Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:০৭
আকাশসীমায় প্রবেশের পরপরই শুরু সম্মাননা
কূটনৈতিক প্রতিবেদক

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ২২ ঘণ্টার সফরের জন্য প্রস্তুত ঢাকা। ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে সব প্রস্তুতি। ঢাকাকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল রূপে। নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রস্তুতি। চীনের আগ্রহ বিবেচনায় কর্মসূচিগুলোতে রাখা হয়েছে লম্বা বিরতি। তবে সবকিছুতেই থাকছে বাংলাদেশ ও চীনের সংস্কৃতির সম্মিলিত প্রতিচ্ছবি। আর ঘাটতি থাকছে না ন্যূনতম আতিথেয়তায়। এর শুরু হবে আকাশে। চীনের প্রেসিডেন্টেকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হবে অভিবাদন। চীনের বিশেষ বিমানটিকে প্রটোকল দিয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত নিয়ে আসবেন বিমানবাহিনীর সুসজ্জিত যুদ্ধবিমানের পাইলটরা। রাষ্ট্রীয় সফরসূচি অনুসারে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আজ বেলা সাড়ে ১১টায় বিশেষ বিমানযোগে কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেন থেকে ঢাকা এসে পৌঁছবেন। তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশের আকাশসীমায় পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে বিমানবাহিনীর তিনটি জেট বিমান অভ্যর্থনা দিয়ে নিয়ে আসবে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে তাকে স্বাগত জানাবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। বিমানবন্দরে লালগালিচা সংবর্ধনার পাশাপাশি থাকবে গার্ড অব অনার, ২১ বার তোপধ্বনি ও ফুল দিয়ে বরণ। পরে বিমানবন্দর থেকে চীনা প্রেসিডেন্ট সরাসরি যাবেন হোটেল লা মেরিডিয়ানে। বেলা ৩টায় তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করবেন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। এরপর সেখানেই দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতাবিষয়ক চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হবে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শি জিনপিং যাবেন বঙ্গভবনে। সেখানে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তিনি। সন্ধ্যা ৭টায় চীনা রাষ্ট্রপতির সম্মানে রাষ্ট্রীয় ভোজ অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন সকালে চীনা রাষ্ট্রপতি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি সম্মান জানাবেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি ভারতের পর্যটননগরী গোয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। গোয়ায় ব্রিকস ও বিমসটেকের যৌথ সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিদায়পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ব্রিকস ও বিমসটেকের যৌথ সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

জিনপিংয়ের সফর হাসিনার প্রতি আন্তর্জাতিক নেতাদের আস্থার প্রতীক : চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফর ঢাকা-বেইজিং বন্ধুত্বের স্মারক ও দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথে এক ঐতিহাসিক নবযাত্রার সূচনা করবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তিনি বলেন, শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক নেতাদের আস্থার প্রতীক। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর উপলক্ষে গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের অভূতপূর্ব সাফল্য এবং প্রধানমন্ত্রীর সুদৃঢ় নেতৃত্বে চীনের নেতাদের ভূয়সী প্রশংসা ও গভীর আস্থা অর্জন করেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে এগিয়ে এসেছে। বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপের ফলে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিরাজমান সম্পর্কগুলোকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ  দেওয়ার অংশ হিসেবে ৩০ বছর পর এটাই চীনের কোনো  প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী বলেন, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে চীনের প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ২৫টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এ চুক্তিগুলো স্বাক্ষরের ফলে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ভৌত অবকাঠামো সড়ক-সেতু, রেল যোগাযোগ ও জলপথ যোগাযোগ, কৃষিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর হবে। একই সঙ্গে এ চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সমুদ্রসম্পদসহ দুর্যোগ মোকাবিলা, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র সংযোজিত হবে। তিনি বলেন, চার দশক ধরে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও যোগাযোগ অবকাঠামো বিনির্মাণে চীনের ভূমিকা অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এ ছাড়া তিনি দুই দেশের মধ্যকার চুক্তি সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। চীনের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে আপ্যায়ন করবেন।

শি জিনপিং-খালেদা বৈঠক আজ বিকালে : চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ বিকাল ৫টায় হোটেল লা ম্যারিডিয়ামে এ সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিকাল ৫টায় দুই নেতার মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।’ মারুফ কামাল আরও জানান, ‘১৯৭৬ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে গোড়াপত্তন হয়। চীনা প্রেসিডেন্টের এ সফরকে বিএনপি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি-প্রধান হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে স্বাগত জানাবেন।’ জানা যায়, খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি প্রতিনিধি দল থাকবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, লে. জেনারেল মাহবুবুর রহমান (অব.), নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান বৈঠকে থাকবেন। এ প্রসঙ্গে লে. জেনারেল মাহবুবুর রহমান (অব.) বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ‘চীন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। অতীতে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের একাধিকবার সাক্ষাৎ হয়েছে। সর্বশেষ বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে বেগম জিয়া চীন সফরকালে সে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্টসহ কমিউনিস্ট পার্টির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায় বিএনপি। বাংলাদেশের বিভিন্ন অবকাঠামো বিনির্মাণে চীনের সহযোগিতা ও খনিজ-জ্বালানি খাতে যে বিনিয়োগ জিয়াউর রহমানের আমলে শুরু হয়, তা বেগম খালেদা জিয়ার আমলে আরও সম্প্রসারিত হয়।’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow