Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:০৫
ডিবি পরিচয়ে অপহরণ
রংপুরে তিনজনই ফিরল গুলিবিদ্ধ লাশ হয়ে
শাহজাদা মিয়া আজাদ, রংপুর

রংপুরে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে অপহূতদের অধিকাংশই আর ফিরে আসে না। মাস যায়, বছর যায় সন্ধান মেলে না তাদের।

এই অপহরণের সঙ্গে কারা যুক্ত সে বিষয়টিও রহস্যাবৃত্ত। দায় স্বীকার করে না ডিবি পুলিশ। অপহূতদের সন্ধান চেয়ে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও সন্ধানের উদ্যোগও নেওয়া হয় না। আসলে অপহূতরা জীবিত আছে কিনা মেরে ফেলা হয়েছে এমন উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্বজনদের। স্বজনদের দাবি, তারা অপরাধী হলে তাদের আইনের আওতায় নেওয়া হোক। কিন্তু তাদের সন্ধান তো দিতে হবে। ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ শিক্ষার্থীসহ আটজনকে সাদা পোশাকে ডিবি পরিচয়ে অপহরণ করা হয়। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায় তিনজনের। অন্য পাঁচজনের সন্ধান মেলেনি আজও। অপহরণের পর সবার পরিবার থানায় জিডি করে। পুলিশ একজনেরও সন্ধান দিতে পারেনি। জানতে চাইলে রংপুর ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ডিবি পুলিশ এসব অপহরণের সঙ্গে জড়িত নয়। ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ করা হতে পারে। কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল ইসলাম বলেন, অপহূতদের স্বজনরা জিডি করেছে। সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি। রংপুর নার্সিং কলেজের তত্ত্বাবধায়ক পরিবানু জানান, কলেজের ইন্টার্ন নার্স রাজিয়া সুলতানাকে (২৪) গত ২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসের ১৪ নম্বর কোয়ার্টার থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরদিন কোতোয়ালি থানায় জিডি করা হলেও এখন পর্যন্ত তার সন্ধান মেলেনি। ৬ জুন রাতে নগরীর দক্ষিণ কামাল কাছনা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে সফটওয়্যার প্রকৌশলী আশফাকিয়া আজম আপেলকে (২৫) অপহরণ করা হয়। আপেলের বড়ভাই আখতার হারুন জানান, অপহরণকারীরা ডিবি পুলিশের পরিচয় দেয়। জিজ্ঞাসাবাদ করে ফিরে দেওয়ারও আশ্বাস দেয় তারা। থানায় জিডি করার পাশাপাশি র‌্যাব, পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেও কোনো ফল হচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, আমার ভাই অপরাধী হলে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে বিচার করা হোক। কিন্তু তার সন্ধান তো দিতে হবে। ১১ এপ্রিল গভীর রাতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রথমবর্ষের ছাত্র আবদুল্লাহ আল মামুনকে স্থানীয় সর্দারপাড়া এলাকায় মোসলেমীন ছাত্রাবাস থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একদল সাদা পোশাকধারী। মামুনের বড়ভাই কলেজ শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব শাখায় আবেদন করেও মামুনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এর আগে ২০১৪ সালের ২০ মার্চ দুপুরে নগরীর ধাপ ইসলামবাগ এলাকার আইডিয়াল মোড় থেকে নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জিলানী ফুয়াদ ও একই ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য রিপন মিয়া অপহূত হন। পরিবারের অভিযোগ, একদল সাদা পোশাকধারী ডিবি পরিচয়ে তাদের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তবে অপহরণের কয়েকদিন পর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্রাহাম লিংকন, একাধিক মামলার আসামি টোকাই শাকিল ও নজমুল হক নজুর গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow