Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:২৯
আবারও হারলেন ট্রাম্প
টিভি বিতর্কে কাদা ছোড়াছুড়ি
প্রতিদিন ডেস্ক
আবারও হারলেন ট্রাম্প
দ্বিতীয় দফা নির্বাচনী বিতর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হিলারি ক্লিনটন —এএফপি

মার্কিন প্রভাবশালী গণমাধ্যম সিএনএনের গতকাল শিরোনাম ছিল ‘সবচেয়ে কদর্য’ বিতর্ক। গতকাল ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দুই প্রধান প্রার্থী রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের দ্বিতীয় মুখোমুখি বিতর্ক।

কিন্তু বিতর্কটিতে মার্কিন ভবিষ্যত্নীতি নির্ধারণ বিষয় প্রাধান্য না পেয়ে বরং ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ টেনে আক্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। যা যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ইতিহাসে ‘সবচেয়ে কদর্য’ বিতর্কের উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। অন্ততপক্ষে সিএনএন এমনটাই বিবেচনা করছে।

আর বিবিসি বলছে, হিলারি এবং ট্রাম্প পরস্পরের প্রতি যেভাবে ব্যক্তিগত বিদ্বেষপূর্ণ এবং আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছেন, সেটি অনেকটা নজিরবিহীন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে হিলারি ক্লিনটনের বিচার করার হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি হিলারিকে তিনি জেলে নেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে নারী নির্যাতনকারী বলে অভিহিত করেছেন। পাল্টা জবাবে হিলারি ক্লিনটন সম্প্রতি প্রকাশিত ট্রাম্পের যৌন রগরগে কথোপকথনের টেপের উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ওই টেপই বলে দেয় ট্রাম্প কে। এ জন্য ট্রাম্প আমেরিকার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। বিতর্কে এমনই ব্যক্তিগত আক্রমণ উঠে এসেছে। তবে বিতর্কের পর সিএনএন-এর মতামত জরিপে হিলারি জয়ী হন। ৫৭ শতাংশ দর্শক হিলারির পক্ষে এবং ৩৪ শতাংশ দর্শক ট্রাম্প জয়ী হয়েছেন বলে মতামত জানিয়েছেন। সরাসরি বিতর্ক দেখেছেন এমন ব্যক্তিরা ওই জরিপে ভোট দেন। অন্যদিকে ইউগভ-এর এক জরিপে হিলারিকে সমর্থন করেছেন শতকরা ৪৭ ভাগ মানুষ। ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন শতকরা ৪২ ভাগ। এর আগে কাকে ভোট দেবেন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি এমন মানুষের কাছেও হিলারির গ্রহণযোগ্যতা বেশি। তাদের শতকরা ৪৪ ভাগ সমর্থন করেছেন হিলারিকে। ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন শতকরা ৪১ ভাগ। কয়েক দশকের প্রথা ভেঙে গতকালের এই দ্বিতীয় বিতর্ক শুরুর আগে পরস্পরের সঙ্গে করমর্দন করতে অস্বীকৃতি জানান আসন্ন দুই প্রার্থীই। তবে ৯০ মিনিটের বিতর্ক শেষে তারা করমর্দন করেন। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বিতর্কে ট্রাম্প স্বভাবজাত বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য করে হিলারির আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। মিসৌরির সেন্ট লুইস ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে এ বিতর্কে ট্রাম্প বলেন, তিনি নির্বাচনে জয়ী হলে হিলারির ই-মেইল কেলেঙ্কারির বিষয়ে বিশেষ একজন প্রসিকিউটর নিয়োগ দেবেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আপনার অবশ্যই লজ্জিত হওয়া উচিত। ’ প্রতিক্রিয়ায় হিলারি বলেন, ট্রাম্পের মতো মনমানসিকতার কেউ হোয়াইট হাউসে নেই বলে তিনি স্বস্তিবোধ করছেন। সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনাকে জেলে যেতে হবে। ’

সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এ অবস্থায় আত্মপক্ষ সমর্থনে হিলারির স্বামী সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের যৌন কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ টানার কদর্য পথটিই বেছে নিয়েছেন ট্রাম্প। বিতর্কে বিল ক্লিনটন সম্পর্কে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমারটা কেবল কথা, আর বিল ক্লিনটন তো করে দেখিয়েছেন। ’ আর ওই অডিও তাকে উপস্থাপন করে না বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। ‘কিন্তু আমার ধারণা, যারা এটি শুনেছেন তারা বুঝতে পারছেন, এটি কেবলমাত্র তাকেই উপস্থাপন করে, বলেন হিলারি। ’ তারপর আপত্তিকর মন্তব্যের ওই  টেপকে ‘লকার রুমের কথা’ বলে উড়িয়ে দেন ট্রাম্প। বলেন, নারীদের প্রতি তার যথেষ্ট ‘শ্রদ্ধা’ আছে।

