Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:০৮
জঙ্গি সাইফুরের লাশ নেবে না পরিবার
‘কুলাঙ্গার ছেলের মুখও দেখতে চাই না’
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

গাজীপুরের মাতারটেকে পুলিশের অভিযানে নিহত জঙ্গি সাইফুর রহমান বাবলুর লাশ নেবেন না তার বাবা-মা। বুধবার সকালে ছাতক উপজেলার মুনিরজ্ঞাতি গ্রামের বাড়িতে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তারা এ কথা জানান।

সাইফুরের বাবা বলেন, ‘অনেক খষ্টে গরুর ব্যবসা খরিয়া একমাত্র ফুয়ারে (ছেলেকে) লেখাপড়া খরাইলাম। আশা খরছিলাম হে (সে) একজন বড় চাকরিজীবী অইব। আমার দুর্ভাগ্য আমার ছেলে বিপথে গেলগি। যারা তারে বেপথে নিছে আমি জাতির কাছে তরার বিচার চাই। ’ তিনি আরও বলেন, ‘এই কুলাঙ্গার ছেলের মুখ আমি দেখতাম চাই না। আমি তার লাশ আনতেও যাইতাম নায়। ’ মা হুসনে আরা বেগম বলেন, ‘বহুত খষ্ট করিয়া তারে লেখাপড়া খরাইয়া ছোট থাকি বড় খরছি। যারা তারে জঙ্গি বানাইছে তারার বিচার চাই আমি। যাতে আর কোনো মার ইলাখান (এমন) খষ্টর মুখামুখি অওয়া না লাগে। ’ তিনিও জানান, তার ছেলে দেশের শত্রু, তারও শত্রু। এমন ছেলের মুখ দেখতে চান না তিনি। আলাপ করে জানা গেছে, সাইফুরের মায়ের স্বপ্ন ছিল ছেলে লেখাপড়া করে প্যারামেডিক হবে। সেই লক্ষ্যে প্রাইভেট কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ছেলেকে উচ্চমাধ্যমিকে লেখাপড়া করান। সাইফুরের শিক্ষক ও পীরপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দরিদ্র ঘরের মেধাবী ছেলে ছিল সাইফুর। মাধ্যমিকে এ গ্রেড পায়। অত্যন্ত ভালো ছেলে হিসেবে তাকে জানতাম। কোনো রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত ছিল না। তার মতো একটা ছেলের জঙ্গি হওয়া কিছুতেই কাম্য ছিল না। ’ পরিবারের লোকজন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রস্তুতির কথা বলে সাইফুর দুই-আড়াই মাস আগে বাড়ি থেকে ঢাকায় যায়। এরপর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। গত মঙ্গলবার ছবি দেখে পুলিশকে ছেলের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত করেন তার বাবা ময়না শাহ। তিনি জানান, তার দুই সন্তানের মধ্যে একমাত্র ছেলে সাইফুর। ২০১৪ সালে সিলেটের রায়নগর সার্ক ইন্টারন্যাশনাল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে। ওই বছর অনার্সে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নেয়। স্থানীয় পীরপুর হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করে সে। এদিকে সাইফুর তিন মাস নিখোঁজ থাকার তথ্য পুলিশকে না জানানোয় তার বাবা মতিউর রহমান ময়না শাহকে বুধবার বিকালে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি পুলিশ হেফাজতেই ছিলেন। উল্লেখ্য, গত শনিবার গাজীপুর সিটির পাতারটেকে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে সাত জঙ্গি নিহত হয়। পরে পুলিশ তিনজনের পরিচয় প্রকাশ করে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow