Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১২
লিবিয়ায় পাচারের চেষ্টা, শাহ আমানতে আটক ৩৯
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

লিবিয়ায় পাচার চেষ্টার সময় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৩৯ ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ভুয়া ভিসায় অবৈধভাবে এই লিবিয়াগামীদের উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়াদের অধিকাংশই সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার।

র‌্যাব জানিয়েছে, কয়েকজন মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মুন্সীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দাও রয়েছেন। ৩৯ জনের মধ্যে প্রায় সবার বয়স ৩০-এর নিচে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দেশের বিভিন্ন এলাকার ৩০ মানব পাচারকারীর নাম-ঠিকানাও পেয়েছে র‌্যাব। একই সঙ্গে পাওয়া গেছে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত সিলেটের দুটি ট্রাভেল এজেন্সির নাম। জরুরি ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতারের জন্য র‌্যাবের সব জোনে তালিকা পাঠানো হয়েছে। গতকাল বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন এ তথ্য জানান। মিফতাহ উদ্দিন বলেন, লিবিয়া পাচারকালে উদ্ধার হওয়া ৩৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ৩০ জন দালালের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে। তা ছাড়া সিলেটের আল মামুন ট্রাভেলসের মালিক মো. মামুন এবং শামীম ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলসের মালিক আদনান আনসারীও এই পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। মানব পাচারকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের কোনো ট্রাভেল এজেন্সি কিংবা দালাল এই কাজের সঙ্গে যুক্ত আছে কিনা- সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আরও বলেন, সিলেটের যারা বাসিন্দা তাদের অধিকাংশকে লিবিয়া হয়ে ইতালি নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। বাকিদের লিবিয়া নিয়ে যাওয়ার জন্য জড়ো করা হয়েছিল। ৩৯ জনের মধ্যে ১৯ জন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগের অনুমতি পেয়েছিলেন। কিন্তু গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভুয়া ভিসার বিষয়টি জানতে পেরে তাদের বিমানে ওঠার আগে আটকাতে সক্ষম হন র‌্যাব কর্মকর্তারা। ২০ জনকে বিমানবন্দরে প্রবেশের আগে আটকানো হয়। তবে ২১ জন ভুয়া ভিসা নিয়ে লিবিয়া চলে যেতে সক্ষম হয়। তিনি বলেন, ‘তাদের চট্টগ্রাম থেকে দুবাই হয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুল অথবা আঙ্কারায় নিয়ে যাওয়া হতো। তারপর সেখান থেকে লিবিয়ার ত্রিপোলিতে নিয়ে যাওয়া হতো। লিবিয়া বিমানবন্দর থেকে দালাল সাদিক ও মোজাম্মেল তাদের নিজের জিম্মায় নিয়ে যেত। এরপর চলত টাকা আদায়ের জন্য নির্যাতন। ’ 

মিফতাহ আরও বলেন, লিবিয়া যাওয়ার জন্য এরা ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার জন্য সাড়ে ৪ লাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। তবে ৩৯ জনের মধ্যে শুধু একজন এক লাখ টাকা, আরেকজন ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম দেয়। বাকিদের লিবিয়া পৌঁছানোর পর টাকা দেওয়ার কথা ছিল। বিভিন্ন এলাকা থেকে এদের ৮-১০ জন করে মাইক্রোবাসে এনে ঢাকার ফকিরাপুলে বিভিন্ন হোটেলে রাখা হয়েছিল। এরপর বাসে করে চট্টগ্রাম নগরীতে এনে অলংকার মোড়ে হোটেলে রাখা হয়। অপরিচিত কয়েকজন লোক এসে তাদের পাসপোর্ট-ভিসা দিয়ে যায়। রাতেই তাদের বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। দুবাইগামী এয়ার এরাবিয়ার দুটি বিমানে করে বুধবার রাতে ৭০ জন করে ১৪০ জনের চট্টগ্রাম ত্যাগের কথা ছিল। কিন্তু অভিযানের খবর পেয়ে সবাই বিমানবন্দরে আসেনি।  

অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা দেওয়া সিলেটের কুলাউড়ার হাশিম বলেন, ‘স্থানীয় দালাল ওহাবের সঙ্গে ইতালি যাওয়ার জন্য সাড়ে ৪ লাখ টাকা চূড়ান্ত করি। কিন্তু কয়েক দিন আগে হাশিম এসে বলেন, সরাসরি ইতালি যাওয়া যাবে না। লিবিয়া হয়ে যেতে হবে। এ জন্য চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে যেতে হবে। ’ ওহাবের ভাইও একইভাবে ইতালি গেছে জানতে পেরে হাশিম এই পথ বেছে নেয় বলে তিনি জানান।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow