Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৫১
নতুন আইনটি নিয়ন্ত্রণমূলক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন আইনটি নিয়ন্ত্রণমূলক
ইফতেখারুজ্জামান

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, জাতীয় সংসদে পাস হওয়া বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম)  রেগুলেশন বিল-২০১৬ এর ১৪ নম্বর ধারাটির কারণে দাতারা শঙ্কিত। এনজিও ফোরাম শঙ্কিত।

এটি একটি নিয়ন্ত্রণমূলক আইন। এ আইন পাস হওয়ার পর দাতাসংস্থা আমাদের উদ্বেগ ও আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ১৪ অনুচ্ছেদের খসড়া আইন জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার পর থেকেই দাতাসংস্থা আমাদের উদ্বেগ ও আশঙ্কার কথা জানিয়ে আসছে। তিনি বলেন, দাতাসংস্থা জানিয়েছে, তারা এ আইন নিয়ে আমাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। তারা চেষ্টা করছে সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার জন্য। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিলের ১৪ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোনো বেসরকারি সংস্থা বা ব্যক্তি সংবিধান ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক বা অশালীন বক্তব্য দিলে বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে এনজিও ব্যুরো সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থা বা এনজিওর নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে। এই বিধান  রেখে সংসদে বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম)  রেগুলেশন বিল-২০১৬ পাস হয়েছে। এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিল সংশোধনের দাবি জানিয়ে বলেন, এ আইন মৌলিক অধিকার খর্ব করার ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। তাই ওই বিলে সম্মতি না দিতে রাষ্ট্রপতির কাছে আহ্বান জানান। আলোচনায় মানবাধিকার নেত্রী ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, বিলের ১৪ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংবিধানে নাগরিক ও সংগঠনের জন্য অনেক অধিকার আছে। এ আইনের মাধ্যমে  সে অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সংসদীয় কমিটি আমাদের সঙ্গে আলোচনায় যে খসড়া আইন নিয়ে বসেছিল,  সেখানে ১৪ ধারা ছিল না। মাদক, নারী ও শিশু পাচারের জন্য আলাদা আইন আছে। সেটি এই আইনে কেন আনা হলো? মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ১৪ ধারায় বলা আছে সংবিধান ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক অশালীন বক্তব্য দিলে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে। এখানে বিদ্বেষ এবং অশালীন বক্তব্যের ব্যাখ্যা কী, তা সুস্পষ্ট নয়। সুতরাং এ আইনের অপব্যাখ্যা হওয়ার আশঙ্কা আছে।

up-arrow