সিএনএন-এর অ্যান্ডারসন কুপার ও এবিসি-র মার্থা রাদাটজ বিতর্ক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বিতর্কে হিলারি কথা বলার সময় নানাভাবে তাকে বিরক্ত করে গেছেন ট্রাম্প। প্রথম বিতর্কের তুলনায় গতকাল দ্রুত মেজাজ হারান ট্রাম্প। বিতর্ক চলাকালে ট্রাম্প যেন নিজেকে এক স্থানে স্থির রাখতে পারছিলেন না। হিলারি যখনই কথা বলতে শুরু করেন প্রথম বিতর্কের মতো এ দিনও তিনি তাকে বার বার কথার মাঝে বাধা দেন। হিলারি যখনই কথা বলেন তখন ট্রাম্প নিজে স্থির থাকতে পারেন না। তিনি হাঁটতে থাকেন। অনেক সময় হিলারি যখন কথা বলেছেন, তার দিকে ক্যামেরা তাক করা, হাঁটতে হাঁটতে তিনি ক্যামেরা শটের ভিতর চলে আসেন। এ সময় সরাসরি সম্প্রচারে থাকা সিএনএনকে দুই প্রার্থীকে আলাদা করে দেখাতে বেশ বেগ পেতে হয়। হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে যখন ই-মেইল ইস্যুতে উত্তপ্ত বিতর্ক চলছে তখন ট্রাম্প এক পর্যায়ে তার ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। এ নিয়ে উপস্থাপিকা রাদাটজ কেন প্রশ্ন করছেন এ জন্য তাকে অভিযুক্ত করেন। তিনি উপস্থাপক-উপস্থাপিকাদের অবমাননা করে বক্তব্য রাখেন। বলেন, তারা হিলারির প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছেন। এ সময় ট্রাম্প বিরক্তি ভরা কণ্ঠে বলেন, ‘খুব ভালো’। একজনই তিনজনের মুখোমুখি। অর্থাং তিনি এ সময় হিলারির পক্ষে দুই উপস্থাপক-উপস্থাপিকাকে যোগ দাঁড় করিয়ে দিয়ে তাদের সংখ্যা তিন বলে উল্লেখ করেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প কয়েকজন নারীকে সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করেন। এসব নারী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন। তার এমন কাণ্ডকে সিএনএন লিখেছে, ‘সারপ্রাইজ’। ওই সব নারী পরে দর্শকসারিতে বসে পড়েন।

বিতর্কের একপর্যায়ে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কথা হয়। হিলারি বলেন, রিপাবলিকানদের সঙ্গে তার নীতির পার্থক্য রয়েছে। হিলারি ক্লিনটন বলেন, আমি কখনই তাদের (রিপাবলিকানদের) যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলিনি। কিন্তু এক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প আলাদা। একপর্যায়ে নিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মাইক পেন্সকে একহাত নিতে ছাড়েননি ট্রাম্প। গত সপ্তাহে পেন্স ভাইস প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে বলেছিলেন, আলেপ্পোকে মুক্ত করতে সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত যুক্তরাষ্ট্রের। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, এ নিয়ে পেন্স ও আমি কথা বলিনি। আমি তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করি। ট্রাম্পের অশালীন ভিডিও প্রকাশের পর এর নিন্দা জানিয়েছেন মাইক পেন্স।

বিতর্ক চলাকালেই সিএনএন জানায়, প্রথম বিতর্কে পিছিয়ে থাকার পর রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের জন্য ফিরে আসার বড় সুযোগ ছিল এই বিতর্ক। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া ভিডিও  টেপে নারীদের অসম্মান এবং শরণার্থী ও মুসলমানদের বিষয়ে অবস্থান নিয়ে পুনরায় পিছু হটতে হয় ট্রাম্পকে। উল্টো তিনি হিলারিকে নানা অশালীন ভাষায় আক্রমণ করেন। স্বভাবসুলভ বিনয় দিয়ে তা এড়িয়ে যান হিলারি, যা ভোটারদের মধ্যে তার অবস্থান পোক্ত করেছে বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

হিলারিকে কারাগারে পাঠাব— ট্রাম্প : বিতর্কে ট্রাম্প বলেন, ই-মেইল কেলেঙ্কারির জন্য হিলারির কারাগারে থাকা উচিত। নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি হিলারির বিষয়ে তদন্ত চালাতে একজন স্পেশাল প্রসিকিউটর নিয়োগ দেবেন। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের জবাবে হিলারি বলেন, ট্রাম্প যা বলেছেন সেটা একেবারেই মিথ্যা। এতে আমি বিস্মিত হইনি। এটা বরং খুবই ভালো হয়েছে যে, ট্রাম্পের মতো একজন বদমেজাজি লোক আমাদের দেশের কর্তা হতে পারেন না। হিলারির এমন বক্তব্যের মাঝপথেই ফের হিলারিকে জেলে পাঠানো উচিত বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow