Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৩০
জিনপিংয়ের সফরকে চীনও বলছে মাইলফলক
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
জিনপিংয়ের সফরকে চীনও বলছে মাইলফলক

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘মাইলফলক’ স্থাপন করবে বলে মনে করছে বেইজিং। গতকাল চীনা প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ মন্তব্য করেছে। ঘোষণা অনুসারে, ১৪ অক্টোবর দুই দিনের সফরে ঢাকা আসবেন শি জিনপিং। গত ৩০ বছরের মধ্যে এটাই চীনের কোনো প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ আসা। সে কারণে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এ সফর হবে ঐতিহাসিক। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে আসবে নতুন মাত্রা।

ঢাকা ও বেইজিংয়ের কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্যানুসারে, চীনের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র লু কাং সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে বিবৃতি দেন। বিবৃতি অনুসারে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ১৩ থেকে ১৭ অক্টোবর একসঙ্গে তিনটি দেশ সফর করবেন। প্রথমে রাজা নরোদম সিহামনির আমন্ত্রণে কম্বোডিয়া যাবেন চীনা প্রেসিডেন্ট। এরপর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে আসবেন বাংলাদেশে। পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে ভারত সফর করে বেইজিংয়ে ফিরবেন চীনা প্রেসিডেন্ট। গতকাল বিকালে বেইজিংয়ে সংবাদ সম্মেলনে চীনের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কং জুয়াইন বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফর হবে মাইলফলক। এ সময় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হবে।’ একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট লি বাদং বলেছেন, ‘ঢাকা সফরে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ১৯৮৬ সালে ঢাকা সফর করেছিলেন চীনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়ানজিয়াং। এর ৩০ বছর পর আসছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট। স্বভাবতই এ সফর ঐতিহাসিক। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ২০১৪ সালে ঢাকা সফর করে গেছেন। একই বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বেইজিং সফর করেন। সেই সফরে দুই দেশ ‘সহযোগিতার জন্য নিবিড় সমন্বিত অংশীদারিত্ব’ প্রতিষ্ঠায় রাজি হয়। সে সময় চীনের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান শেখ হাসিনা। পরে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের তরফে প্রেসিডেন্ট শিং জিনপিং বরাবর আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়। এখন বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪০ বছর পূর্তিতে আসছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। এ সফরে বাংলাদেশের ২৫টি প্রকল্পে প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকার অর্থায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে। প্রস্তুতি চলছে ২০টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি সইয়ের। এর অর্ধেক প্রকল্পসংক্রান্ত এবং বাকিগুলো নীতিবিষয়ক। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে ব্যাপক বাণিজ্য-বৈষম্য কমাতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া চীনের ঋণের সুদের হার ২ শতাংশ থেকে দেড় শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়টি তুলবে বাংলাদেশ।

ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, দুই দিনের আনুষ্ঠানিক সফর হলেও দৈর্ঘ্যের হিসেবে এটি ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের হবে। জিনপিং ১৪ অক্টোবর দুপুরের আগে আগে ঢাকা এসে পৌঁছাছেন। পরদিন সকালে তিনি ভারতের গোয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ঢাকায় আসবেন গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও ১০০ জনের প্রতিনিধি দল। চীনা প্রেসিডেন্টের কর্মসূচির বিষয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরে সর্বোচ্চ সম্মান জানাবে বাংলাদেশ। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে নিয়ে চীনের বিমানটি বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তাকে সর্বোচ্চ সম্মান জানানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। বিমানবন্দরে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। সেখানে লাল গালিচা সংবর্ধনা, গার্ড অব অনার ও তোপধ্বনির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানানো হবে। অতিথি প্রেসিডেন্ট সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু জাদুঘর, বঙ্গভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাবেন। ভিভিআইপি এ সফরের জন্য থাকছে এই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা। চীনের প্রেসিডেন্টকে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যাবেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে সে দেশে ব্রিকস ও বিমসটেকের ১১ দেশের শীর্ষ নেতাদের বিশেষ বৈঠক হতে যাচ্ছে। এতে যোগ দিচ্ছেন ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফিকা, বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow