরলেন কাণ্ডারি। খেললেন ৪৪ রানের ঝড়ো ইনিংস। এরপর একে একে ইংলিশ বধের দায়িত্বটাও কাঁধে তুলে নিলেন দলপতি মাশরাফি —বাংলাদেশ প্রতিদিন

বোলার মাশরাফি করলেন বিস্ফোরক ব্যাটিং। টাইগার অধিনায়ক বল হাতেও দুরন্ত।

প্রথম স্পেলেই লণ্ডভণ্ড করে দেন ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ। সেই সঙ্গে নেতৃত্বে ক্ষুরধার এক-একটি সিদ্ধান্ত। গতকাল মাশরাফির বীরত্বেই ইংল্যান্ডকে ৩৪ রানে হারায় বাংলাদেশ। সিরিজে এখন ১-১ সমতা। চট্টগ্রামের ম্যাচটি এখন হয়ে গেল ‘অঘোষিত’ ফাইনাল। বাঘের থাবায় ইংলিশরা লো-স্কোরিং ম্যাচেও জিততে পারেনি।

মাশরাফি যখন ব্যাট হাতে ২২ গজে যান তখন দলের স্কোর ৭ উইকেটে ১৬৯। খেলার বাকি ছিল মাত্র ৫০ বল (৮.২ ওভার)। যেখানে আগের ম্যাচে ফ্লাড উইকেটে ছয় ব্যাটসম্যান মিলে ৫১ বলে ৩৯ রানের জয়ের টার্গেটে পৌঁছাতে পারেনি, সেখানে এই স্লো উইকেটে শেষ তিন ব্যাটসম্যান আর কতই বা করবে! দুইশ হবে কিনা তা নিয়েই ছিল সংশয়। কিন্তু সেই স্কোরটিই ৫০ ওভার শেষে ২৩৮। মাশরাফি খেলেন ২৯ বলে ৪৪ রানের ঝড়ো ইনিংস। তিনটি বিশাল ছক্কার সঙ্গে দুটি বাউন্ডারি। ঝড়ো ব্যাটিংয়ের পর বল হাতেও ম্যাজিক দেখালেন টাইগার ক্যাপ্টেন। ছয় ওভারের প্রথম স্পেলে মাত্র ২১ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়ে ইংলিশদের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দিলেন। ইংল্যান্ডের শেষ জুটিটা যখন অকারণে চোখ রাঙাচ্ছিল তখনো বাংলাদেশ দলের ত্রাতা হয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২৯ রানে নেন ৪ উইকেট। দুই ওপেনার জেসন রয় ও জেমস ভিন্সকে দ্রুত সাজঘরে পাঠিয়ে দেন টাইগার ক্যাপ্টেন। বেয়ার স্ট্রকে উইকেটে থিতু হতেই দেননি। মাশরাফির সঙ্গে আরেক প্রান্তে সাকিব আল হাসানও চাপ সৃষ্টি করছিলেন। আগের ম্যাচের হাফ সেঞ্চুরিয়ান ডাকেটকে রানের খাতা খোলার আগেই আউট করেন। তবে মাত্র ২৬ রানে চার উইকেট হারানোর পরও ইংলিশ দলপতি জস বাটলার পঞ্চম উইকেটে বেয়ার স্ট্রকে নিয়ে লড়াই জমিয়ে তুলেছিলেন। কিন্তু প্রথম স্পেলে দুই ওভারে ১৯ রান দেওয়া তাসকিন দ্বিতীয় স্পেলে প্রথম তিন ওভারের মধ্যে বিদায় করে দিলেন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা দুই ইংলিশ ব্যাটসম্যান বেয়ার স্ট্র ও জস বাটলারকে। মাঝে অবশ্য নাসির এসে ফিরিয়ে দিয়েছেন মঈন আলীকে। ২৪তম ওভারে বেয়ার স্ট্র, ২৭তম ওভারে মঈন আলী এবং ২৮তম ওভারে উইকেটে থাকা শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান বাটলারকে হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় সফরকারীরা। লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানরা কেবল হারের ব্যবধান কমিয়েছে। ১০ম উইকেটে আদিল রশিদ ও জেক বলের ৪৫ রানের রোমাঞ্চকর জুটির পরও ইংল্যান্ড অলআউট হয়ে যায় ২০৪ রানে। গতকালের ম্যাচে রীতিমতো চমক দেখিয়েছেন নাসির হোসেনও। ‘দ্য ফিনিশার’ নামের প্রতি সুবিচার করে দলের বিপদের সময় ব্যাট হাতে নেমে খেলেছেন ২৭ বলে ২৭ রানের অপরাজিত ইনিংস। বল হাতেও সফল। ১০ ওভারে এক মেডেন, মাত্র ২৯ রান দিয়ে এক উইকেট। ফিল্ডিংয়ে নেন দুর্দান্ত এক ক্যাচ। অথচ এই নাসির ১৪ সদস্যের দলে থাকলেও অজ্ঞাত কারণে একাদশে সুযোগ পাচ্ছিলেন না। গতকাল দুর্দান্ত পারফর্ম করে বুঝিয়ে দিলেন দলে তার উপস্থিতি কতটা অপরিহার্য। লো স্কোরিং ম্যাচে গতকাল ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একমাত্র হাফ সেঞ্চুরিটি করেছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। খেলেছেন ৭৫ রানের নান্দনিক ইনিংস। অ্যাডিলেডে তার সেঞ্চুরিতেই ইংল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়ে ২০১৫ সালে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। গতকাল আরও একবার ব্যাটিং ঝলক দেখালেন মাহমুদুল্লাহ। সিরিজে ফেরার পর অধিনায়ক মাশরাফি বলেন, লো স্কোরিং ম্যাচে আমাদের টার্গেট ছিল ইংল্যান্ডের দ্রুত উইকেট ফেলা। তা আমরা পেরেছি। নিজের পারফরমেন্স নিয়ে বলেন, প্রথম ম্যাচ হারার পর আমার জেদ ছিল, দলের জন্য কিছু একটা করব। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি সফল হয়েছি। তবে ম্যাচ জয়ের পেছনে সবারই অবদান রয়েছে। বুধবার সিরিজ নির্ধারিত ম্যাচে আশা রাখি আমরা জিতব।

up-arrow