Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৪৮
এবার জিয়ার পালা
আলী আজম
এবার জিয়ার পালা

এবার সেই মেজর জিয়ার পালা। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) শীর্ষ সংগঠক, সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত, জঙ্গি হামলার মাস্টারমাইন্ড মেজর জিয়াউল হক ওরফে মেজর জিয়াকে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সম্প্রতি গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার দুই মাস্টারমাইন্ড মেজর জিয়া ও তামিম চৌধুরীকে ধরিয়ে দিতে ২০ লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করে পুলিশ সদর দফতর। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের জঙ্গিবিরোধী অভিযানে তামিম চৌধুরীর মৃত্যু হয়েছে। দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একের পর এক অভিযানে তিন মাস ১০ দিনে ৩৪ জঙ্গি নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১৫ জঙ্গিকে বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। অনেকে আটক, আবার অনেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেও আসছে। যারা এখনো পলাতক তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে মেজর জিয়া, নুরুল ইসলাম মারজান, আবু ইউসুফ বাঙ্গালী, রাজীব গান্ধী, সোহেল মাহফুজ, জোনায়েদ খান, খালেদ, রিপন ও মানিককে খুঁজছে পুলিশ। সূত্র জানায়, ব্লগার, প্রকাশক, মুক্তমনা লেখকসহ অন্তত ৯ জনকে টার্গেট করে হত্যার নেপথ্যে ছিলেন মেজর জিয়া। আরও কয়েকজনকে হত্যা চেষ্টা পরিকল্পনার সঙ্গেও তিনি যুক্ত। গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার পর বেশ কয়েকটি অভিযানে একাধিক জঙ্গি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিহত হয়। মাস্টারমাইন্ড মেজর জিয়াকে ধরতে পারলে আপাতত জঙ্গি কার্যক্রমের ইতি টানা সম্ভব হবে। এদিকে গত শনিবার রাজধানীর ওয়ারীর এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছিলেন, গুলশান হামলার মূল পরিকল্পনাকারী সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া মেজর জিয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে আছে, শিগগিরই তাকে গ্রেফতার করা হবে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতার ঘটনায় জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অনেকে ধরাও পড়েছে। বাকিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, আশপাশের দেশের কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে মেজর জিয়ার যোগাযোগ রয়েছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার পাশাপাশি সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে গুপ্তহত্যাসহ নানা পরিকল্পনার নেপথ্যে রয়েছেন তিনি। গত তিন বছরে তার তত্ত্বাবধানে এবিটির অন্তত আটটি স্লিপার সেল তৈরি হয়েছে। অন্তত ৩০ জন দুর্ধর্ষ ‘স্লিপার কিলার’ জঙ্গি তৈরি করেছেন মেজর জিয়া। তারাই ব্লগার, প্রকাশক, মুক্তমনা ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের হত্যা করেছে। গোয়েন্দারা নিশ্চিত, গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার মাস্টারমাইন্ডদের একজন হলেন এই জিয়া। মূলত সেনাবাহিনীতে একটি ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার পরই ২০১২ সালে আলোচনায় আসেন মেজর জিয়া। অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই মেজর জিয়ার আর কোনো সন্ধান মেলেনি। তাকে ধরতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু আজও মেজর জিয়া রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি সেনা সদর দফতরের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১১ সালের ডিসেম্বরে সেনাবাহিনীর সাবেক ও তৎকালীন কিছু সদস্য দেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে উত্খাত এবং সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালায়। অভ্যুত্থানের পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে মেজর জিয়া অন্যতম।

up-arrow